ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সারা দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্থা ভেঙে পড়েছে।এ শুধু ঢাকা-ময়মনসিংহ বা ঢাকা-টাঙ্গাইল নয়,একই বেহাল দশা ঢাকা-চট্রগ্রাম,শহর-বন্দর,জেলা-উপজেলা নির্বিশেষে সারা দেশের রাস্তাঘাটের তথা রেলওয়ে সহ সমগ্র যোগাযোগ ব্যবস্থার।এমন বেহাল দশা ইতিপূর্বে আর কোনদিন দেখা যায় নাই।

এর জন্য বিভিন্ন জন ও মাধ্যম থেকে যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠছে। কিন্ত কথা হলো হাতে গোনা ২/৪ টি বাদে সকল মন্ত্রী-মন্ত্রনালয়ের তো কম বেশি একই বেহাল-হযবরল অবস্থা। যার সব গুলিতেই পরিশেষে দরকার হয় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ।কিন্ত এর মধ্যে ক্ষতি-অবনতি যা হবার তার আর কিছু বাকি থাকে না এবং এর মাশুল গুনতে হয় দেশের মানূষকে।

আসলে দলের জননন্দিত এবং বরেন্য নেতাদের অবজ্ঞা-উপেক্ষা করে,এবারে শেখ হাসিনা তার একক পছন্দে যাদের কে সরকারের ও দলের নেত্রীত্বে বসিয়ে দিয়েছেন,তাদের অতীত এবং মূল যোগ্যতা হলো-হাসিনার মোশাহেবি,হাসিনার চাটুকারিতা,হাসিনার চামচামি।আর অনেকের মতে এর সাথে আছে বৃহত্তর ফরিদপুরের বাসিন্দা(প্রধানমন্ত্রীসহ ৫ মন্ত্রী,উপদেষ্টা,সংসদ উপ-নেতা, ডেঃ স্পিকার,হুইপ,দলের প্রেসিডিয়াম-সবই এক বৃহত্তর ফরিদ পুরের)।যার মাধ্যমে তিনি(শেখ হাসিনা)শুধু দলের ত্যাগী,সংগ্রামী এবং ঐতিহ্যবাহী নেতাদেরকেই অপমানিত-অবমানিত করেন নাই,ক্ষতি করেছেন সরকারের ক্ষতি করেছেন দলের।সামনের দিনে যার মাশুল তাকে এবং তার দল কে গুনতে হবে।

সরকারের মন্ত্রিগিরি এবং আওয়ামীলীগের মতো দলের নেতাগিরি করতে যথাযথ যোগ্যতা লাগে,রাজনৈতিক একটা অতীত লাগে,দলীয় নেতা-কর্মী তথা জনমানূষের ওপর দখল এবং প্রভাববিস্তার ও কমান্ড করার একটা কারিশমা বা ব্যক্তিত্ব লাগে,একটা বলিষ্ঠতা লাগে।এ প্রসঙ্গে ২/৪ জন বাদে,শেখ হাসিনার চমক-এবারের সরকার ও দলের নেত্বত্বের অনেকেই দেশের মানূষের কাছে সাংঘাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। যাদের অনেককেই আওয়ামীলীগের কোন আন্দোলন সংগ্রামে কোনদিনই দেখা যায় নাই,অনেকেই জাতীয় পর্যায়ের নয়,ছিলেন জেলা বা থানা পর্যায়ের নেতা।এমনও অনেকে আছেন এর আগে যাদের নাম ও দেশের মানূষ কোনদিন খুব একটা শুনে ও নাই।অনেকেই করিৎকর্মা,প্রতিশ্রুতিশীল এবং উদ্দ্যমী হলেও হোঁচট খেতে হচ্ছে অভিজ্ঞতার অভাবে।তাদেরকে বড়জ়োর দু-এক টার্মের জন্য দেয়া যেতো প্রতিমন্ত্রী বা দলের সে ধরনের দায়-দায়িত্ব।

যার কারনেই যেমন বেহাল দশা শেখ হাসিনার এবারের সরকারের,তেমন বেহাল দশা সেখ হাসিনার দলের।কেননা কি দলে,কি মন্ত্রনালয়ে,কি ছাত্রলীগে-যুবলীগে, এই নবাগত বা আগন্তক, নেতা জনাব উবায়দুল কাদের এর ভাষায় হাইব্রিড নেতাদের কথা বা কমান্ড কেউ শুনে না,মানে না এবং পাত্তা দেয় না।এমতাবস্থায় এক যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগ তেমন কোন সুফল বয়ে আনবে বলে মনে হয়না।