ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বঙ্গবীর খ্যাত কাদের সিদ্দিকী বলেছেন,’খালেদা জিয়া যদি ১৫ আগস্ট তার জন্মদিনের কেক না কাটেন, আর জামায়াতে ইসলামীকে যদি বিএনপির সঙ্গে না রাখেন, তা হলে তিনি নাচতে নাচতে বিএনপিতে যোগ দেবেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী,আপনি অনেক বড় মাপের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।এমনকি শফিউল্লাহ-জিয়াদের চেয়েও বড় মাপের মুক্তিযোদ্ধা। কেননা শফিউল্লাহ-জিয়ারা ছিলেন সেনাবাহিনীর লোক। জাতির সন্ধিক্ষনে জাতির জন্য মরন পন লড়াই করাই ছিলো তাদের দায়ীত্ব।যার জন্যই অনেক মূল্যে তারা লালিত ও পালিত। কিন্ত আপনার মতো যারা স্বেচ্ছায় জাতির সেই ক্রান্তিলগ্নে অশ্র হাতে তুলে নিয়েছেন এবং মরন পন লড়াই করে জাতির স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন,তাদের স্থান যে কোন বিচারে অনেক অনেক উপরে।

আপনার মতো একজন জাতীয় শীর্ষ বীরের যথাযথ সন্মান দিতে আওয়ামীলীগ শুধু ব্যার্থই হয়নাই,অধিকন্তু আপনার সাথে আওয়ামীলীগ এবং স্বয়ং দলীয় প্রধান বিভিন্ন সময়ে যে আচরন করেছেন,তা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সুচিন্তাশীল মানূষকে সাংঘাতিকভাবে মর্মাহত করেছে।কিন্তু এর পরেও আপনার বিরল সন্মান ও মর্যাদা আপনাকেই সুরক্ষা করতে হবে।বাংলাদেশ প্রতিদিনে আপনার লেখায় আপনি “বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সুলভ’ কথা বলেন।খুব ভাল লাগে। খুব গর্ববোধ হয়।কিন্তু মাঝে মাঝে,একসময়ের আপনার প্রানের দল,আওয়ামীলীগ সমন্ধে এমন কিছু বলেন,যা আমাদেরকে আহত করে।আপনাকে আর আলাদা করতে পারিনা।থু থু উপরের দিকে ছুটালে তার অনেকটা নিজের গায়েই পড়ে-এই আপ্তবাক্যটা থেকে আপনার বিচ্যুতি ঘটে বলে।

যাক সে কথা। ৯৬ এর পরে হীনমতলবে সৃষ্ট,খালেদা জিয়ার ভূঁয়া জন্মদিনের উৎসব করা নিয়ে অনেক পরে হলে, আপনি মূখ খুলেছেন,এ জন্য আপনাকে অবশ্যই সাধুবাদ।কিন্তু মনে পরে, এই আপনিই কিছুদিন আগে বললেন-‘১৫ আগষ্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন’, তা নাকি খালেদা জিয়ার ৯১ সালের পাসপোর্টে আপনি নিজে দেখেছেন।তাই যদি হবে তাহলে ৯১ সালে সরকারিভাবে খালেদা জিয়ার জন্মদিন ৫ সেপ্টেম্বার বলা হয়েছিলো কেন? এ নিয়ে এতো এতো বিতর্ক এড়াতে খালেদা জিয়ার সেই পাসপোর্টের কপিটাই বা প্রকাশ করে দেয়া হয়নাই কেন? আর জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে না রাখার কথা ? মনে পড়ে এমন কথা ২০০৬ এ,খালেদা জিয়ার সাথে সংলাপেও আপনি বলেছিলেন।শুধু তাই নয়,সময় বেধে দিয়ে খালেদা জিয়াকে বলেছিলেন,তা নাহলে আপনি এর বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন। কিন্তু খালেদা জিয়া আপনার মাঠে নামার হুমকিকে একটুও পাত্তা দেননাই। এবারো পাত্তা দিবেননা। কারন খালেদা জিয়াদের রক্তে মিশে আছে ৭১ এর পরাজিত শক্তির রক্ত। জামায়াত-শিবির,খালেদা জিয়া-তারেক জিয়াদের মা’র পেটের ভাই।(তারেক জিয়ার কথা)।কথা আরো আছে কেবলমাত্র জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে না রাখলেই হয়ে গেলো? বিএনপি’র মাঝে যে অসংখ্য রাজাকার, স্বাধীনতা বিরুধী এবং তাদের দোসররা একাকার হয়ে ছিলো এবং আছে, তারা কি তাহলে হালাল হয়ে গেলো ? বিএনপিতে নাম লিখালেই কি সব হালাল যায় ? যার জন্য মুক্তিযুদ্ধে জাতির গর্ব,জাতির অহংকার বঙ্গবীর খ্যাত কাদের সিদ্দিকীর মতো মানূষ নাচতে নাচতে বিএনপিতে যোগ দেবেন’!!

দোহাই লাগে মাহাবীর কাদের সিদ্দিকী, নিজেকে এভাবে প্রস্নবিদ্ধ করে,আমাদের কে আহত করবেননা। আওয়ামীলীগ এবং ইহার প্রধানের অজ্ঞানতা ও অর্বাচীনতার কারনে, নিজেকে নিজে নামিয়ে আনবেননা। জীবনের এই পর্যায়ে এসে হাসিনা বা খালেদার ধমক খাওয়া মন্ত্রী হওয়ার আর দরকার নাই। খালেদা-হাসিনার পছন্দে,সাকা চৌধুরী-আব্দুল আলীম এবং ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ-মাওলানা নূরুল ইসলামরাই এদেশের মন্ত্রী হোক। কাদের সিদ্দিকীরা আমাদের মুকুটহীন সম্রাট এবং আমাদের অহংকার হয়েই থাকুন।