ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

লিবিয়ার ৪২ বছরের স্বৈরশাসক গাদ্দাফির পতন হলো। ৪২ টা বছর ধরে এই সৈরশাসকের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে নিস্পেষিত ছিলো লিবিয়ার জনগন। তার পরে তার মতোই দেশটির একচ্ছত্র ক্ষমতার মালিক হবে তার পুত্র-কন্যারা-সে ব্যাবস্থাও পাকাপোক্ত করেছিলেন এই স্বৈরশাসক অত্যন্ত্য শক্ত ও নিপুনহাতে।যার দরুন লিবিয়ার মানূষ যতটুকুনা ফুঁসে উঠছিলো বৎসরের পর বৎসর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা গাদ্দাফি এবং তার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে, তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি জ্বলে উঠছিলো দেশটির ভবিষ্যত কর্নধার হিসাবে আত্নপ্রকাশ করা তার পুত্রদের বিরুদ্ধে। টিভি পর্দায় গাদ্দাফি পুত্রদের মূখ দেখলেই,দেশের মানুষ ক্ষোভে-আক্রোশে ফেটে পড়তো এবং চিৎকার করে “Who are you?” বলে টিভির পর্দায় জুতার পর জুতা নিক্ষেপ করে ভিতরে জমাট বাধে ক্ষোভের বিস্ফোরন ঘটাতো।এবারের গনজাগরনের সূচনাপর্বে লিবিয়াতে থাকা অবস্থায়,এমন চিত্র আমি নিজে দেখেছি।যার ফল চূড়ান্তে গাদ্দাফি এবং তার পুত্রদের এই করুন পরিনতি।একই কারনে একই করুন পরিনতি হয়েছে মিশরের হোসনি মোবারকেরও।যার কারনে হোসনি মোবারকের আগে তার পুত্রদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।এবং একই পরিনতি ধেয়ে আসছে সিরিয়ার বাসার আল আসাদের বেলাতেও।

এই আলোকে আমাদের অবস্থাটা কি-তা বিশ্লেষনের দাবি রাখে।গনতান্ত্রিকতার আবরনে ঘুরেফিরে এক ব্যাক্তির একক ইচ্ছা-অনিচ্ছা,পছন্দ-অপছন্দ তথা এক ব্যক্তির স্বৈরতন্ত্রই ঝেঁকে বসেছে আমাদের ওপরও।যার বা যাদের পরে ধেয়ে আসছে তাদের পুত্র-কন্যা তথা উত্তরাধিকারের শাসনও।সুতরাং তথাকথিত গনতন্ত্রের ঝান্ডাবাহী আমাদের যারা,মিশর-লিবিয়া বা ধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির গনজাগরনের দৃষ্টান্ত টেনে যার যার প্রতিপক্ষকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন,তাদের প্রতি অনুরোধ,আগে নিজাদের চেহারাটা আয়নায় দেখুন।মনে রাখ দরকার,কিছু চাটুকার,সুবিধাবাদি এবং স্বার্থান্বেষী ছাড়া, কোন দেশের মানূষই কোন একজনকে বৎসরের পর বৎসর ধরে ক্ষমতায় দেখতে চায়না।সে যত ভালো শাসকই হোকনা কেন।আর পুত্র-কন্যা-উত্তরাধিকারের শাসন একেবারেই পছন্দ করেনা।নীরবে বিক্ষুব্দ হয় এবং জমাট বাধা ক্ষোভের একদিন বিস্ফোরন ঘটে। যেমনটি ঘটেছে মিশরে-লিবিয়াতে।