ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

খবরে প্রকাশ,অডিট রিপর্টে দেখা গেছে কর্মস্থল বদলানোর কারনে, আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রসচিব মহোদয়,পঞ্চাশ লক্ষ(৫০০০০০০/=)করে দুইবারে সরকারি তহবিল থেকে অগ্রীম বাবদ নিয়েছেন মোট এক কোটি টাকা(!!)।যা তিনি এখনো সমন্বয় করেননি।সরকারি উচ্চ কর্মকর্তাদের আরো অনেকেরই এরকম বিপুল অংকের টাকা সমন্বয়হীন অবস্থায় পরে আছে।

সময় সুযোগমতো তারা তাদের এন্টাইটেলমেন্ট অনূযায়ী,এই বিপুল অংকের অগ্রীম টাকা সমন্বয় অবশ্যই করবেন,কথা সেটা নয়। কথা হলো সরকারের একজন কর্মকর্তার অগ্রীম এক কোটি টাকা!!বর্তমান বেতন কাঠামোতে সচিব পর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তার বেতন চল্লিশ হাজার(৪০০০০/=) টাকা। সে হিসাবে এক কোটি টাকা মানে একজন সচিবের প্রায় ২৫০ মাস অর্থাৎ ২১ বৎসরের বেতনের সমান,যা একজন সচিব অগ্রীম নিয়ে নিলেন,তার দুইবার কর্মস্থল বদলি জনিত কারনে!এতো পিলে চমকানোর মতো ব্যাপার!!

আমাদের দেশটাতো বাংলাদেশ।দুনিয়ার অন্যতম দরিদ্রতম একটি দেশ।এমন একটি দেশের মানূষের এতো ব্যয়বহুল সচিব পালার ক্ষমতা কোথায়?বলার সুযোগ আছে, একজন সরকারি তার পদ পদবী অনুসারে সরকারি অর্থ ও নানান সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার রাখেন।সে অনুসারেই এই এক কোটি টাকার হিসাব অবশ্যই দেয়া হবে।কিন্ত এই অধিকার বা এন্টাইটেলমেন্ট বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের সৃষ্ট,যা তারা করেছিলো এদেশের মানূষকে শোষন করে তাদের লোক বা তল্পিবাহকদের স্বার্থ বিবেচনায়।এর পরেও শাসকশ্রেনীর স্বার্থ রক্ষাই প্রাধান্য পেয়েছে এবং সে আলোকেই সরকারি সব ভোগবিলাশ বা এন্টাইটেলমেন্ট ঠিক করা হয়েছে।

এই অবস্থার অর্থাৎ সরকারি সব ভোগবিলাশ বা এন্টাইটেলমেন্টের আওতা বা নীতিমালার পরিবর্তন করে,বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা পুননির্ধারিত করা দরকার।দুনিয়ার দরিদ্রতম এদেশটির আরো হতদরিদ্র মানূষগুলোর,এতো ব্যয়বহুল প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী,এতো ব্যয়বহুল সরকারি কর্মকর্তা পোষার সাধ্য কতটুকু আছে-তা গুরুত্বের সহিত অনুধাবন করা দরকার।যারা তাদের পদ পদবীর প্রাপ্যতা বা এন্টাইটেলমেন্টের সুযোগ নিয়ে, এ দেশের হতদরিদ্র মানূষের ঘামে ভেজা টাকায় যারা কথায় কথায় দলবল নিয়ে অহরহ দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন,নামী-দামী হোটেলে ভোগবিলাশে দিন কাটাচ্ছেন,বদলিজনিত কারনে কোটি টাকা(!)অগ্রীম নিয়ে নিচ্ছেন,কোটি টাকার গাড়ী হাকাচ্ছেন এবং রাজকীয় সুযোগ-সুবিধায় জমকালো বাড়িতে থাকছেন-তাদের মনে রাখা দরকার যে,তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী,বাংলাদেশের মন্ত্রী এবং বাংলাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারী।