ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১)“আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি,যুদ্ধ করেছি আমরা,বিএনপি’র নেতারা”- তো বেগম জিয়া আবার মুক্তিযুদ্ধ করলেন কবে এবং কিভাবে!!বারবার মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর ডাক উপেক্ষা ও অগ্রাহ্য করে,তিনিতো মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস আরাম আয়েসে কাটিয়েছেন ক্যান্টনমেন্টে হানাদার পাকসেনাপতিদের আদর আপ্যায়নে এবং ভোগ-বিলাসে।যুদ্ধ করেছে বিএনপি’র নেতারা?এরা কারা?শাহ আজিজ,বিচারপতি সাত্তার,মুস্তাফিজুর রহমান,আঃআলীম,মাওলানা মান্নান,আঃরহমান বিশ্বাস,মশিউর রহমান,সাকা চৌধুরী,ফজলুর রহমান সুলতান গং বিএনপি’নেতারা?আর সেই ৭১ এ বিএনপি বলে কেউ বা কোন কিছূ ছিলো না কি?স্বয়ং বিএনপি’র জন্মদাতা জিয়াউর রহমান সহ,পরবর্তিতে যে সমস্ত সন্মানিত মুক্তিযোদ্ধা,হিংসা-বিদ্বেষ-স্বার্থচিন্তা সহ নানান সমীকরনে বিএনপিতে নাম লিখিয়েছেন,তারা সবাইতো মুক্তিযুদ্ধ করেছেন আওয়ামীলীগেরই ডাকে,আওয়ামীলীগেরই নেতৃ্ত্বে এবং বঙ্গবন্ধুর নাম ও জয়বাংলা শ্লোগান কন্ঠধ্বনিতে।

২)“আওয়ামীলীগ ছিলো ওপারে।যারা রনাঙ্গনে যুদ্ধ করেছে তারাই প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধা।তাই বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল,মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি”-বেগম জিয়া একজন সেনানায়কের স্ত্রী।তার খুব ভাল করেই জানার কথা,যুদ্ধের যারা নেতৃ্ত্ব দেয় তারা বেগম জিয়ার কথিত ‘ওপারেই’ থাকে, কোনদিন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকেনা।বাইরে থেকেই তারা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়,যুদ্ধ পরিচালনা করে।বেগম জিয়া যেহেতু ক্যান্টনমেন্টে হানাদার পাকসেনাপতিদের আদর আপ্যায়ন ও ভোগ-বিলাস পরিত্যাগ করে তার কথিত ‘ওপারে’ যাননাই, তাই তার এই ‘ওপার’ এলার্জি ও বিদ্বেষজ্বালার কারন।

আর আগেই উল্লেখিত হয়েছে যে,হিংসা-বিদ্বেষ-স্বার্থচিন্তা এবং দেনা-পাওনা সহ নানান সমীকরনে,নানান সময়ে অনেক সন্মানিত মুক্তিযোদ্ধার সমাবেশ বিএনপিতে ঘটেছে(যাদের অনেকেই “কালুরঘাট বেতারে মেজর জিয়ার ২৭ মার্চ সন্ধার ভাষন বা ঘোষনা পাঠ ২৬ মার্চেই(?),কার আগে কে শোনেছেন”-কোমর বেন্ধে এমন তোয়াজ-চাটুকারিতার প্রতিযোগিতাতেও লিপ্ত হয়েছেন)সত্য,কিন্ত একথাও সত্য যে দলে কিছু মুক্তিযোদ্ধা থাকলেই,মুক্তিযোদ্ধাদের দল বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়ে যায়না।ভারতের বিজেপি একটি চরম মুসলীম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক দল।সে দলেও কিন্ত অনেক মুসলমানের সমাবেশ ছিলো এবং আছে।একসময়ে দলটির মহাসচিবের পদেও ছিলেন একজন মুসলমান।কংগ্রেসের প্রতি বিদ্বেষগত কারনে,একসময়ে অনেক প্রগতিশীল রাজনীতিক এমনকি অনেক মুসলমান ধর্মীয় নেতাদের সমর্থনও পেয়েছিলো,এই চরম সাম্প্রদায়িক চরিত্রের এই দলটি।কিন্ত তাই বলে বিজেপি’র চরিত্র-চেতনার এ্কটুও যেরফের হয়নাই।বিজেপি কোনদিন অসম্প্রাদায়িক বা মুসলমানের দল হয়ে যায়নাই।বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মুক্তিযোদ্ধার সমাবেশ চরম বিতির্কিত জামায়াতেও ঘটতে পারে।তাই বলে জামায়াত কি কোনদিন মুক্তিযোদ্ধাদের দল বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হয়ে যাবে?

৩)যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে, বিচারের নামে প্রহসন এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো সকল গ্রেফতারকৃ্ত যুদ্ধাপরাধীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবির সাথে,আরো একধাপ এগিয়ে বেগম জিয়া বললেন-“যুদ্ধাপরাধের মিথ্যা মামলা দিয়ে জামায়াত নেতাদের আটক করা হয়েছে,এরা স্বাধীনতা বিরোধী নয়।আওয়ামীলীগই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি(?)”-যার মাধ্যমে ৭১ এর কুখ্যাতদের বিচারের বিরুদ্ধে বেগম জিয়া তার এবং তার দলের অবস্থানকে আরো পরিস্কার করলেন।উল্লেখ্য ইতিপূর্বেও,বঙ্গবন্ধুর বর্বর খুনীদের বিচারের বেলাতেও বেগম জিয়া-ওরা(আওয়ামীলীগ) কিসের বিচার করবে(তুচ্ছ্য-তাচ্ছিল্য করে)?,বরং সিরাজ সিকদার হত্যা,লিপি হত্যা সহ আরো অনেক হত্যার জন্য ওদেরই বিচার করবে,এটা বিচারের নামে প্রহসন,এরা প্রকৃত খুনী নয়,প্রকৃ্ত খুনীরা তাদের(আওয়ামীলীগের)আশেপাশেই আছে,এ বিচার আমরা মানিনা,আমরা ক্ষমতায় গেলে,নতুন করে প্রকৃ্ত খুনীদের বিচার করবো,ইত্যাদি অনেক বিদ্বেষ ও গাত্রদাহ মূলক বক্তব্য-মন্তব্যের দ্বারা,সেই বিচারের বিরুদ্ধাচরন করে খুনীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

৪)“পদ্মা সেতুর সব টাকা ওরা খেয়ে ফেলেছে,দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করছে”-দুর্নীতির আভাষ পেয়ে পদ্মা সেতুর কোন টাকাইতো এখনো ছাড় করা হয়নি।যার জন্য সব আটকা পড়ে গেছে।সুতরাং পদ্মা সেতুর সব টাকা ওরা খেয়ে ফেলা হলো কিভাবে?আর এ সরকারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে সত্য,কিন্ত দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করার মতো কোন অভিযোগের বাস্তবতা এখনো আছে বলে দেশের মানূষ বোধ হয় মনে করেনা।এ অভিযোগ খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে।যার অনেক কিছুই ইতিমধ্যেই প্রমানিত।এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়া মনে হয় আয়নায় দেখা নিজেদের মূখোশটাই অন্যের মূখেও পরিয়ে দেয়ার অপপ্রয়াশ চালালেন।
এ ছাড়াও “ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বলতে কিছুই নেই,পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন অন্য দেশের(মানে ভারতের)নিয়ন্ত্রনে(?),প্রধানমন্ত্রীর দেশপ্রেম নেই-তার পরিবারের সদস্যরা(?) বিয়ে করেন বিদেশি,দেশের মানূষ ডাষ্টবিনের খাদ্য খায়, সেই ২৫ বছরের গোলামী(?)চুক্তির ভাংগা রেকর্ড,হিন্দুদের উদ্দেশ্যে ‘একবার বিএনপিকে ভোট দিন-আপনাদের সন্মান দেব,নিরাপত্তা দেব(বিএনপিতো অনেকবারই ক্ষমাতায় ছিলো,তখন কি তাহলে হিন্দুদের সন্মান-নিরাপত্তা দেয়া হয়নাই?)” ইত্যাদি ধরনের অনেক সস্তা-মামুলি ভারতবিদ্বেষী,হালকা,ভিত্তিহীন-অবাস্তব,বিদ্বেষ ও উস্কানিমূলক কথা ও বেগম জিয়ার বক্তব্যজুড়ে প্রাধান্য পেয়েছে।

আসলে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি,একটি জনসমর্থিত দাবি।সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এদেশে তত্বাবধায়ক সরকারের দরকার এবং তা আরো বহুদিনের জন্য।এদেশের সিংহ ভাগ মানূষ এমন মতামতই পোষন করে।বিরুধীদলের নেতা হিসাবে বেগম জিয়ার বক্তব্যে সরকারের,সমালোচনা থাকবে,সরকারের ব্যার্থতার কথা থাকবে,নানান দাবি ও সতর্কবাণী থাকবে,সরকারের প্রতি হুমকি যেমন থাকবে,জনকল্যানে পরামর্শও তেমনি থাকবে-কিন্ত তা বাস্তব নির্ভর,যুক্তিশীল,শালীন,যথাযথ গুরুত্ববাহী এবং কোন প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ-উস্কানি বিবর্জিত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।বিশেষ করে বিএনপি’র মতো একটি দলের প্রধান এবং বিরুধীদলীয় নেত্রী,বেগম জিয়ার মতো একজনের বক্তব্য-মন্তব্য-যিনি ছিলেন বিগত দুই দুই বারের প্রধানমন্ত্রীও।বিএনপি’র অন্য নেতা-পাতিনেতারা কে কি বললো তাতে কিছু আসে যায়না কিন্ত স্বয়ং বেগম জিয়ার বক্তব্য-মন্তব্যের একটা মাত্রাজ্ঞান থাকা অবশ্য প্রয়োজনীয়।

তাই বিপুলজনসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য, বেগম জিয়াকে তার বক্তব্যে-মন্তব্যে যথাযথ শালীনতা,যুক্তিনির্ভরতা,বাস্তবতা ও দায়ীত্বশীলতার পরিচয় দেয়া দরকার।এর অন্যথায় শুধু বেগম জিয়াকেই হালকা করে দিবেনা, গুরুত্বহীন করে দিবে জনসমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলনকেও।