ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রতিপক্ষ বিরোধীদল এক জাগায় তাদের কোন মিটিং বা কর্মসুচী ঘোষনা করলে,পাল্টাপাল্টি সরকারি দল বা তাদের কোন অঙ্গসংগঠন ও একই জায়গায় একই সময়ে তাদের মিটিং বা কর্মসুচী ডেকে বসবে।অতঃপর সংঘাত এড়াতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ,১৪৪ ধারা জারি এবং বিরোধীদের মিটিং-কর্মসুচী পন্ড।বিরোধীদের দমন-পীড়নে রাজনীতিতে এই নোংরামীটা কম বেশি বরাবরই ছিলো,তবে তা ব্যাপক আকার ধারন করেছে বলা যায় বর্তমান এই সরকারের আমলে। কেন এই নোংরামী? মিটিং-কর্মসূচীর জায়গাকি কি আর নাই?একই জায়গায় আর একই দিনে তা করতে হবে কেন? এই নোংরামী অবশ্যই বন্ধ করা দরকার।এই নোংরামী নিন্দনীয়।

গত ০৮/১০/১১ ছিলো নাটোরের বরাইগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছানাউল্লা নূর বাবুর প্রথম মৃত্যুবার্ষীকি। গত বৎসর এই দিনে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। খবরে প্রকাশ তার এই প্রথম মৃত্যুবার্ষীকি পালন উপলক্ষে স্মরনসভাটি করতে পারেনি স্থানীয় বিএনপি।স্থানীয় আওয়ামীলীগ একই স্থানে একই সময়ে তাদের কর্মীসভা করার ঘোষনা দিলে, স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।অতঃপর সানাউল্লা নূরের স্মরনসভাটি পন্ড হয়ে যায়।কেন এমন করতে গেলো স্থানীয় আওয়ামীলীগ? আর কি কোন জায়গা বা দিন কি ছিলোনা তাদের কর্মীসভা করার জন্য? আওয়ামীলীগের শীর্ষনেত্রীত্ব কি জানে,নাটোর আওয়ামীলীগের এই নোংরামীর খবর?জানলে এব্যাপারে কোন একশান কি তারা নিয়েছে?ব্যপারটি এক কথায় চরম নিন্দনীয়।এর প্রতিফল কোনদিনই ভাল হবার নয়।

একজন নির্বাচিত জন প্রতিনিধীকে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজপথে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো,টিভি ক্যামেরার বদৌলতে হত্যাকারীদের এবং তাদের পৈচাশিকতার দৃশ্য,সারা দেশের মানূষ টিভি পর্দায় প্রত্যক্ষ করলো-এরপরতো এই হত্যাকারীদের সনাক্ত করনে কোন সাক্ষী সাবুদ বা প্রামান্যের দরকার পরেনা,টিভি ফুটেজই যথেষ্ট।আমরা ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা সহ অনেক হত্যার বিচার চাই।অবশ্যই চাই।কিন্ত মনে রাখা দরকার,সানাউল্লা নূরের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা-পরিজনের কাছে তাদের এই স্বজন হারানোর বেদনার মাত্রাটা কিন্ত কোন অংশেই একটুও কম নয়।একই রকমঅভাবে তারাও এই হত্যার বিচার চায় এবং চাইবে।

আমি যদি শেখ হাসিনা হইতাম,তাহলে আমি বরং নিজে গিয়ে সেই স্মরন সভায় হাজির হইতাম এবং উদারতা,বড়ত্ব আর ভালবাসা দিয়ে নাটোরবাসিকে জয় করে নিতাম।