ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ যে অতীত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন (প্রথম আলো-২৯/৯/১১),এগুলি তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের পক্ষে কতগুলি খোঁড়াযুক্তি।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো,শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো,খালেদা জিয়ার দুই ছেলেকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয়েছিলো,সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরন করা সহ তিনমাসের সরকার দুই বৎসর ক্ষমতায় ছিলো’, সবই সত্য-কিন্ত সে সরকার ছিলো তথাকথিত তত্বাবধায়ক সরকার-তত্বাবধায়ক সরকারের নামে,মূলতঃ সেনাশাসিত সরকার।সে সরকার কি করেছে,কি করেনাই,এসব উদাহরন তত্বাবধায়ক সরকারের বেলায় খাটেনা। এর প্রমান আগের দুটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এগুলি খোঁড়াযুক্তি এবং চরম সুবিধাবাদি কথাবার্তা।জনাব আশরাফ,দেশের মানূষকে এতো বোকা ভাববেননা।দেশের মানূষ আপনাদের এসব খোঁড়া যুক্তির মর্মার্থ বুঝে।

আসল কথা হলো,এ দেশে তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নিরপেক্ষ কোন নির্বাচন হবে-এটা কোন মানূষ বিশ্বাস করেনা।হলেও সে নির্বাচন সকলের গ্রহনযোগ্যতা পাবেনা।প্রস্নবিদ্ধ থেকেই যাবে।তাই কোথায় বা কোন দেশে কি আছে না আছে,সেটা বড় কথা নয়।বড় কথা হলো আমাদের বাস্তবতায়,জাতীয় নির্বাচনে তত্বাবধায়ক সরকার দরকার,এবং তা এক/দুই বৎসরের জন্য নয়,সবসময়ের জন্য।এতে ক্ষতির কিছু নাই।সবার মতামতে আর জনগনের নির্বাচিত সংসদে পাশ হওয়া আইন বা পদ্ধতিকে অগনতান্ত্রিক বা গনতান্ত্রিকতার সাথে সাংঘর্ষিক বলার কোন অবকাশ নাই। মনে রাখা দরকার,দেশের মানূষের,দেশের বাস্তবতার স্বার্থেই আইন ও সংবিধান।

বিশেষ করে সৈয়দ আশরাফদের মনে রাখা দরকার,ক্ষমাতার বদৌলতে,ক্ষমতার স্বার্থে আজ তারা যা যা করছেন,এসবের পরও কোন না কোনভাবে যদি ক্ষমতার পালাবদল ঘটে যায়,তাহলে এসব আইনের কারনেই চরম এবং অভাবনীয় মূল্য তাদেরকে দিতে হবে।তাদের নকশাকৃত দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে,সৈয়দ আশরাফদের পুনরায় ক্ষমতায় আসার পথ চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।কেননা এই মর্মে খালেদা জিয়ারা সৈয়দ আশরাফদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি কঠোর দৃঢ়।