ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনির এর দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুকে কেন্দ্র করে,যোগাযোগ মন্ত্রীর পদত্যাগের প্রসঙ্গটি যেভাবে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে, এ ব্যপারে মনে হয় কিছু ভাববার আছে। আমাদের এই যোগাযোগ মন্ত্রীর সীমাহীন অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও অদক্ষতার প্রশ্নে দ্বিমত প্রকাশের কোন অবকাশ নাই, কিন্ত তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনির দের এই মর্মস্পর্শী দুর্ঘটনার জন্য এককভাবে এই যোগাযোগ মন্ত্রীকে বা এই সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ব্যাপারে একটু বোধ হয় ভাবা দরকার। মর্মস্পর্শী এই দুর্ঘটনায় জাতির দুইজন অতি বড় মাপের প্রতিভাকে হারানোর সীমাহীন বেদনার সাথে একাত্ম হয়েও বলা যায়, অন্য আর দশটি দুর্ঘটনার মতো, ইহাও কেবলই মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনা। মানিকগঞ্জের যে রাস্তায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সে রাস্তার অবস্থা কিন্ত, ঢাকা- ময়মনসিংহ সহ দেশের অন্যান্য রাস্তার মতো বেহাল দশা ছিলো না। রাস্তার যে ‘ভয়ানক’ বাঁকটিকে এই দুর্ঘটনার কারন বলে মনে করা হয়, এই ‘বাকটি’ ও কিন্ত এই মন্ত্রী বা সরকারের সৃষ্টি করা নয়। ইহা বহু পুরাতন ব্যাপার। আর বাস্তবতার কারনে আমাদের হাই ওয়ে গুলিতে এমনতর ‘ভয়ংকর’ বাঁক শুধু এই একটিই নয়-আরো অনেক আছে। এগুলি নিয়ে যথাসম্ভব চিন্তা ভাবনা না করার জন্য দায়ী কেবল এই মন্ত্রী বা এই সরকার নয়, আগের আমল গুলির মন্ত্রী-সরকাররাও আরো বেশি করে দায়ী।

এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে গিয়ে বা আমলে না নিয়ে, তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনির দের এই মর্মস্পর্শী দুর্ঘটনার দায় এককভাবে এই যোগাযোগ মন্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে, তার পদত্যাগের দাবিতে একটা “হুজুগ” উঠেছে বলে আমার মনে হয়। আর একবার “হুজুগ” একটা উঠলে বা তুলে দিতে পারলে, আমরা সবাই এতে মেতে উঠি-আমাদেরকে নিয়ে এমন কথাও বলা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রেও এমনটিই হয়েছে এবং হচ্ছে বলে আমার মনে হয়। যোগাযোগ মন্ত্রী সহ এই সরকারের আরো অনেক মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করার মোক্ষম অনেক কারন আছে, কিন্ত তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনিরদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ব্যাপারটি, দেশজুড়ে ঘটমান অন্য আর দশ-পাঁচটি দুর্ঘটনার মতো, কেবলই স্রেফ একটি দুর্ঘটনা।