ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথের একটি কথা -“যে জাতি তার যোগ্য-মহান সন্তানদের যথাযোগ্য সন্মান-মর্যাদা দেয়না,দিতে জানেনা,সে জাতিতে যোগ্য-মহানদের সৃষ্টি ও জন্ম হয়না”-কথাটা আজকের আওয়ামীলীগের বেলাতে অনেকাংশেই প্রযোজ্য। আজকের আওয়ামীলীগেও, যারা আওয়ামীলীগের প্রান,আওয়ামীলীগের সত্যিকারের নেতা,যাদের সীমাহীন ত্যাগ,জেল-ঝুলুম-নির্যাতন,রাজপথে গরুছাগলের মতো পিটুনি খাওয়া ইত্যাদির বিনিময়ে,আওয়ামীলীগের এই পথচলা, সেই সংগ্রামী, মেধাবী, জননন্দিত, ব্যাক্তিত্ববান, দৃঢ়চেতা এবং যোগ্যতরদের কদর নাই,কোন মূল্যায়ন নাই।। তারা দল এবং সরকারে অবজ্ঞা,অবহেলা ও অবমাননার শিকার।তাদের জায়গায় দলনেত্রী শেখ হাসিনার একক পছন্দে, যে ভূঁইফোড়,অনভিজ্ঞ এবং নানান কারনে বিতর্কিতদের বসিয়ে দেয়া হয়েছে,তাদের অনেকেরই জনমানুষের এমনকি দলীয় কর্মী-নেতাদের কাছেও কোন গ্রহনযোগ্যতা নাই।দলের কোন আন্দোলন-সংগ্রামে জনমানুষের পাশে এদের অনেককেই কেউ কোনদিন দেখেওনাই।তাই দল ও সরকারে শেখ হাসিনা ছাড়া তেমন কোন নেতা নাই। নতুন আর কোন নেতার সৃষ্টিও হয়নাই। সে রকম কোন প্রচেষ্টাও নাই। একদা মোঃ হানিফ ছিলেন ঢাকায় জনমানূষের গ্রহনযোগ্য আওয়ামীলীগ নেতা। যার সুফলও দল পেয়েছিলো। সেই হানিফকেও কোনঠাসা করে রাখা হয়েছিলো,তার বিরুদ্ধে,দলীয়নেত্রীর অতি পছন্দের জন-অগ্রহনযোগ্য এবং বিতর্কিত কিছু নেতাদের আস্কারা দিয়ে। যার জন্য ঈর্ষিনীয় জনপ্রিয় নেতা মোঃ হানিফ ও আর বেশিদূর আগাতে পারেননাই।তার জায়গা পূরনে কোন যোগ্য নেতাও সৃষ্টি করে যেতে পারেননাই। এরপর ঈর্ষনীয় ক্লিন ইমেজ এবং তারুন্য ও ব্যাক্তিত্বের দ্যূতি নিয়ে আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছিল, আর এক নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর। তাকেও পিছনে সরে যেতে হলো,ব্যাক্তিত্বহীন চাটুকারিতার স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে না পারার কারনে। আওয়ামীলীগের অন্তরালের একদার এক বলিষ্ঠজন, শীর্ষব্যাবসায়ী নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টুকেও ধরে রাখতে পারা গেলোনা-কথিত নানান রহস্যজনক কারনে।পরিনামে ঢাকায় ভর করার মতো আওয়ামীলীগের কোন নেতার আবির্ভাব ঘটেনাই।নানান কোটারি স্বার্থ ও অজ্ঞাত কারনে তা হতেও দেয়া হয়নাই।দলনেত্রীর অতি পছন্দের যাদেরকে সামনে দেখা যায়, “জ্বি-হুজুর” মার্কা চাটুকারিতা ছাড়া,ঢাকার মানূষের কাছে তাদের তেমন কোন গ্রহনযোগ্যতা নাই।ভালো নির্বাচনে তাদের অনেকের জামানতও না টিকার সম্ভাবনা আছে। ৭০’এর মতো হুজুগে্র কারনে, বিগত নির্বাচনে অজ্ঞাত-অপরিচিত অনেকেই যারা ঢাকার বিভিন্ন আসনের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন,তারাও রহস্যজনক কারনে ঢাকাবাসির কাছে নন্দিত হয়ে উঠতে পারেননাই।আওয়ামীলীগ প্রধান যাই ভাবুননা কেন,এই হলো ঢাকায় তার দলের অবস্থান ও বাস্তবতা।এই হলো ঢাকায় তার এবং তার অতি পছন্দের নেতাদের সাংগঠনিক সফলতার চিত্র।

সুতরাং ঢাকাকে বিভিক্ত করার পক্ষে সরকার ও সরকারি দলের তরফ থেকে যতকিছুই বলা হোকনা কেন,যে কারনটা রাজধানি বাসি তথা দেশের মানূষের কাছে চাউড় হয়ে আছে,তা হলো – নির্বাচনে বিএনপি’র সাদেক হোসেন খোকা বা আব্দুল আওয়াল মিন্টুর সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করে জিতে আসার মতো,কোন প্রার্থী ঢাকায় আওয়ামীলীগের নাই।যার কারনেই ঢাকা বিভক্তের এই ছলচাতুরি প্রক্রিয়া।ইহা আওয়ামীলীগের মতো একটি দলের জন্য যে কত বড় ধরনের একটা বেদনাদায়ক এবং হতাশার বার্তা,তা আওয়ামীলীগের অর্বাচীন শীর্ষমহলের বোধশক্তিতে না লাগলেও,এদেশের শতকোটি আওয়ামীভক্ত মানুষ, এতে করে চরমভাবে পীড়িত ও মর্মাহত।