ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ভারতে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতির ওপর নজরদারি করতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর লোকপালের দাবিতে,আন্না হাজারের আন্দোলন।যার সর্বশেষ দফা দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনশন। গতকাল ছিল এর দ্বাদশ দিন। আন্নার অনশন কর্মসূচিতে দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে।

আন্নার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত জুনে পার্লামেন্টে লোকপাল বিল উত্থাপন করে সরকার। দাবির মুখে এ খসড়া প্রণয়নে আন্নার সহযোগীকেও রাখা হয়। কিন্ত প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায়,আমাদের বর্ত মান এই সরকারের দূর্নীতি দমন বিলের মতোই, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি, জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও আমলাদের আইনের বাইরে রাখা হয়। এ বিলকে দেশের(ভারতের) মানুষের জন্য ‘নির্মম প্রহসন’ অভিহিত করে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী লোকপাল বিলের দাবিতে নতুন করে অনশন শুরু করেন আন্না হাজারে এবং অনশনের দ্বাদশ,দিনে আন্নার সকল দাবি মেনে নেয় ভারত সরকার।

আন্না হাজারের এই আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি টিভির পর্দায় প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশ সহ সারা দুনিয়ার মানুষ। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো এমন একটি আন্দোলন-অনশন কর্মসূচিতে ছিলো না কোন পুলিশি অভিযান বা দমনপীড়ন।আমাদের দেশে হলে কি হতো?নির্ঘাত বলে দেয়া যায় পুলিশি অভিযান ও লাঠি পেটায় আন্দোলন-অনশন ভণ্ডুল হয়ে যেত,পুলিশের লাঠিপেটায় কতজনের মিথা ফাটতো, হাত-পা ভাংতো, কতোজনকে হাজতে যেতে হতো,কতজনের নামে মামলা হতো !!এমনকি আমাদের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের মতো আন্না হাজারেকেও,পুলিশের বেধরক লাঠিপেটায় হাত-পা ভাঙ্গা অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে গুংরাতে হতো। এখনেই আমাদের জন্য শিক্ষনীয় ব্যাপার,যদি আমরা শিখি।

আর আন্না হাজারের প্রসঙ্গটি নিয়ে আমাদের মন্ত্রীরা এতো বিচলিত কেন বুঝা গেলো না। দূর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের দেশেও যদি কোন আন্না হাজারের আবির্ভাব ঘটে,সেতো ভালো কথা। মন্ত্রীদের তো ইহাকে স্বাগতম জানানো উচিৎ।তবে ভিতরে ভিতরে যারা অন্যায়-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত,ভিতরটা যাদের কলংকে ভরা, তাদের তো আন্না হাজারের মতো কারো উত্থানে বিচলিত হওয়ারই কথা।