ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

পালিত হলো শোকাবহ জেলহত্যা দিবস।এই একটি দিন বাদে কতটুকু স্মরন করি আমরা, কারাগারের বন্দি অবস্থায় নির্মম হত্যার শিকার,মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী ৪ জাতীয় নেতাকে?আমরা কি জানি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এর জন্মদিন কবে? আমরা কি খোঁজ রাখি বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান এর জন্মদিন কবে? না, জানি না। খোঁজও রাখিনা। স্বাধীনতা পরিচালনাকারী তাদের দল আওয়ামীলীগ ও খোঁজ রখেনা। খুব একটা গায়ে মাখেনা। মনেও করেনা। এইতো কিছুদিন আগে পার হয়ে গেলো তাজুদ্দিন আহমেদ এর জন্মদিন। কেবল মাত্র ২/১ টি গনমাধ্যমের কোনায়-কানায় ছাড়া,কোথাও স্মরন করতে দেখা যায়নি মহান এই জাতীয় নেতাকে।জাতীয়ভাবেতো নয়ই, দলীয় ভাবেওনা। অথচ এই আমরাই কতজনের, এমনকি কতজনের পুত্র-কন্যা,নাতি-পুতিদেরও জন্মদিবস,বিদেশ ফেরত দিবস, গ্রেফতার দিবস,মুক্তদিবস,ইত্যাদি কত কিসিমের দিবসে কত মাতামাতিই না করি! কত রং-বেরং এবং আকারের কেক কাটা ও সভা-সেমিনারে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হই। নানান স্বার্থচিন্তায় আমাদের গনমাধ্যমগুলিকেও,এই হীন চাটুকারীতার প্রতিযোগিতায় শামিল হতে দেখা যায়!

এই যে কিংবদন্তিতুল্য জননেতা আব্দুর রাজ্জাক,বিদেশের হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন,এ প্রসঙ্গে কোন খোঁজ-খবর নাই আমাদের গনমাধ্যমগুলিতে।তেমন কোন উদ্দ্যেগ-উৎকন্ঠা নাই তার প্রানের দল আওয়ামীলীগেও।আজ যদি ওপরে কথিত ‘কতজন’ বা তাদের পুত্র-কন্যা,নাতি-পুতিদেরও কেউ আব্দুর রাজ্জাকের জায়গায় হতেন,তাহলে এর উদ্দ্যেগ-উৎকন্ঠাতে জাতীয় সব কিছু স্থবির হয়ে যেতো,গনমাধ্যমগুলির সিংহ ভাগ স্থায়ী বরাদ্দ হয়ে যেতো।কথিত সুশীল সমাজেরও অনেকেই,লোক দেখানো হলে,খাওয়া-পানি ছেড়ে দিতো।এইতো আমরা!এই আমাদের জাতি!মনে হলে মর্মপীড়নে জর্জরিত হওয়া ছাড়া উপায় থাকেনা।