ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১)“চোর-বাটপারদের সঙ্গে বসে কী হবে? যারা অরফানেজের টাকা মেরে খায়, তাদের সঙ্গে বসে কী লাভ”- দেশে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রয়োজনীয়তা নাকচ করে দিয়ে,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্যটি করেন।মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী-যিনি ছিলেন গত দুইবারের প্রধানমন্ত্রীও,তার সমন্ধে-“চোর-বাটপার”-এমন হীনবিদ্বেষী উক্তি,আর একজন প্রধানমন্ত্রীর মূখে নিতান্তই অশোভন।এতে করে বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি মানূষের সহানুভূতির পাল্লাটাই বরং আরো একটু ভারী হয়েছে আর প্রধানমন্ত্রী নেমে গেলেন আরো একধাপ নীচে।

২)“৬০ টাকা মূল্যে প্রতি লিটার তেল কিনে ৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে জনগণের স্বার্থে”- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,তেল কেনা-বেচামুল্যের এই হিসাবতত্ব কি কেবল আপনার এই আমলেই,না কি এর আগেও ছিলো?

৩)“এই সরকারের সময়ও দুর্নীতি আছে। এটাকে বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে সহনীয় পরিবেশে নামিয়ে আনতে হবে—বিমানমন্ত্রী জি এম কাদেরের এমন মন্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কে বলেছে? ও, এরশাদের ভাই জি এম কাদের? সে তার ভাইয়ের কথা মনে করে এ কথা বলতে পারে”- নিজের কেবিনেটের একজন মাননীয় মন্ত্রী(হোকনা সে অন্য দলের)সম্পর্কে,স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য দুঃখজনক,সৌজন্যতা বিবর্জিত,অশোভনীয় এবং অসন্মানজনক।

এর আগেও মন্ত্রীপরিষদের সভায় সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে,‘রাষ্ট্রধর্ম ও বিসমিল্লাহ’ রাখা না রাখা প্রসঙ্গে স্বীয় মতামত প্রকাশ করলে,মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী, বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং সেক্টরকমান্ডার ফোরামের নেতা এ কে খন্দকারের প্রতিও, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার অসৌজন্যতার প্রকাশ ঘটান বলে খবরে প্রকাশ। দলীয় এক সভায়,কিছু কিছু মন্ত্রীদের পারফরমেন্স নিয়ে কথা বললে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী একই রকম আচরনের শিকার হন দলের অন্যতম শীর্ষ তারকা নেতা মোঃ নাসিমও। প্রস্ন জাগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এভাবে যদি সবাইকে থামিয়ে দেন,একে একে সবাইকে বিরাগভাজন করে দেন-জোর করে প্রতিপক্ষে ঠেলে দেন,তাহলে তিনি দাঁড়াবেন বা ভবিষ্যতে চলবেন কাদের নিয়ে? বর্তমানে তাঁর চারপাশ ঘিরে থাকা,তাঁর অতি পছন্দের কথিত এই হাইব্রিড নেতাদের নিয়ে?একমাত্র দলীয় প্রধানের তোয়াজ-চাটুকারিতা ছাড়া, যাদের স্বকীয়তা বলতে কিছুই নাই, দেশের মানূষের কাছে এমনকি দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে যাদের কোন গ্রহনযোগ্যতা নাই,দখল নাই,কমান্ড নাই,অনেকের তেমন একটা পরিচিতিও নাই।যার প্রমান মিলেছে সুপ্রিমকোর্ট সহ আদালত এলাকার বিগত দুই দুই বারের নির্বাচন এবং অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন গুলিতে।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এবং প্রচার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত দেশের নানান চলমান প্রসঙ্গে জনমত জরিপ-ফলাফলসহ,বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানূষের প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়ে থাকে।ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও এসবের গুরুত্ব উড়িয়ে দেয়া যায়না। একটু নজর দিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখতে পারবেন,এসব মতামতে দেশের মানূষ,তাঁর(প্রধানমন্ত্রীর)নানান প্রাসঙ্গিক বক্তব্য-মন্তব্য এবং তাঁর চারপাশ ঘিরে থাকা কথিত হাইব্রিড নেতাদের প্রসঙ্গে কত তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে!এখনো সময় ফুরিয়ে যায়নি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী; চাটুকার-মোসাহেবদের নয়,কঠিনেরে ভালবাসুন-কঠিনে কখনো করেনা বঞ্চনা। অন্যথায় এর চড়া মাশুল কিন্ত গুনতে হবে।বাস্তবতা কিন্ত সেদিকেই বেগবান।