ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১)৭১ এর কুখ্যাত পরাজিতদের সাথে নিয়ে,বর্তমান মহাজোট সরকার এবং আওয়ামীপক্ষের বিরুদ্ধে,খালেদা জিয়ার যুদ্ধ ঘোষনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশব্যাপী বিরুপ সমালোচনার প্রেক্ষিতে,শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে,বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন-খালেদা জিয়া নাকি যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন,যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিচ্ছেন-তাদের বিরুদ্ধে।মির্জা সাহেবদের এই মুখস্থ বুলি ও ভাংগা রেকর্ড আর কত শুনবে দেশের মানূষ?যা তারা তাদের সুবিধামতো বলে যাচ্ছেন সেই অনাদিকাল থেকে।স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কি বেচার মতো কোন জিনিষ?কার কাছে কোথায় এবং কিভাবে বেচা হচ্ছে এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব?

২)“সংবিধান ডাষ্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হবে”-এমন বক্তব্যের কারনে অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনীর পক্ষে পক্ষে দাঁড়িয়ে,মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্ন রাখেন -“আমিনীর মতো একই বক্তব্যতো ডঃ কামাল এবং শাহদিন মালিকরাও দিয়েছেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছেনা কেন?”।না জনাব মির্জা সাহেব,ডঃ কামাল এবং শাহদিন মালিকরা আমিনীর মতো-“সংবিধান ডাষ্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হবে” এমন কথা বলেননাই।তারা বলেছেন কেবল সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে।তবে খালেদা জিয়া আমিনীর মতোই সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার কথা বলেছেন।যা কিন্ত আপনি বলেননাই।

৩)মির্জা সাহেবরা অহরহ আরো বলেই চলেছেন-স্বাধীনতার পর আওয়ামীলীগই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করানাই,বরং যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়েছে,যুদ্ধাপরাধী পাকসেনাদের ক্ষমা করে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছে ইত্যাদি অবাস্তব,অসত্য এবং কুমতলবি কথাবার্তা।স্বাধীনতার পর আওয়ামীলীগের ক্ষমতার কাল-মাত্র সাড়ে তিন বৎসর সময়,তখনকার সে অবস্থায়,কতটুকু সময় মির্জা সাহেব?পরবর্তিতে স্বাভাবিক অবস্থায় মাত্র সাড়ে তিন বৎসর সময়ে আপনারা কি কি বা কতটুকু করতে পেরাছেন মির্জা সাহেব?এর পরেও ৭১ এর ঘাতক দালালদের বিচার কাজ শুরু করা হয়েছিলো এবং চলছিলোও।যা জিয়াউর রহমান ক্ষমতা কুক্ষিগত করে সব বন্ধ করে দেন।শুধু তাই নয়,চলমান সে বিচারের সকল আইনও জিয়াউর রহমান বাতিল করে দেন।যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে এমন কাউকে কোনদিনই ক্ষমা করে দেয়া হয়নাই।কুমতলবি এই অসত্য আর বিকৃ্ত অপপ্রচার আর কতকাল করবেন মির্জা সাহেব?আর পাকিস্তানি সেনাদের ক্ষমা করে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া?কেন তা করতে হয়েছিলো,না করলে এর ফল কি হতো,সেই কঠিন বাস্তবতাকে ইচ্ছাকৃ্তভাবে পাশ কাটিয়ে মির্জা সাহেবরা যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচারের ব্যাপারে দেশের মানূষকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশলে লিপ্ত হয়েছেন।