ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কুখ্যাত খুনী লক্ষীপুরের বিপ্লবের ফাঁসির দন্ড,মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘ক্ষমাহীন ক্ষমা’ ঘোষনা প্রসঙ্গে,বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের ব্যাখ্যা -“ রাষ্ট্রপতি বিপ্লবকে ক্ষমা করে কোনো অন্যায় করেননি। তিনি কেবল সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন। যেকোনো বিষয়ে নথি গেলে তাতে রাষ্ট্রপতির সই করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সুতরাং রাষ্ট্রপতি নন, যাঁরা রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে এসব করাচ্ছেন তাঁদের সমালোচনা করতে হবে”। বাবু সুরঞ্জিত একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক এবং আইনজ্ঞ।কিন্ত তার এই ব্যাখ্যাটি দেশের মানুষের কাছে গ্রহণীয় হবেনা।

কেননা কাউকে ক্ষমা করে দেয়ার অধিকার,একান্তই মাননীয় রাষ্ট্রপতির নিজস্ব বিবেকের ব্যাপার। সাংবিধানিক অন্য অধিকারের সাথে এটাকে একাকার বোধ হয় করা যায়না।এখানে মাননীয় রাষ্ট্রপতির নিজের বিবেক-বিবেচনায় একমত পোষন নাও করতে পারতেন,এবং সে ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত কিন্ত পাঠাতে পারতেন। এর আগেও,নাটোরের কয়েক খুনীর ফাঁসির দন্ড এবং সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর ছেলের সাজা মওকুফ করে দেয়ার ব্যাপারটিও,রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অধিকারের যথাযথ ব্যবহার বলে মনে করার যুক্তি খুবই ক্ষীণ। যা রাষ্ট্রপতির মতো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।

এতে করে দেশের মানুষের মনে করার যথেষ্ট ক্ষেত্র সৃষ্টি করলেন যে,তিনি শেখ হাসিনার সেই আগের জিল্লুর রহমানই রয়ে গেলেন,পুরোপুরি রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান হয়ে উঠতে পারলেননা। খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রপতি ইয়াজুদ্দিনের মতো,শেখ হাসিনার রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানই রয়ে গেলেন,দেশের মানুষের রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠতে পারলেননা,এমনকি আওয়ামীলীগের রাষ্ট্রপতিও না।

আসলে শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রপতি না হয়ে,দেশের মানুষের রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠার জন্য,যে মেরুদণ্ডের দরকার,সে মেরুদন্ড অন্ততঃ কিছুটাও যাদের আছে,তারা কোনোদিনই দেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না। হাসিনা-খালেদা কোনোদিনই তাদের রাষ্ট্রপতির আসনে বসাবেন না। আর সরকারে ও দলে একক সর্বেসর্বা হাসিনা-খালেদার মর্জি ছাড়া রাষ্ট্রপ্রতি তো দূরের কথা,মন্ত্রী-নেতা হওয়ার কল্পনা করার ও কোন পথ আপাতত নাই।সুতরাং এই সূত্রে বলা যায় ফাঁসির দন্ড মওকুফ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান করেন নাই, প্রকৃতপক্ষে করেছেন শেখ হাসিনা স্বয়ং।যা পরিস্কার বুঝা গেছে আওয়ামীলীগের দলৗয় এক সভায়।যেখানে শেখ হাসিনা,মোঃ নাসিমের মতো নেতাকে,এ প্রাসঙ্গিক সমালোচনার জন্য অসমীচীন ভাবে তিরস্কার করেন এবং রাষ্ট্রপতির এহেন ‘ক্ষমাহীন ক্ষমার’ পক্ষে দাঁড়ান।