ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিএনপি যা কিছুই করতো,এতে করেই আওয়ামীলীগের ছোট থেকে বড় নেতারা,এই বলে হৈ চৈ শুরু করে দিতো যে, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্যই তারা (বিএনপি) এসব করছে।সব কিছুতেই ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল’ এর গন্ধ আবিস্কার করায়,আমরা আওয়ামীলীগ নেতাদের ওপর বিরক্ত হতাম। বিভিন্ন টক শোতে, ডঃ আসিফ নজরুল- অধ্যাপক পিয়াশ করিমরা, “কেঊ জোরে কাশি দিলেও আওয়ামীলীগ নেতারা এর মধ্যেও ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের গন্ধ আবিস্কার’ করেন বলে-ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও করতেন।আমরা দেশের মানূষ ও জনাব আসিফ নজরুল-পিয়াশ করিমদের এমনতর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে সহমত পোষন করতাম।

কিন্ত আজকের জনসভায় বেগম জিয়া তার বক্তব্যে,“যুদ্ধাপরাধের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল রাজনৈতিক ট্রাইব্যুনাল। বিচারের নামে এখানে প্রহসন হচ্ছে” বলে উল্ল্যেখ করে, বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সকল গ্রেফতারকৃ্ত যুদ্ধাপরাধীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানালেন।এতোদিন পরে তাহলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়াদের আসল চেহারাটা প্রকাশ হয়ে গেলো।অর্থাৎ বিড়ালটা আর থলের ভিতর থাকলোনা,বের হয়ে গেলো।

সবকিছূতেই ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল’ এর গন্ধ আবিস্কার’ এ আওয়ামীলীগ নেতাদের কিছুটা অতিরিক্ততা হয়তোবা ছিলো,কিন্ত তা মোটেই অমূলক কিছু যে ছিলোনা- এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার অবস্থান ও বক্তব্যের পর, এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।এ কথাও অনায়াসেই বলা যায় যে, বেগম জিয়াদের প্রতিটা নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস ও ছিলো, আছে এবং থাকবে, ঘৃ্নিত-ধিকৃ্ত এই যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে। নানা কূটকৌশলে বিচার বানচাল করে এদেরকে(যুদ্ধাপরাধীদের)রক্ষা করার জন্য। অপক্ষায় রইলাম,দেখি এখন এ প্রসঙ্গে জনাব আসিফ নজরুল-পিয়াশ করিমরা কি বলেন!

মনে রাখা দরকার ভারতের বিজেপিতে মুসলমান থাকলেই যেমন বিজেপি কোনদিনই অসম্প্রাদায়িক চরিত্র-চেতনার কোন দল হয়ে যায়না, ঠিক তেমনি দলে মুক্তিযোদ্ধা থাকলেই বিএনপিও, চরিত্র-চিন্তা-চেতনায় কোনদিনই মুক্তিযোদ্ধার বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হয়ে উঠেনাই,উঠবেনাও। ৭১ এর পরাজিত শক্তির দোসর হিসাবেই জন্ম এবং থাকবেও।