ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

১১/১০/১১ তারিখে,খালেদা জিয়ার সিলেটের জনসভায়,জামায়াতের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলামকে ডান্ডাবেড়ি পরানোর প্রতিবাদে,বিজেপির সভাপতি আন্দালিব রহমান এবং বিএন পি নেতা ইলিয়াস আলী, ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের ধরে ধরে বিচার করা ও ডান্ডাবেড়ি পরানোর জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি দাবি জানান।জবাবে খালেদা জিয়াও তাদের এই ‘আওয়ামীলীগ নেতাদের ডান্ডাবেড়ি পরানোর’ দাবি পুরো অগ্রাহ্য করেননি। বলেছেন, ‘যেহেতু এটা জনগণের দাবি,(?)(জনগনের হলো কি করে?সিলেটের এই জনসভার মানুষই কি জনগন?) তাই কিছুটা হলেও তো আমাদের করতে হবে।

এদেশের সিংহভাগ মানূষ,৭১ এর কুখ্যাত অপরাধীদের বিচার চায় এবং জামায়াতের রাজনীতি সমর্থন করেনা। কিন্তু তাই বলে কোন রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে ডান্ডাবেড়ি পরানোও সমর্থন করেনা।যা অবশ্যই নিন্দনীয়।কোনো সভ্য দেশে এটি চলতে পারে না।শ্ত্রুরও সাথেও আচার আচরনের শালীনতার একটা মাত্রা অবশ্যই পালনীয়।জামায়াতের নেতারা অপরাধী প্রমানিত হলে বা রাস্তায় হাঙ্গামা করলে আদালত বিচার করবেন।সরকার বা পুলিশের কাজ যথাযথ ভাবে তাদের আদালতে সোপর্দ করা।

কিন্ত এই জামায়াত এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে, শর্ষের মাঝেই মনে হয় ভূত লুকিয়ে আছে। যারা চায়না এদের বিচার হোক।তাই তারা নানান কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে এই বিচারকে প্রলম্বিত করছে এবং বিচারের ভারত্বকে দেশেবিদেশে হালকা ও দূর্বল করছে।

সে সূত্রেই মনে হয়, প্রথম দিকে একজন বিতর্কিত ব্যাক্তিকে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া,দেশে অনেক বড়মাপের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী থাকা সত্বেও,অপেক্ষাকৃ্ত দূর্বলদের এমন একটি বিচারকাজে নিয়োগ করা,মাসের পর মাস-বৎসরের পর বৎসর পার করে, কেবলমাত্র দুই জনের নামে সাড়ে চার হাজার(?)- আট হাজার(?)পৃষ্টার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরী করা(এই ৪৫০০,৮০০০ পৃষ্টা পড়তে কতদিন লাগবে?-এ্ত লম্বা ফিরিস্তি কিসের আলামত?),অতিউৎসাহী হয়ে নিজামী-মুজাহিদ-সাঈদীর মতো যদ্ধাপরাধীদের,হরতালে বাসে আগুন দেয়ার মতো হালকা এবং অবিস্বাশ্য অভিযোগে গ্রেফতারও হয়রানি করা এবং পরিশেষে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে ডান্ডাবেড়ি পরায়ে এদের প্রতি মানূষের সহমর্মীতার ভিত সৃষ্টি করা।

তবে এই ডান্ডাবেড়ির প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে যদি কেউ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পাল্টা ডান্ডাবেড়ি পরানোর কথা বলেন, সেটাও সমানভাবেই নিন্দনীয়। মনে রাখা দরকার,এই সরকারের এখনো আড়াই বৎসরের মতো সময় হাতে আছে।তো আন্দালিব রহমান এবং ইলিয়াস আলীদের এই ‘ডান্ডাবেড়ি’ পরানোর দাবি এবং এতে স্বয়ং খালেদা জিয়ার সন্মতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে, বর্তমান এই সরকার যদি, তাদের(ইলিয়াশ আলীদের) কথিত এই ‘ডান্ডাবেড়ি’পরানোর মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়,তাহলে অবস্থাটা কি দাঁড়াবে,তাও কিন্ত বিবেচনার বিষয়।আন্দালিব রহমান এবং ইলিয়াস আলীদের এই ‘ডান্ডাবেড়ি’ পরানোর দাবিটা অনেক বেশি আগে হয়ে গেলো না কী?