ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কিংবদন্তিতুল্য আওয়ামীলীগ নেতা,আমাদের সবার অতিপ্রিয় রাজ্জাক ভাই, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বিদেশের হাসপাতালে। এমন একটি খবর একমাত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন ছাড়া স্থান পায়নাই প্রথম আলো সহ মূলধারার পত্রিকাগুলিতে।তেমন একটা গুরুত্ব পায়নাই ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলিতেও।অথচ কতজনের কত ধরনের খবরও হেড লাইন হয় আমাদের এই মিডিয়াগুলিতে।সত্যিই জাতি হিসাবে আমরা নির্মমভাবে বিস্মৃতিপরায়ন এবং চরম অকৃতজ্ঞও।

রাজ্জাক-তোফায়েল,সিদ্দিকী-মাখন,রব-সিরাজ প্রমূখ নামগুলি,বাঙ্গালি জাতির সকল আন্দোলন-সংগ্রাম,মহান মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা,তথা সকল অর্জনের অবিচ্ছেধ্য অংশ।জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর চরম লক্ষ্যে পৌঁছার এক একটি ইস্পাত কঠিন পিলারবিশেষ। যাদের থাকার কথা ছিলো স্বাধীন এ দেশটির সকল ক্ষমতা ও রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এবং নীতিনির্ধারনী ভূমিকায়।কিন্ত নির্মম পরিহাস,স্বাধীনতার ঊষালগনেই,মাত্র সাড়েতিন বৎসরের মাথাতেই সব ওলট-পালট হয়ে গেলো,সব ভেঙ্গে খান-খান হয়ে গেলো।দেশ ও জাতির কপালে আবারো ফিরে এলো ধিকৃ্ত সেই পাকিস্তানি ধারা,সামরিক শাসন এবং মুক্তিযোদ্ধা সেনাপতি শাসকের কাঁধে ভর করে ৭১ এর পরাজিত শক্তির শাসন-কতৃ্ত্ব। আর স্বাধীনতার সৃষ্টিকারি বীর সন্তান রাজ্জাক-তোফায়েলদের স্থান হলো নিপীড়নমূলক অন্ধকার কারাগারে।কাদের সিদ্দিকীর মতো কিংবদন্তিতুল্য মহান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কপালে জুটলো নির্মম ফেরারী জীবন।কিন্ত চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়,এ জাতি এমন প্রস্ন নিয়ে কোনদিন সামনে আসেনাই যে-“এমন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং সার্বিকভাবে পর্যুদস্ত দেশে,স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বৎসরে,এমন কি অপরাধ করেছিলো জাতির কিংবদন্তিতুল্য মহান এই বীর সন্তানেরা, যার জন্য তাদেরকে নিক্ষিপ্ত হতে হলো চরম নিপীড়নমূলক কারাগারে আর ফেরারী জীবনে”!!

এর পর অনেক পানি গড়িয়ে গেলো।সামরিক শাসনের অবসান হলো।স্বাধীনতা সৃষ্টিকারি রাজ্জাক-তোফায়েল-কাদেরসিদ্দিকীদের দল আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়ও এলো।কত বিতর্কিত এবং কত নাম না জানা লোক হটাৎ করে গজিয়ে উঠে,কোন এক যাদুর পরশে বড় বড় মন্ত্রী-নেতার আসনে বসে গেলো।রাজ্জাক-তোফায়েলের ভাগ্যে, ‘স্বাধীনতার চল্লিশ বছরের মধ্যে’- মাত্র এক টার্মের জন্য মন্ত্রীত্ব জুটলেও, অন্যেরা অপাংতেয়ই রয়ে গেলো।পরিশেষে বংবন্ধুর অতি কাছের অতি আদরের এই রাজ্জাক-তোফায়েলদেকেও, নিজেদের অপার ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে গড়া দল আওয়ামীলীগের কাছেই হতে হলো অপাংতেয়,‘প্রবিন’(?),‘বর্ষীয়ান’(?),অতঃপর অবমানিত ও অপমানিত।কত প্রবিন,কত বর্ষীয়ান এই রাজ্জাক-তোফায়েল?কত তাদের বয়স?এসব ভোগাস কথা।দেশে এবং বিদেশে তাদের চেয়ে আরো বেশি বয়সের মানূষেরা সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে এবং সরকারের মূখ্য মুখ্য ভূমিকায় আছেন।প্রকৃতপক্ষে তাদের(রাজ্জাক-তোফায়েলদের)যে বয়স-ইহাই রাজনীতির এবং নেতৃ্ত্বের জন্য পরিপক্ক বয়স।তাদেরকে এভাবে ‘প্রবিন-বর্ষীয়ান’অভিধায় চিত্রিত করা চরম দুঃখজনক।

পরিশেষে আবারো বলছি,ক্ষমা করো রাজ্জাক ভাই।যে জাতিতে,জাতির জনককে সন্মান করার জন্য আইন করতে হয়-সে জাতি্র,তোমাদেরকে মূল্যায়ন করার মতো,সে যোগ্যতা কোথায় রাজ্জাক ভাই!!তাই তুমি বিদেশের হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছো-এমন খবর দেশের মুল ধারার পত্রিকা গুলিতে নাই,ইলেকট্রনিক পর্দাগুলিতে নাই এমন কি তোমার অপার ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে গড়ে ওঠা দল আওয়ামীলীগেও তেমনভাবে নাই – ইহাইতো স্বাভাবিক,ইহাইতো আমাদের জাতীয় বৈশিস্ট,ইহাইতো আমাদের নিয়তি।এই বিবেচনাতেই আমাদের ক্ষমা করো রাজ্জাক ভাই।তুমি ফিরে আসো রাজ্জাক ভাই,আমাদের প্রানপ্রিয় রাজ্জাক ভাই।তুমি পরিপূর্ন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসো রাজ্জাক ভাই।মহান করুনাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে কায়মনোবাক্যে তোমার জন্য এই দোয়াই করছি।মহান আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করবেন এবং তুমি অবশ্যই আমাদের মাঝে ফিরে আসবে রাজ্জাক ভাই।