ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

খবরে প্রকাশ “দেশ এখন অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় পতিত।যার কারনে জ্বালানী তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া কোন উপায় ছিলোনা”।পরিস্থিতি মোকাবেলায় ওদিকে আবার টায়ার-টিউব ও গাড়ির যন্ত্রাংশের কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।এখন প্রস্ন হলো- টায়ার-টিউব ও গাড়ির যন্ত্রাংশের কর কমানোতে সরকারের যে অর্থের ক্ষতি হলো,তা কি জ্বালানী তেলের ভূর্তকিতে দেয়া যেতোনা?তাহলেতো আর জ্বালানী তেলের দাম না বাড়ালেওতো চলতো।

আর হটাৎ করে দেশের এই অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কেন? এর জন্য কি এবং কারা দায়ী? এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক অযাচিত এবং অপরিনামদর্শী খরচ-যা নিয়ন্ত্রন করা গেলে সৃষ্ট এই দুরাবস্থা হয়তো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রনে থাকতো।উদাহরনসরুপ বিদেশ সফরের কথা বলা যায়।সব আমলেই দেখা গেছে,সরকারের কর্মচারী-কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাংসদ-মন্ত্রী-স্পীকার এমনকি খোদ প্রধান্মন্ত্রী পর্যন্ত দলবল নিয়ে,কারনে অকারনে,নানান ছলছূতায় রাষ্ট্রীয় অর্থে্র অপচয়ে বিদেশ সফরের হিড়িক ফেলে দেন।বিগত আমলের মাননীয় স্পিকার,তার স্ট্যান্ডবাই অবস্থাতেও পরিবার পরিজন নিয়ে বিদেশ সফরে খরচ করেছেন রাষ্ট্রের ৭০/৭৫ লক্ষ টাকা।জমকালো বেশ কয়েকটি কার্যালয়ের খরচ বাদেও,সংসদ ভাষ্য অনুসারে বিগত আমলের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের জন্য রাষ্ট্রকে গুনতে হয়েছে প্রতিমাসে ৫০/৬০ লক্ষ টাকা।

আর এবারের দিন বদলের অঙ্গীকারে ক্ষমতাসীন সরকারের,কর্মচারী-কর্মকর্তা-সাংসদ-মন্ত্রী এবং দলবল সহ খোদ প্রধানমন্ত্রীর,গনমাধ্যম সূত্রে পাওয়া বিদেশ সফরের সঠিক চিত্র,একত্রিত করে প্রকাশ করলে,মনে হয় মানূষের চোখ চড়কগাছ হওয়ার অবস্থা হবে।

খবরে জানা যায়,বিগত আড়াই বৎসরের মধ্যে এই সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী,বিদেশেই কাটিয়েছেন এক বৎসরেরও বেশি সময়।মাত্র কয়েকমাস একজন ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতি-মন্ত্রী।এই কয়েকমাসের মাসের মধ্যেই তিনি সফর করেছেন ৮/৯ টিরও বেশি দেশ।এক সচিবতো এতো বেশি বিদেশ সফরে থাকেন যে,বছর শেষ হয়ে গেলেও তার দায়ীত্বের ফাইলগুলিও সাক্ষর করার সময় তার হয়না।কোন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দেখা যায়, ‘আজকে তিনি লন্ডনে,পরশু মাদ্রিদে এবং এর দুদিন পরে রোমে’।সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির মামলা করতে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে কি লাগবেনা-এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্যও,সরকারি এক প্রতিনিধীদল সফর করেছে বেশ কয়েকটি দেশ!! ঈদের আগে এক নির্বাচন অফিসে গিয়ে জানা গেলো,নির্বাচনী কর্মকর্তা সাহেব আছেন দুই সপ্তাহের জন্য বিদেশ সফরে!শেখ হাসিনার বিগত আমলের কথা।আমার এক পরিচিতজন-সরকারের উপসচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা।তাকে খোঁজলে জানা যেতো তিনি সফরে গেছেন-এ মাসে কেনিয়া,ওমাসে তাঞ্জানিয়া,আর এক মাসে ফিলিপাইনে,অন্য মাসে ভিয়েৎনামে,পরের মাসে ইউরোপের কোন না কোন দেশে।দেশে তাকে পাওয়া ছিলো খুবই দুস্কর।কি এতো কাজ তাদের দুনিয়ার নানান দেশে দেশে?কাজ হয়তো অবশ্যই আছে।কিন্ত সব কাজ যদি আমাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সচিবদের গিয়েই করতে হয়,তাহলে এই গরীব দেশটির এতো মূল্যবান অর্থ খরচ করে পোষা দূতাবাস গুলি কি করে?তাহলে দেশে দেশে এই সব দূতাবাস রেখে লাভ কি?অনেক সময় দেখা যায় যেখানে,দুনিয়ার অন্যসব দেশ থেকে আসছেন,২/৩ জনের দল নিয়ে সচিব পর্যায়ের কোন কর্মকর্তা,সেখানে এক বিরাট বহর নিয়ে গিয়ে হাজির হন আমাদের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।অনেক সময় দেখা যায় একই মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী এবং সচিব উভয়েই একসাথে গিয়ে হাজির হন,তেমন গুরুত্বপূর্ন নয়-বিদেশের এমন কোন আয়োজনে।

এসব বিদেশ সফরকে হালাল করার জন্য যুঁৎসই একটা ব্যাখ্যা সবসময়েই সরকার বা সরকারি সফরকারিরা দাঁড় করিয়ে থাকেন,যেমন দাঁড় করিয়েছেন বিগত আমলের মাননীয় স্পিকার,তার স্ট্যান্ডবাই আমলের বিদেশ সফরের খরচ প্রসঙ্গেও।কিন্ত তারা ভুলে যান যে এটা বাংলাদেশ এবং তারা বাংলাদেশের কর্মচারী-কর্মকর্তা-সাংসদ-মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী।নিতান্তই প্রয়োজন ছাড়া বা তাদের পদপদবির প্রাধিকারের অধিকারে,তাদের এমনতর বিলাশী বিদেশ সফরের ভার বইবার ক্ষমতা এ দেশের মানূষের কোথায়?

লাগামহীন ভাবে রাষ্টীয় অর্থের এমন অপব্যাবহার করলে,অর্থনৈতিক দুরাবস্থাতো হবেই।যার দায় চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের মানূষের ঘাড়ে-জ্বালানী তেলের মূল্য বাড়ানো সহ নানান প্রক্রিয়ায়।প্রস্ন হলো দেশের মানূষ কেন বইবে সরকারের এই অপরিকল্পিত,অপ্রোয়জনীয়,অপরিনামদর্শী এবং অযাচিত খরচের দায়?