ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ডঃ আসিফ নজরুল একজন খ্যাতিমান টক শো তারকা এবং কলামিস্ট। বিভিন্ন মাধ্যমে সৎ সাহসী এবং বলিষ্ঠ কণ্ঠের জন্য ডঃ আসিফ নজরুল একটি সুবিদিত ও জনপ্রিয় নাম এবং আমারো খুব পছন্দের।টিভির পর্দায় আমি তার যে কোন আলোচনা খুব গুরুত্ব দিয়ে শুনি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তার সাথে শেয়ার করতে না পারার অভাবটাও সমানভাবেই ফিল করি।এরকম কিছু প্রসঙ্গের উল্লেখ করছি।

১) গত ০১-০৮-১১ তে বাংলাভিশনের নিয়মিত ‘সংবাদ প্রতিদিন’ অনুষ্ঠানে এক প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিশেষায়িত করলেন একজন অতি বড়মাপের রাজনীতিক হিসাবে। আর ৭৫’এর ১৫ আগস্টে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার সাথে শফিউল্লাহ আর এ কে খোন্দকারকেও দাঁড় করিয়ে দিলেন এক কাতারে। টিভির টক শো গুলিতে সাথে সাথেই কিছু বলার সুযোগ হলে,সবিনয়ে জনাব আসিফ নজরুলের অবগতির জন্য বলা যেত যে-জিয়াউর রহমান আবার রাজনীতিক ছিলেন কবে?তাও আবার ‘অতি বড় মাপের’!!সেনাপতি শাসকের উর্দি খুলে রাজনীতিতে পা দেয়ার সাথে সাথেই তো তার(জিয়ার)করুন পরিণতি। জিয়াকে যদি রাজনীতিক বলা হয়,তাহলে তো,আইয়ূব,ইয়াহিয়া সহ দুনিয়ার তাবৎ সেনাপতি শাসকরা এক একজন বড় মাপের রাজনীতিক। বিএনপিকে বিবেচনায় নিয়ে বরং বেগম খালেদা জিয়াকে বলা যায় বড় মাপের রাজনীতিক,জিয়াউর রহমানকে নয়।

আর ১৫ আগস্টে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল ষড়যন্ত্রের,অন্যদিকে শফিউল্লাহ-এ কে খোন্দকারদের ভূমিকা ছিলো কাপরুষতার ও আত্মসমর্পনের। ষড়যন্ত্রকারি আর আত্মসমর্পণকারীর ভূমিকা এক হয় কি করে?

২)২ আগষ্ট উচ্চ আদালতে ঘটে যাওয়া নজির বিহীন ন্যাক্কারজনক ঘটনা এবং এর প্রেক্ষিতে নেয়া আইনি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে জনাব আসিফ নজরুলের তরে বলা যায় যে,বিগত আমলে এবং তার আগের আমলেও আদালত প্রাঙ্গনে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে সত্য,কিন্ত চলমান এজলাসে মাননীয় বিচারকদের সরাসরি আক্রমন করার এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর কোন দিন ঘটে নাই।বিচারকের অনুপস্থিতে তার এজলাসে হৈ চৈ, এমনকি ভাংচুর করা আর বিচার চলাকালীন এজলাসে বিচারককে সরাসরি আক্রমন করা এক মাপের হয় কি করে? রাজার আড়ালে, রাজাকেও প্রজা অনেক গালমন্দ করে,কিন্ত এই গালমন্দ করা আর সরাসরি দৈহিকভাবে রাজাকে আক্রমন করা এক জিনিষ নয়।এমনটি হলে শাস্তি নির্ঘাত শুলে চড়া।

আরো কথা হলো আগে বিচার হয়নি বলে,এখন ও অন্যায়-অপরাধকে ছাড় দিয়ে যেতে হবে এটা কেমন কথা?তবে এখনো কেউ যদি আগের ঘটমান সে সব অপ্রীতিকর ঘটনার বিচার চায়,তার জন্য তো আদালতের দ্বার খোলা।জনাব আসিফ নজরুল আপনি নিজেই,আদালত প্রাঙ্গনে বিগত আমলের আপনার ভাষায় ‘আরো বেশি ন্যাক্কারজনক ঘটনার’ বিচার চেয়ে আদালতে একটা মামলা ঠকে দিন না।
আসলে টক শো গুলিতে আমাদের টক শো তারকারা,অনেক সময় তাদের মনগড়া অনেক কিছু বলে যান।সে সব নিয়ে তদের সাথে শেয়ার করার সুযোগ খুবই সীমিত। এমন দুটি উদাহরন উল্লেখ করছি।

** সম্ভবত গত ১৫ আগষ্ট ইটিভি’র টক শো তে বিএনপি’র সাবেক সাংসদ এবং যুবদল নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,প্রসঙ্গক্রমে কয়েকবার-বঙ্গবন্ধুকে “মরহুম শেখ মুজিবর রহমান” আর জিয়াকে “শহীদ জিয়া” বলে সম্বোধন করলেন। খুবই ইচ্ছা হচ্ছিলো আলাল সাহেবকে “মরহুম” এবং “শহীদ” প্রসঙ্গে কিছু ছবক দেয়া।

** ইটিভি’র একই টক শো তে গতকাল(১৮-৮-১১),সরকার দলীয় সাংসদ গোলাম মাওলা রনি,সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা প্রসঙ্গে, ব্যর্থ যোগাযোগ মন্ত্রীর পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে,রাস্তার ‘পিএসাই’ তত্ত্ব, বড় বেশি ওজনের ট্রাক চলাচল আর এবারের অতি(তার মতে)বৃষ্টির অজুহাত খাড়া করলেন। খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো রনি সাহেবকে বলতে যে-আপনার এই ‘পিএসাই’ তত্ত্ব, আর বড় বেশি ওজনের ট্রাক চলাচল কি কেবল আপনাদের এই আমলেই শুরু হয়েছে?না কি আগেও ছিলো?আর অতি বৃষ্টি!! তা কি ১৯৮৮ বা ১৯৯৮ এর চেয়েও অতি?