ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া গতকাল তার এক বক্তব্যে(সূত্রঃ প্রথমআলো-১২/৯/১১) বলেছেন “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া বিএনপি কোন নির্বাচনে যাবেনা এবং এমন কোন নির্বাচন হতেও দেবেনা, দেশের কোথাও কোনো উন্নয়ন নেই। সর্বত্র চলছে দুর্নীতি আর লুটপাট। মন্ত্রী-এমপিরা লুটপাট করছেন। সারা দেশে আজ হাহাকার। এভাবে দেশ চলতে পারে না। এ সরকারকে সরাতে হবে”। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রীর সব কথাই না হয় ঠিকই মেনে নেয়া গেলো, কিন্ত “এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা এসেছে বিদেশি প্রভুদের মনোরঞ্জন করে”। এটা কেমন কথা!! ভোট তো দিয়েছি আমরা দেশের জনগন।ভোট দিয়েছি কি দিয়েছি না, এবং কাকে দিয়েছি,তা তো কেবল জানি আমরাই। সুতরাং আমাদের নামে বা আমাদেরকে ব্যবহার করে এমন আজগুবি কথা আপনি বলেন কি করে!!মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী,আপনি শধু একজন ‘খালেদা জিয়াই’ নন,আপনি অনেক বড় মাপের একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব, বিএনপি’র মতো একটি অন্যতম বড় দলের প্রধান এবং বিগত দুই দুই বারের প্রধান মন্ত্রী-আপনার বক্তব্য-মন্তব্য হবে অনেক দায়িত্বশীল এবং সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত।নীচু মানের হিংসা-বিদ্বেষে ভরা হালকা-পাতলা বা যুক্তি-ভিত্তিহীন কোন কথা আপনার অবস্থানের সাথে নিতান্তই বেমানান।

আর এ সরকারকে সরাতে হবে?অবশ্যই সরাতে হবে।তবে এই সরানোর কাজটা করার মালিকও কিন্ত এদেশের জনগন।এ সরকারের কাজে-কর্মে দেশের মানুষ সন্তষ্ট না হলে অবশ্যই তারা এ সরকারকে সরিয়ে দিবে।এর জন্য দরকার নির্বাচন।এবং সে নির্বাচনের বাকি আর দুই বছরের মতো।যার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।এর বাইরে “এ সরকারকে দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না”-এমন মনগড়া কথা আপনি-আমি বা যে কেউ বললে তো হবেনা। সুতরাং অপেক্ষা করুন,প্রস্তুতি নিন,জনগনের মাঝে কাজ করুন,দুই বছর পর নির্বাচনে জনগন চাইলে আবার আপনারা ক্ষমতায় আসবেন।এর জন্য আন্দোলন,জ্বালাও-পোড়াও এর কোন দরকার নাই।দেশের ক্ষতি ছাড়া এতে করে কাজের কাজও কিছু হবার নয়।

তবে নির্বাচনে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়তর অবস্থান নিন।মনগড়া,আবোলতাবোল,বাস্তবতা বিবর্জিত এবং যুক্তি-ভিত্তিহীন প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে,এই এক দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করুন,দেশের সিংহ ভাগ মানুষ আপনাদের সমর্থন যোগাবে।কেননা “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনির্বাচিত ব্যাবস্থা আমাদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থি,দুনিয়ার কোথাও এমন ব্যাবস্থা নেই” ইত্যাদির চেয়ে বড় কথা হলো আমাদের বাস্তবতায় এ ব্যবস্থার দরকার অপরিসীম এবং কেবল ১/২ বৎসরের জন্য নয়-আজীবনের জন্য। এতে দোষের কিছু নেই।দুনিয়ার কোথাও থাকুক আর নাই থাকুক,আমাদের বাস্তবতায় আপাততঃ ইহার বিকল্প নাই।আর সংসদে পাশ হওয়ার পর এব্যাপারে কোন আইনী প্রশ্ন তোলাও অবান্তর।