ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার বিস্ময়কর উক্তি-“ আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি” প্রসঙ্গে জনাব মাহ্ফুজ আনাম তার এক লেখায় প্রসংক্রমে বলছেন,“এটা অবশ্য সত্য যে দেশজুড়ে যে লাখ লাখ লোক মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, তারা সবাই আওয়ামী লীগ করত না”-এ কথাটার মধ্যেও রয়েছে সুক্ষ আওয়ামী বিরোধিতার ছোঁয়া।কেননা ১৯৭০ এর নির্বাচনে ৮৭% ভোট ছিলো আওয়ামীলীগের।বাদবাকি ১৩% ছিলো অন্যান্য সব দলের।এই ১৩% এর একটা সামান্য অংশ ছিলো চির আওয়ামীবিরোধী বাম-অতিবাম প্রগতিশীল শক্তি,যার একাংশ যার যার অবস্থান থেকে,যার যার মতো করে,ক্ষেত্র বিশেষে আওয়ামী বিরোধিতা বজায় রেখেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলো,আর একাংশ বিশেষত তাদের চির আওয়ামীবিদ্বেষের কারনে অবস্থান নিয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে।এর বাইরে এই ১৩% এর বেশিরভাগটাই ছিলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী শক্তি।

সুতরাং বলা যায়,স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের বাদে,যৎসামান্য একটা অংশ ছাড়া,তখন প্রায় সমগ্র জাতিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ছিলো আওয়ামীলীগেরই পতাকা তলে।এবং যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল,তারা প্রায় সবাই ছিলো এই ৮৭% বাঙালি জনতারই অংশ।পরবর্তিতে কালের চক্রে অতি স্বাভাবিক নিয়মে,নানান কারনে,নানান সমীকরনে নতুন নতুন দলের সৃষ্টি হয়েছে,আমরা অনেকেই জাসদ-বাসদ হয়েছি,বিএনপি হয়েছি,জাতীয় পার্টি হয়েছি,কিন্ত ৭১ এর সেই সময়ে সমগ্র জাতিই ছিলো আওয়ামীলীগ,সমগ্র জাতিই ছিলো আওয়ামীলীগের পতাকাতলে। এমন কি পরবর্তিকালের জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়াও পরোক্ষভাবে হলেও ছিলেন আওয়ামীলীগের ঘরানার মানূষ।এই বাস্তবতাকে,এই চরম সত্যটাকে স্বিকার করার মধ্যে দোষের বা আত্নহানির কিছু নাই।এর জন্য সবসময়ের জন্য বা বর্তমানেও আওয়ামীলীগ হওয়ার দরকারও নাই।তখনকার প্রয়োজনে এবং বাস্তবতায় আমরা সবাই আওয়ামীলীগার ছিলাম বলে,চিরকালই আমাদের সবারই আওয়ামীলীগের হয়েই থাকতে হবে এমন কোন কথাও নাই।এই সত্যটাকে পাশ কাটিয়ে বা অস্বিকার করে-“আওয়ামীলীগ একা মুক্তিযুদ্ধ করেনাই,যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তারা সবাই আওয়ামীলীগ করতোনা বা আমি/আমরা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ করিনাই”-এমন করে বলা একধরনের আত্বপ্রবঞ্চনারই শামিল।