ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

-ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুইভাগে ভাগ করা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে, টিভি টকশো তারকা খ্যাত জনাব আসিফ নজরুল,একদিন তার এক মন্তব্যে বলেন –“তাহলে বাংলাদেশের রাজধানীর হবে কোন ঢাকায়? নাকি ‘ঢাকা সমূহ’ হবে আমাদের রাজধানীর নাম?”। এ প্রসঙ্গে একই রকম প্রশ্ন আমাদের আরো অনেক প্রাজ্ঞ জনেরাও তুলছেন। এর উত্তরে স্বয়ং সরকারের প্রধান মন্ত্রী বলেছেন যে-“ঢাকাকে তো ভাগ করা হচ্ছেনা, ভাগ করা হচ্ছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে এবং প্রায় দেড়কোটি মানুষের সেবাদানকে সহজ করার জন্যই তা করা হচ্ছে”। যা হোক ঢাকা ভাগের পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে,যুক্তিও আছে। সেদিকে আমি যাচ্ছিনা। আমি বরং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে বিভক্ত না করারই পক্ষে। লোক সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে বলে,জনসেবাদান সহজিকরনের জন্য ‘ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে বিভক্ত’করতে হবে,তা আমার কাছে খুব একটা গ্রহনযোগ্য যুক্তি নয়। কেননা তাই যদি হবে,তাহলে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনতো ভাগ হয়েই আছে।এখানে ৯০টি ওয়ার্ডে ৯০ জন কমিশনার আছেন। যথাযথভাবে তাদের দায়-দায়ীত্ব ও মর্যাদা বাড়িয়েইতো একাজটি আরো ভালোভাবে করা যায়। তা ছাড়া দরকার হলে উত্তর-দক্ষিনের দায়ীত্বে দুইজন ডেপুটি মেয়রের পদ সৃষ্টিও করা যায়। যা মনে হয় আগেও ছিলো। দেশের লোকসংখ্যাও তো সাতকোটি থেকে বেড়ে ষোল কোটিতে দাঁড়িয়েছে,তাহলে কি একই কারনে আমাদের প্রধানমন্ত্রীও দুই জন হবেন?-অনেকের মতো এ প্রশ্ন আমারো।

আমার কথা হলো, অধ্যাপক আসিফ নজরুলের “ঢাকাসমূহ” নিয়ে। এ প্রসঙ্গে আমার জিজ্ঞাসা, সিটি কর্পোরেশন হওয়ার আগেতো এই ঢাকা বিভক্তই ছিলো-মিরপুর,গুলশান এবং ঢাকা পৌরসভা নামে কয়েকটি ইউনিটে। তখন বাংলাদেশের রাজধানীর নাম কি ঢাকা ছিলোনা? নাকি রাজধানীর নাম বলতে, বলা হতো,জনাব আসিফ নজরুলের কথিত ‘ঢাকা সমূহ’? নাকি ‘মিরপুর-গুলশান-ঢাকা মিলিয়ে কোন কিছু? এইতো কুমিল্লাতেও আছে –কুমিল্লা এবং কুমিল্লা দক্ষিন পৌরসভা।এতে করে কুমিল্লার কি কোন অসুবিধা হয়েছে? বা কুমিল্লাকে মিন করাতে কি ‘কুমিল্লা সমূহ’ বলতে হচ্ছে? অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সৃজনশীল ও সাহসী সমালোচনা আমার খুব পছন্দের। কিন্ত মাঝে মাঝ মনে হয় তিনি,তার কাছ থেকে ‘আমরা যা বা যে রকম আশা করি’ এর বাইরে চলে যান। যা আমাদের নিরাশার কারন হয়ে দাঁড়ায়।