ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নিজের অজান্তে হলেও একটি সত্য উচ্চারণ করেছিলেন জনাব মওদুদ আহমেদ।এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাথে জিয়াউর রহমানের কোন তুলনা মানায় না।বঙ্গবন্ধুর অবস্থান জিয়ার অনেক উপরে”।জনাব মওদুদ সমন্ধে যত কথাই বলা যাক না কেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জিয়ার মূল্যায়নে তিনি দিবালোকের মতো সঠিক কথাটাই বলেছিলেন।জনাব মওদুদের মতো জাতীয় ব্যক্তিত্বরা,যারা দেশ ও জাতির কাছ থেকে অনেক কিছুই পেয়েছেন,আর কিছু চাওয়া-পাওয়ার চিন্তা না করলেও পারেন,তারা অন্তত অত্যন্ত দৃঢ়তা ও বলিষ্ঠতার সহিত এমন কিছু সত্য উচ্চারণ করেতে পারেন।এমন।নানান স্বার্থচিন্তার কারনে যা অনেকেই করেন না। করেন না আমাদের একদল তথাকথিত নিরপেক্ষতার লেবাসধারী সুশীল-পণ্ডিতেরাও।এমন একটি কাজই করেছিলেন জনাব মওদুদ।কিন্ত দুঃখের বিষয়,তিনি তা ধরে রাখতে পারলেননা।স্বার্থচিন্তার কাছে আবারো মাথা নুইয়ে দিলেন।

এ প্রসঙ্গে বিএন পি’র অনেক নেতা- কর্মীদের অবস্থা হলো “উচিৎ কথায় বন্ধু বেজার আর গরম ভাতে বিড়াল বেজার”এর মতো।আসলে আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার অবস্থান,সফিউল্লাহ-খালেদ মোশাররফদের কাতারে। জেঃ ওসমানী- করিম খোন্দকারের পিছনের সারিতে। শেখ মুজিব তো দূরের কথা, তাজউদ্দিন, সৈয়দ নজরুল প্রমূখ এমনকি রাজ্জাক-তোফায়েল,রব-সিরাজ,সিদ্দিকী-মাখন প্রমূখরাও ছিলেন তার(জিয়ার) সামনের কাতারে। স্বাধীনতার পর জিয়া ছিলেন সেনাবাহিনীর উপ- প্রধান। এর পর ৭৫’ পরবর্তী জিয়ার কাতার হলো আইয়ূব-ইয়াহিয়া-এরশাদের কাতার।সে এক ভিন্ন কাতার।যাকে শেখ মুজিব বা রাজ্জাক-তোফায়েলদের কাতারে টেনে আনার কোন অবকাশ নাই। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম একজন সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তিনি(জিয়া) যেমন নন্দিত, ঠিক তেমনি ৭৫’পরবর্তি জিয়াউর রহমান,দুনিয়ার তাবৎ সামরিক শাসকদের মতোই নিন্দিত। জিয়া কোনদিনই কোন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। রাজনীতিক নেতা হওয়ার সুযোগ তার হয়ে ওঠেনি। উর্দি ছেড়ে রাজনীতিতে পা রাখার সাথে সাথেই তিনি হন মর্মান্তিকতার শিকার।তার আদর্শও ছিলো দুনিয়ার তাবৎ সামরিক শাসকদের আদর্শ। একটুও ভিন্ন কিছু নয়।ইহাই বাস্তবতা।ইহাই জিয়াউর রহমানের ইতিহাস।

এই সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। জিয়াউর রহমান যা, যেখানে তার অবস্থান, ইতিহাস সেখানেই তার স্থান করে দিবে।জোর করে বেশিদিন এর জের ফের করা যাবেনা।