ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজকের(১৮/১০/১১)প্রথম আলোর উপসম্পাদকীয় কলামে,জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক “এর নামই কি দিনবদল?”শীর্ষক লেখাটিতে,প্রসঙ্গক্রমে এক জায়গায় উল্ল্যেখ করেছেন-“বেগম জিয়া গনতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক যোগ্যতা অর্জন করে নিয়েছেন।শেখ হাসিনাও দশকের পর দশক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতায় নিজেকে ঋদ্ধ করেছেন”।জনাব আনিসুল হকের অতি সুন্দর বক্তব্যপ্রধান লেখটির এই অংশটুকু প্রশ্নবিদ্ধ।

শেখ হাসিনা এবং বেগম জিয়ার মাঝে রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রাজ্ঞতা ও যোগ্যতার অভাব প্রকট।কোনদিনই ছিলোনা আর কোনদিন তা হবেওনা।তাদের আচার-আচরন,কথা-বার্তা,বক্তব্য-মন্তব্য,সিদ্ধান্ত-কর্মকান্ড ইত্যাদির দৈন্যতাই ইহার প্রমান। তাদেরকে অতিমাত্রায় যোগ্য, প্রাজ্ঞ, দক্ষ এবং আত্বম্বরী-আত্বপ্রচারী করে তুলেছি আমরাই-‘সীমাহীন তোয়াজ-চাটুকারিতা ও মোশাহেবি তথা “চমৎকার!চমৎকার সে হতেই হবে,হুজুরের মতে অমৎকার” মার্কা আমাদের বহুল কথিত এবং বিতির্কিত গুনাবলীর প্রয়োগের দ্বারা। শুধু শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াই নন,একই কারনে তাদের পুত্রকন্যারাও(সে তারা নবাগত,অশিক্ষিত,কমশিক্ষিত,জনবিচ্ছিন্ন,চরম দূর্নীতিবাজ,লেবেন্ডিসমার্কা ইত্যাদি যাই হোকনা কেন)আমাদের কাছে,সমগ্র জাতির এমনকি সারা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে যোগ্যতম,দক্ষতম,প্রাজ্ঞতম,তথা দেব-দেবীতুল্য কোনপ্রকার তুলনাহীন এবং অসমান্তরাল ব্যাক্তিত্ব-নেতৃ্ত্ব-তারুন্য ইত্যাদি বিশেষ।

কিন্ত বাস্তবতা হলো আমাদের এই দুই নেত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া – একজনের পাশ থেকে “বঙ্গবন্ধু কন্যা”,আর একজনের পাশ থেকে,আওয়ামী বিদ্বেষ-আওয়ামী বিরোধীতার জন্য যুৎসই অবলম্বনের কারনে জনপ্রিয় হয়ে উঠা “এদেশের প্রথম সামরিকশাসক জেনারেল জিয়ার নাম”-এই বিশেষন দুটি বাদ দিলে,তাদের যা অবশিষ্ট থাকে,তা আওয়ামীলীগ-বিএনপি’র মতো দলের নেতৃ্ত্ব এবং একটা দেশের প্রধানমন্ত্রীত্বের জন্য নিতান্তই বেমানান।শিক্ষায় দীক্ষায়,যোগ্যতায়,দক্ষতায়,জ্ঞানে-প্রাজ্ঞতায়,বলিষ্টতা-দৃঢ়তায় এবং নেতৃ্ত্বের গুনাবলীতে,তাদের এবং তাদের পূত্র-কন্যাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ওজনদার অসংখ্য মানূষ এবং তারুন্য আমাদের আছে।তাদের আশে-পাশেও অনেক আছে।সুযোগ পেলে যারা এতোদিনে দেশের চেহারাটা পালটে দিতে পারতো।চরম দু্ভাগ্য আমাদের,আমরা আমাদের সেই যোগ্যতম মানূষ গুলিকে খোঁজে নিতে পারছিনা,কাজে লাগাতে পারছিনা।অন্ধের মতো আবিষ্ট হয়ে আটকে আছি এই দুইজনের খেয়াল খুশি ও মর্জির ওপরে।