ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ঈদের দিন ইস্কাটন গার্ডেনে লেডিস ক্লাবে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের বলেছেন,“ বিচারপতি খায়রুল হক বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছেন। তিনি টাকার বিনিময়ে অনেক রায় দিয়েছেন। সব ফাঁস হয়ে গেছে। খায়রুল হক যেন মনে না করেন, সারাজীবন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে”।

দেশের প্রধান বিচারপতি “টাকার বিনিময়ে অনেক রায় দিয়েছেন”(??)।অভিযোগটি অতিব গুরুতর।ব্যাপারটি হালকা করে দেখার বা এড়িয়ে যাওয়ার কোন অবকাশ নাই।মনে পরে এর আগে জামায়াতে ইসলামির আমীর ও তার এক মন্তব্যে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের ঘুষ নিয়ে রায় দেয়ার কথা বলেছিলেন।

আদালতের মাননীয় বিচারপতিরা বিচার করেন,বিচারের রায় প্রদান করেন,সাক্ষী-সাবুদ,উকিল-ব্যারিষ্টার-প্রসিকিউটরদের যুক্তি-তর্ক-বিশ্লেষন,বিচার-বিবেচনা পূর্বক, আইনী বিধি-বিধানমতে।এর পর ও রায় বিপক্ষে গেলেই বিচার ও বিচারকদের প্রতি ক্ষোভ-অসন্তোষ্টি একটি স্বাভাবিক-বলা যায় চিরায়ত ব্যাপার।কিন্ত উচ্চ আদালতের মাননীয় বিচার পতিদের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে রায় প্রদানের অভিযোগ,স্বয়ং প্রধান বিচার পতির বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অনেক রায় দেয়ার অভিযোগ এবং সারাজীবন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবেনা বলে হুমকি প্রদান-তাও আবার এই অভিযোগ কারী এবং হুমকি প্রদানকারী হলেন স্বয়ং,সংসদে বিরোধীদলীয় প্রধান-সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও বিএনপি দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া এবং জামায়াতে ইসলামের আমীর।ব্যাপারটিকে ছেড়ে দেয়া ঠিক হবেনা কোন অবস্থাতেই।এর একটা সুরাহা জাতির সামনে অবশ্যই তুলে ধরতে হবে।দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ভাবমূর্তির স্বার্থে ,স্বপ্রনোদিত হয়ে হলেও, এমন একটি ব্যাপারে মাননীয় উচ্চ আদালতের দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকায় এগিয়ে আসা দরকার।অন্যথায় খালেদা জিয়ার ভাষতেই বলা যায়-বিচার বিভাগের ধবংস হয়ে যাওয়া একাবারেই সুনিশ্চিত।