ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

Khaleda-Birth+day

১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। অন্যরকম তাৎপর্যে পালিত হলো এবারের ১৫ আগষ্ট। গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরন করলো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

কিন্ত বরাবরের মতোই জাতির এই শোকের মিছিলে দেখা যায় নাই ‘৭১ এর পরাজিত শক্তি এবং তাদের দোসর খালেদা জিয়াদের।দেখা যায়নাই বিএনপি ঘরানার চিন্হিত মহল বিশেষের।তবে বরাবরের মতোই এবারো যথারিতি ৬৭ কেজি ওজনের কেক কেটে খালেদা জিয়ার ‘১৬ তম’ ভূয়া জন্মদিনের উৎসব পালন করা হয়েছে। ‘১৬ তম’ বলা হলো এ কারনে যে, ১৫ আগষ্ট আসলে খালেদা জিয়ার জন্মদিন নয়। তার(খালেদার) স্কুল এবং মেট্রিক পরীক্ষার রেকর্ড, ১৯৯১ সালে তার নির্বাচন প্রার্থিতা ফরম এবং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেয়ার পর সরকারিভাবে প্রকাশিত তার জীবন বৃত্তান্ত,এর কোনটাতেই খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৫ আগষ্ট নয়।সুদীর্ঘ কাল পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে,সরকারিভাবে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোকদিবস হিসাবে পালন করার ঘোষনা করলে, পালটা হিসাবে খালেদা জিয়াও ১৫ আগস্টকে তার জন্মদিন ঘোষনা করেন এবং এই দিনে তার জন্মদিনের উৎসব পালন করার রেওয়াজ চালু করেন। ১৫ আগষ্ট তার জন্মদিন না হলেও,তিনি তা করেন এক হীনমতলবে,মনে হয় হীন বিদ্বেষী মহলবিশেষের কুপরামর্শে,১৫ আগষ্টের জাতীয় শোক কে বিদ্রুপ-কটাক্ষ এবং কিছুটা হলেও খাটো করার কুমতলবে। কোন আলোকিত মানূষের দেশে হলে,এই একটি মাত্র কারনেই খালেদা জিয়া রাজনীতির আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতেন। ১৯৯৬ আগ পর্যন্ত, ’১৫ আগষ্ট’ খালেদা জিয়ার জন্মদিন ছিলোনা,এই ভূয়া জন্মদিনের সূচনা করা হয় ১৯৯৬ সালে। তাই ইহাকে বলা যায় খালেদা জিয়ার ’১৬ তম ভুয়া জন্মদিন’।

শুধু খলেদা জিয়ারাই নয়, জাতীয় এই শোকের মিছিলে বা টিভির পর্দায় বা পত্রিকার পাতায় কোথাও দেখা মিলে নাই তথাকথিত নিরপেক্ষতার তকমা ধারনকারি একদল পন্ডিত জনদের কাউকেও।যাদের অনেকেই ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যমে “টক শো তারকা” হিসাবে খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করছেন।যথারীতি তাদের মূখে কুলুপ আঁটা খলেদা জিয়ার ভূয়া জন্মদিনের উৎসব প্রসঙ্গেও।কেননা তারা যে নিরপেক্ষ।এই মানূষগুলিকে যখন দেখা যায় টিভির পর্দায় কিংবা পত্রিকার পাতায়,হাসিনা-খালেদা দুই নেত্রীর একত্রে বসা নিয়ে,এক হওয়া নিয়ে ,গলদঘর্ম হয়ে হা হুতাশ করতে,তখন তাদেরকে বলতে ইচ্ছা হয়ঃ-

“আপনাদের মনে করার কোন কারন নেই যে ১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন।কেননা বিভিন্ন সূত্রে খলেদা জিয়ার আসল জন্মদিন(১৯৯৬ পুর্বে রেকর্ডকৃ্ত,কথিতও প্রচারিত) আপনারা খুব ভালো করেই জানেন।এমতাবস্থায় খালেদা জিয়াকে আপনারা কোন দিন কি বলেছেন যে “জাতির এমনতর এক শোকের দিনে বন্ধ করুন আপনার(খালেদার)এই কুমতলবী ভূয়া জন্মদিনের উৎসব পালন”।অথবা এমন একটি হীন কর্মের কারনে খালেদা জিয়ার প্রতি কোনদিন করেছেন কি একটু নিন্দা প্রকাশ? করেন নাই। সৎসাহসী এই সত্যি কথাটা কোনদিন উচ্চারন করেন নাই তথাকথিত নিরপেক্ষতায় আঁচর লাগবে বলে।

এখন আপনাদেরকে যদি প্রস্ন করি-আপনি বা আপনারা যদি শেখ হাসিনার জায়গায় থাকতেন,আর দূধের শিশু,অন্তঃসত্তা বধু সহ সপরিবারে আপনার বাবার এমনতর মর্মান্তিকতার এক সাগর চাপা শোকের দিনের,মর্মবেদনাকে বিদ্রুপ-কটাক্ষ করার জন্য, নোংরা ও হীনমতলবে,কেউ যদি তার তৈরী করা ভূয়া জন্মদিনের কেক কেটে,উৎসব-উল্লাস করতো-তাহলে আপনি বা আপনারা কি করতেন?ভুয়া জন্মদিনের উল্লাস পালন কারিকে কি কোনদিন ক্ষমা করতে পারতেন?নাকি সাজুগুজু করে তার সাথে একত্রে বসে গলায় গলায় ভাব করতে পারতেন?

শুধু কি তাই এমন একটি বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিচারে সমগ্র জাতি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অভিনন্দন জানালেও,এব্যাপারে খালেদা জিয়ার কঠে টু শব্দটিও উচ্চারিত হয় নাই। বরং ১৫ আগষ্টের বর্বর খূনীদের বিচারে খালেদা জিয়ার অন্তর্জ্বালায় দগ্ধ হওয়ার কথাই জানা গেছে নানা আভাষ ইঙ্গিতে। (৭৫ থেকে আরম্ভ করে কাটা ঘায়ে লবন দেয়ার মতো আরো অনেক অনেক কিছুর কথা না হয় বাদই দেয়া হলো।)এই সব ভুলে গিয়ে এমন এক খালেদার সাথে,এমন এক শেখ হাসিনার স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া সহজ ব্যাপার নয়।

বলা হয় ভারতের সোনিয়া-বাজপেয়ীর কথা,ম্যান্ডেলা-ডি ক্লার্কের কথা,ওবামা-হিলারীর পারস্পরিক সম্পর্কের কথা।কিন্ত মনে রাখা দরকার, তারা কেউই তাদের প্রতিপক্ষের বাবার শাহাদত দিবসের মর্মান্তিকতার শোকের পালটা হিসাবে ভুয়া জন্মদিনের কেক কেটে উল্লাস করেনা।

প্রসঙ্গক্রমে সংবিধানের কথা এসে যায়। পঞ্চদশ সংশোধনীতে জাতির পিতার স্বীকৃতি,স্বাধীনতার ঘোষনা,৭ মার্চের ভাষন ইত্যাদি কতগুলি ব্যাপার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এগুলির রক্ষাকবচ হিসাবে অনুচ্ছেদ ‘৭ এর ক’ করা হয়েছে।এই অনুচ্ছেদ ‘৭ এর ক’ “গনতন্ত্র পরিপন্থি,বাকস্বাধীনতা বিরোধী” মর্মে উল্লেখিত তথাকথিত নিরপেক্ষ জনদের সমালোচনার অন্ত নাই। কিন্ত মনে রাখা দরকার,আমাদের স্বাধীনতা,মুক্তিযুদ্ধ,পতাকা,জাতির পিতা,স্বাধীনতার ঘোষনা,৭ মার্চের ভাষন, জয়বাংলা শ্লোগান মুজিবনগর সরকার,ইত্যাদি এমন কিছু ব্যাপার আছে,যেখানে কোন বিতর্ক বা বাকস্বাধীনতার কোনো অবকাশ নাই,কোন নিরপেক্ষতা বা কোন প্রশ্ন নাই।

ভবিষ্যতে কোন অপশক্তি যাতে করে,ক্ষমতার দাপটে জাতির অবিতর্কিত এই ব্যাপার গুলি সব তছনছ করেনা দিতে পারে,জাতির পিতা,স্বাধীনতার ঘোষনা,জাতীয় শোক দিবস ইত্যাদি সব উলট পালট করে দিয়ে জাতির মর্মমূলে আঘাত দিতে না পারে,সে জন্য রক্ষাকবচ হিসাবে ‘৭ এর ক’ যথার্থই বটে।যে দেশে জাতির পিতার প্রতি সন্মান প্রদর্শনের জন্য আইন করতে হয়,সে দেশের জাতীয় অনেক কিছু্র গার্ড হিসাবে ‘৭ এর ক’ এর মতো রক্ষাকবচের দরকার আছে বৈ কি।