ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

গতকাল(২১-৯-১১) চ্যানেল ‘আই’ এর আজকের সংবাদপত্র অনুষ্ঠানে,ড. আসিফ নজরুল প্রসংগক্রমে তার এক মন্তব্যে বলেন-“খালেদা জিয়াকে যেভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে,ভবিষ্যতে একইভাবে হয়তো আরো অনেককে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে”।এতোগুলি বৎসর যাবৎ বসবাস করার পর খালেদা জিয়াকে তড়িঘড়ি করে এভাবে বাড়ি থেকে বের করে দেয়াটা ঠিক হয়নি-এমন মন্তব্য তিনি এর আগেও অনেকবার করেছেন।“এভাবে তড়িঘড়ি করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়াটা ঠিক হয়নি”-জনাব আসিফ নজরুলের এই কথাটুকুর সাথে অনেকেই দ্বিমত প্রকাশ করবেনা।আরো একটু রয়ে সয়ে যথাযথ সৌজন্যতার সহিত কাজটা করা যেতো।তা না করে চরম অসৌজন্যতা ও অসহিষ্ণুতারই প্রকাশ ঘটানো হয়েছে। কিন্ত “ভবিষ্যতে একইভাবে হয়তো আরো অনেককে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে”-এটা কেমন কথা!!জনাব আসিফ নজরুলের কাছে প্রস্নঃ-খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ির মতো এমন কোন বাড়িতে বসবাস করে-এমনতর আরো কেউ আছে না কি?

এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র অনেক নেতাদের(আর কিছু না পেয়ে), অর্বাচিনের মতো ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এবং শেখ হাসিনার স্বামীর সূধা সদন নিয়ে টানাটানি করতে দেখা গেছে। এই অর্বাচীনদের বুঝা দরকার, ধান্মন্ডির ৩২ আর সূধা সদন, প্লট হিসাবে অন্য আরো দশজন নাগরিকের মতো ডিআইটি/রাজউক থেকে নিয়ম মাফিক বরদ্দ পাওয়ার পর,যার যার নিজের বা বাবার টাকায় নির্মিত। তা আর খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ি এক জিনিষ নয়। ৩২ নম্বর আর সূধাসদন নিয়ে প্রস্ন তুললেতো,পুরা ধানমন্ডি-গুলশান-বনানি-বারিধারা-উত্তরা নিয়েই প্রস্ন তুলতে হয়। তাহলে প্রস্ন আরো এসে যায় যে,এই বিএনপি নেতারা থাকেন কোথায়?টানতো সেখানেও পড়বে।

জনাব আসিফ নজরুলও কি তাহলে,খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির সাথে,ধানমন্ডির ৩২ নম্বর আর শেখ হাসিনার স্বামীর সূধা সদনকেও,টেনে এনে এক কাতারে হাজির করা উল্লেখিত বিএনপি নেতাদের মতোই মনে করেন না কি?

আর জিয়া পরিবার অনেক অনেক বৎসর ধরে এই বাড়িটিতে বসবাস করছেন তা ঠিক।কিন্ত ভুলটাতো এখানেই।যেভাবেই হোক, জেঃ জিয়া যখন রাষ্ট্রপতি হলেন,তখনতো তার বাস করার কথা রাষ্ট্রপতি ভবনে।তিনি সেখানে না গিয়ে সেনানিবাসের এই বাড়িতে থেকে গেলেন কেন?এতে করে দুইটি বাড়ি দখলে রেখে তিনি একদিকে রাষ্ট্রের ক্ষতি করেছেন,অন্যদিকে তার পরবর্তি সেনাকর্মকর্তাকে, সেনানিবাসের এই বাড়িটিতে বসবাসের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন।

জ়েঃ জ়িয়ার মর্মান্তিকতা্য তার স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়ি?আবেগঘন এই প্রস্নের প্রতি যথাযথ সন্মান রেখেও বলা যায়, রাষ্টের কিন্ত একটা সীমাবদ্ধতা আছে এবং থাকা উচিৎও। অন্যথায় একই রকমের আবেগতো, আরো বেশি মর্মান্তিকতার শিকার- সর্বজনাব তাজউদ্দিন আহমেদ,সৈয়দ নজরুল ইসলাম মনুসুর আলী,কামরুজ্জামান গংদের বেলাতেও দেখানোর কথা এবং একই কারনে তাদের বসবাস করা রাষ্ট্রীয় বাড়ি গুলিও, তাদের পরিবারদেরকে দিয়ে দেয়ার কথা।একই কথা জেঃ জিয়ার কাতারের আর এক বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফের বেলাতেও প্রযোজ্য।কিন্ত তা কি করা হয়েছে?হয়নাই। বরং খালেদ মোশাররফের পরিবারকে দেয়া অতি সামান্য(খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের বাড়ির তুলনায়)বাড়িটিও, খালেদা জিয়ার আমলে কেড়ে নেয়া হয়েছে।

জনাব আসিফ নজরুল, জেঃ জিয়া অবশ্যই একজন বড় মাপের মানূষ এবং তা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এক সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে। এই কারনে ৭৫’পূর্ব্ব জেঃ জিয়া অবশ্যই আমাদের এক নন্দিত ব্যাক্তিত্ব।কিন্ত ৭৫’পরবর্তি জিয়া একজন সেনাপতি শাসক হিসাবে,দুনিয়ার তাবৎ সামরিক শাসকদের মতোই নিন্দিত-এ কথাও সমানভাবে সত্য। বাস্তবতার এ বিচারে জেঃ জিয়ার চেয়ে,জেঃ খালেদ মোশাররফ বা একই কাতারের অন্য সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের,কম বড় মাপের করে দেখার কি কোন অবকাশ আছে?

জনাব আসিফ নজরুল,আমাদের ঘাটতিটা হলো এই যে,নানান কারনে আমরা কেবল বেছে বেছে কারো কারো কথাই বলি।কিন্ত একই কাতারের একই পরিসরের আরো অনেকের কথা আমরা কোনদিন মুখেও আনিনা।যার কারনে আমাদের অনেক বীর সন্তানেরা ধীরে ধীরে হারিয়েই যাচ্ছেন জাতির ইতিহাস এবং মানষপট থেকে।ইহা অবিচার।ইহা অন্যায়।ইহা চরম পক্ষপাতিত্ব ।