ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
index

সুলেখক জনাব সোহরাব হাসান  প্রথম আলোতে (১২-১১-২০১১), তার এক লেখায় প্রসঙ্গক্রমে এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন-“বিএনপি একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।আওয়ামী লীগ এরশাদকে নিয়ে মহাজোট করেছে।একদল পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে, আরেক দল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে”-এই কথাগুলির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এক কাতারে এবং এরশাদের জাতিয় পার্টিকে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের কাতারে দাড় করিয়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এক কাতার এবং এরশাদের জাতিয় পার্টি ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের এককাতারভূক্ত করে,জনাব সোহরাব হাসান এর আগেও তার অনেক লেখায় একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। আসলে কি তাই? স্বৈরাচার এবং স্বৈরাচারী অতীতের কথা বলা হলে,জিয়াউর রহমান এবং বিএনপি আর এরশাদ এবং জাতিয় পার্টির মধ্যে তফাৎটা কোথায়? (এরশাদের কিছু ব্যক্তিগত অপগুনাগুন ছাড়া)। এই বিবেচনাতে বিএনপিকে ছাড় দিয়ে “একদল পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, আরেক দল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে”-এমনভাবে সরলিকরনের অবকাশ কোথায়?

একই পটভূমি, একই অতীত, একই চরিত্রের বিএনপিকে হালাল করে নিলে,এরশাদ এবং তার দলের সাথে গাঁটছড়া বাঁধা বা হাত মিলানো দোষের হয় কোন যুক্তিতে?এরশাদ এবং তার দলকে,একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সাথে এককাতারভূক্ত করা হয় কি করে? যে যে কারনে এরশাদ স্বৈরাচার এবং এরশাদের দল স্বৈরাচারের দল, সে সে একই কারনে জিয়াউর রহমান স্বৈরাচার এবং তার দল স্বৈরাচারের দল নয় কেন? দুনিয়ার সব সামরিক শাসক খারাপ,সব সামরিক শাসক স্বৈরাচার,এরশাদও স্বৈরাচার-কেবলমাত্র একজন (জিয়াউর রহমান) বাদে-এমন স্ববিরোধি চিন্তা ধারনা আমাদের রাজনীতির অনেক ক্ষতি করেছে,রাজনীতিকে বিষাক্ত করেছে।এমন স্ববিরোধি ধারনা থেকে আমাদের বের হয়ে আসা উচিৎ।