ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আ.লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের গতকাল(০২-৯-১১)সাংবাদিকদের সাথে,তার এক মন্তব্যে বলেন-“মনমোহন সিং যদি লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার একসঙ্গে বসতে অসুবিধা কোথায়?”

অসুবিধা আছে জনাব ওবায়দুল কাদের।অন্য সব কিছুর কথা বাদ দিলেও, এক নেত্রী যে আর এক নেত্রীর বাবার (জাতির জনক,বঙ্গবন্ধু ইত্যাদি না হয় বাদই দিলাম) এবং,অন্তঃসত্তা নারী-শিশু সহ গুষ্টিসুদ্ধ পরিবারের সকল সদস্যদের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ দিনের, এক সাগর চাপা শোককে, বিদ্রুপ-কটাক্ষ ও খাটো করার হীনমতলবে, ভূয়া জন্মদিনের কেক কেটে উল্লাস করে,কাটা ঘায়ে লবন ছিটান-এই হীনকর্মেরতো আগে একটা কিছু হতে হবে। এ কারনে খালেদা জিয়ার নিন্দা করতে হবে এবং খালেদা জিয়াকে দুঃখ প্রকাশ করে এই হীন বিদ্বেষী উন্নাসিকতা বন্ধ করার কথা বলতে হবে।অন্যথায় ভিতরে দগদগে ঘায়ের যন্ত্রনা ও তুষের আগুন রেখে, উপরে প্রলেপ লাগানোর চেষ্টায় তো কোন লাভ হবার নয়।কেননা সব ভুলা যায় কিন্ত এমনতর হীন বিদ্বেষী জিঘাংসার কথা কোনদিনই ভুলা যায়না।

যারা দুই নেত্রীর একসঙ্গে বসা নিয়ে এতো কথা বলেন,তাদের কাছে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা,শেখ হাসিনার জায়গায় আপনি বা আপনারা হলে কি করতেন? গোষ্ঠিশুদ্ধ আপনার বাবার এমনতর মর্মস্পর্শী হত্যার শোকের দিনে, কু-উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত হয়ে,১৯৯৬ এর পর সৃষ্টি করা,এমনতর ভূয়া জন্মদিনের কেক কেটে উল্লাসকারীর সব ভুলে গিয়ে, আপনি বা আপনারা কি তার(ভূয়া জন্মদিনের উল্লাস কারীর) সাথে গলায় গলায় মোলাকাত করতে ছুটে যেতেন?

জনাব ওবায়দুল কাদের,দেশের স্বার্থে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন,কারন লস্কর-ই-তাইয়েবা, মনমোহন সিং এর বাবার (গুষ্ঠিসুদ্ধ) বর্বর খুনিদের পিঠ চাপড়ে দিয়ে পুরস্কৃত করে নাই, মর্মস্পর্শী সেই হত্যার দিনের জাতীয় শোক কে উপহাস করার কুমতলবে,পাল্টা হিসাবে ভুয়া জন্মদিন তৈরী করে কেক কেটে উল্লাস করেনা।কোন আলোকিত মানুষের দেশে হলে এই একটিমাত্র হীন কর্মের জন্য খালেদা জিয়ারা রাজনীতির আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতেন।

জনাব ওবায়দুল কাদের আপনার অবশ্যই জানা থাকার কথা,সুদীর্ঘকাল পর নরপশু খুনিদের বিচার এবং কয়জনের বিচারের রায় কার্যকরি করাকে,দলমত পেশা-শ্রেনী নির্বিশেষে সমগ্র জাতি স্বাগত জানিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।কিন্ত খালেদা জিয়া এবং তার দোসরেরা এ ব্যাপারে আজ পর্যন্ত ও একটি কথাও বলেন নাই।বরং মনে হয় বর্বর খুনিদের বিচারের কারনে,হিংসা-বিদ্বেষের যন্ত্রনায় অন্তর্জ্বালায় তারা জ্বলে পুড়ে মরছেন। সুতরাং এহেন খালেদা জিয়ার একসঙ্গে বসতে,শেখ হাসিনার অসুবিধা আছে জনাব ওবায়দুল কাদের।