ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নাসিক নির্বাচনে, নির্বাচন কমিশনের চাওয়া মোতাবেক সেনাবাহিনী না দেয়া প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার এক বক্তব্যে বলেছেন-“নারায়নগঞ্জে কি এমন ঘটেছে যে,সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে?২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার,প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছে সেনাবাহিনী চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন।কিন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়নি।তখন কি সংবিধান লঙ্গন করা হয়নি?”(সূত্র প্রথম আলো ০৪/১১/১১)-হ্যাঁ হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।নির্বাচন কমিশনের চাওয়া মোতাবেক সেনাবাহিনী না দিয়ে, সেবার খালেদা জিয়া সংবিধান লঙ্গন করেছিলেন এবং এবারে আপনার সরকারও একই প্রসঙ্গে একই ভূমিকা রেখে একইভাবে সংবিধান লঙ্গন করেছেন।

আর ‘কি এমন ঘটেছে কি ঘটছেনা’,নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন আছে কি নাই’-সে চিন্তা,সে বিবেচনা করবে নির্বাচন কমিশন,প্রধানমন্ত্রী বা তার সরকার নয়। নির্বাচন কমিশন চাইলে,নির্বাচন কমিশনের চাওয়া মোতাবেক সেনাবাহিনী দিতে হবে,ইহাই সংবিধান।আর না দিলে সংবিধানের লঙ্গন –ইহাই সংবিধানের কথা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরো বলেছেন -“খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন সেনাবাহিনী যেন ভোট চুরি করে তাদের জিতিয়ে দেয়”।এই মর্মে তিনি(প্রধানমন্ত্রী)খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন যে-“আপনি কি সেনাবাহিনীকে ভোটচুরির কাজে ব্যাবহার করতে চান?সেনাবাহিনীর কাজ কি ভোট চরি করা?”। এই কথাগুলি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য মোটেই মানানসই হয়নি। একথাগুলি তিনি এভাবে না বললেই ভাল করতেন।কথায় কথায় একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের মতো একটি দলের দলীয় প্রধেনের বক্তব্যে,তার প্রতিপক্ষের প্রতি “চোর” “চুরি” এই শব্দগুলির ব্যাবহার, মনে হয় মানূষ ভালভাবে নেয়না।
আসলে সব ব্যাপারেই কথা বললে,বেশি কথা বললে,কথার মাঝে নিজের অজান্তে হলেও, অনেক অবান্তর,অপ্রসঙ্গি্ক,বিতর্কিত বা প্রস্নবিদ্ধ অনেক কিছুও এসে যায়।এসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।কথায় কথায় একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগের মতো একটি দলের দলীয় প্রধেনের বক্তব্যে “চোর” “চুরি” এই শব্দগুলি মনে হয় মানূষ ভালভাবে নেয়না।তাই অনেক আগে থেকেই মাননীয়া শেখ হাসিনার প্রতি,তার হিতাকাংখী অনেকেরই অনেক অনেকবারের পরামর্শ ছিলো, ‘কম কথা বলা,সব ব্যাপারে নিজে কথা না বলা এবং যেখানে না বললেই নয়,সেখানে লিখিত এবং পরিকল্পিত কিছু বলা’। একটি কমখ্যাত সাপ্তাহিকীতে, আমার নিয়মিত কলামে শেখ হাসিনার প্রতি বিনয়ের সহিত এমন অনুরোধ,আমি নিজেও অনেক অনেকবার রেখেছি। তিনি তা আমলে নিলে ভাল করতেন।যে কোন ব্যাপারে স্বয়ং দলীয় প্রধান-স্বয়ং সরকারপ্রধান(যার পরে আর নাই)জড়িয়ে যাওয়ার মতো,অনাকাংখীত এবং বেমানান অনেক বিতর্ক ও ব্যাপার গুলি এড়ানো যেতো বা সৃষ্টিই হতোনা।যা অনেক সময়েই শুধু তার(শেখ হাসিনার)নিজেরই নয়,তার হিতাকাংখীদের তথা তার দলের ভাবমূর্তির জন্যও বিব্রতরতার এবং ক্ষতির কারন হয়েছে।