ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ,স্বাধীনতা,বিজয় দিবস,শহিদ বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,এগুলি খালেদা জিয়াদের জন্য শাখের করাতের মতো। গিলতেও পারা যায়না আবার ফেলতেও পারা যায়না। এই যে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার,এ নিয়ে তারা আছেন এক বেসামাল অবস্থায়। একবার বলছেন এ বিচার মানিনা,এ বিচার প্রহসন,এ বিচার বন্ধ করতে হবে ইত্যাদি। আবার বলছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তারাও চান ‘তবে(!!)’—তাদের এই তবে গুলি নিয়েই কিছু কথা।

# তবে নং-একঃ-“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই তবে- প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতে হবে”
মন্তব্যঃ- আপনাদের এই প্রকৃত বা সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধী কারা ? এই গোলাম আজম,নিজামী,মুজাহিদ,সাঈদীো,সাকা চৌ,আঃ আলীম রা কি প্রকৃত বা সত্যিকারের যুদ্ধাপরাধী নয়?

# তবে নং-দুইঃ-“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই তবে-আওয়ামীলীগের যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করতে হবে”
মন্তব্যঃ- খুব ভাল কথা,অবশ্যই করতে হবে,কিন্তু কারা এই ‘আওয়ামীলীগের যুদ্ধাপরাধী’-নাম প্রকাশ করে সুনির্দিষ্ট করে বলছেননা কেন?

# তবে নং-তিনঃ-যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই তবে- এই বিচার মানিনা,কারন এই বিচার করা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য,রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য। এই ট্রাইব্যুনাল পক্ষ পাতদুষ্ট”।

মন্তব্যঃ-কিভাবে? এই পর্যন্ত ঘৃ্নিত যুদ্ধাপরাধী নয়-এমন কাউকে কি গ্রেফতার করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে?এখন চিনহিত যুদ্ধাপরাধী এই গোলাম আজম,নিজামী,মুজাহিদ,সাঈদী,সাকা চৌ,আঃ আলীমদের বিচার করতে গিয়ে যদি কারো কোন প্রতিপক্ষ দমন হয়ে যায়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে যায়,তাহলে করার কি আছে?

#তবে নং-চার ঃ- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই তবে-এই গোলাম আজম,নিজামী,মুজাহিদ,সাঈদীো,সাকা চৌ,আঃ আলীমরা যুদ্ধাপরাধী নয়।মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীও নয়। এদের কে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।বরং আওয়ামীলীগই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী,একারনে তাদেরই আগে বিচার করতে হবে। (স্বয়ং খালেদা জিয়ার কথা !!)
মন্তব্যঃ- ????????????????????

# তবে নং-পাঁচ-“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই, তবে- শেখ মুজিবই যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিয়ে গেছেন”।
মন্তব্যঃ- একটি চরম অপব্যাখ্যা এবং মিথ্যা কথা। শেখ মুজিব কখনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্তদের ক্ষমা করেননাই। ৭৫ এর পূর্ব পর্যন্ত এদের বিচার কাজ চলছিলো,অনেকের বিভিন্ন ধরনের সাজাও হয়েছিলো।৭৫ এর পর জিয়াউর রহমান এদের সবাইকে শুধু ছেড়েই দেননাই,বিচারের আইনটিই বাতিল করে দিয়ে সকল বিচার বন্ধ করে দিয়েছেন এবং এই জগন্য অপরাধীদেরকে নিয়ে নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন এবং রাজনৈতিক অভিলাষ পুরনে ব্যবহার করেছেন।

# তবে নং-ছয় ঃ- “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই, তবে-এই বিচারটি হোয়া উচিৎ ছিলো স্বাধীনতার অব্যবহিত পরপরই। তখন কেন এই বিচার করা হলোনা?”
মন্তব্যঃ- তখনকার বাস্তবতা ও সময়কাল বিবেচনা করে কথা বলা দরকার।স্বাধীনতার অব্যবহিত পরপরের ধ্বংস-বিধ্বস্ত এবং সার্বিকভাবে বিপর্যস্ত ও বিশৃংখল অবস্থায়,সব কিছু ঠিকঠাক করে একটু সোজা হয়ে, না দাঁড়াতেই তো,মাত্র সাড়ে তিন বৎসরের মাথায়,৭১ এর পরাজিত শক্তির চক্রান্তে,সব কিছু ওলট-পালট হয়ে গেলো। তথাপিও এতো প্রতিকূলতার মাঝেও ৭১ এর এই কুখ্যাত অপরাধীদের বিচারকাজ শুরু করা হয়েছিলো। ৭৫ এর পরে যা বন্ধ করে দিলেন,এদেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান। তো ৭৫ এর পরে বহুকাল ধরেতো,এভাবে-ওভাবে আপনারাই ছিলেন ক্ষমতায়,তাহলে আপনারা এই বিচার করেননাই কেন?

# তবে নং-সাত ঃ-“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই, তবে –স্বাধীনতার পর পাকিস্তান আর্মির ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী সহ,পাক হানাদার বাহিনীর ৯৫ হাজার সদস্য কে কেন ছেড়ে দেয়া হলো? তাদের কে ফেরৎ এনে আগে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে”।

মন্তব্যঃ-খুব ভাল কথা।এতোদিন পরে আপনাদের তা মনে পড়লো।যা আপনাদের এতো বৎসরের ক্ষমতাকালে কোনদিন মনে হয়নাই। তবে বন্দি পাক সেনাদেরকে তখন ছেড়ে না দিলে,পাকিস্তানে আটকে পড়া অসংখ্য বাঙ্গালির জীবন বিপন্ন হতো। আটকে পড়া বাঙ্গালিদেরকে ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে যেতো।এমনকি মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধরে,পাকিস্তানি জেনারেলদের আতিথ্যে থাকা বেগম জিয়াকেও হয়তোবা,জেনারেলদের হেফাজতেই থেকে যেতে হতো। তা ছাড়া এদের মুক্তির ব্যাপারে জোরালো একটা আন্তর্জাতিক চাপের ব্যাপারতো ছিলোই,যা এড়িয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তখন আমাদের ছিলো কি না,তাও ভেবে দেখার বিষয়।

আর এখন ছেড়ে দেয়া পাক সেনাদের ফেরত এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথা আসলে তো,ফিরিয়ে আনা বাঙ্গালিদেরকে,পাকিস্তানের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কথাও এসে যাবে । তখন কি হবে? বিএন পিতেও অনেক পাকিস্তান ফেরত হোমড়া-চোমড়ারা আছেন। তারা কি এই ফিরতি-ফেরতের ব্যাপার-স্যাপারে রাযী হবেন?

# তবে নং-আট ঃ-“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই, তবে-বিচারটি আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে”

মন্তব্যঃ-এ ব্যপারে পরম শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবাল স্যারের কিছু কথা (প্রথম আলো-১৬/১২/১১) এখানে উল্লেখ করি-“বিচারের আবার দেশীয় মান আর আন্তর্জাতিক মান বলে কিছু আছে নাকি?কোন দেশে মৃত্যুদন্ড নেই,কোন দেশে চুরি করলে হাত কেটে দেয়-এর কোনটা আন্তর্জাতিক? দেশীয় মান কি আন্তর্জাতিক মান থেকে আলাদা? আমাদের দেশে এতোদিন যে বিচার হয়েছে,সেগুলি কি সব ভুল?সব চেয়ে বড় কথা এই ‘আন্তর্জাতিক মান’ সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য মোড়ল-মাতব্বরেরা কোন দেশ থেকে আসবেন? এই সার্টিফিকেট দেয়ার ক্ষমতাটা তাদের কে দিলো?”।আরো প্রস্ন-৭১ এ এই রাজাকারের দল যখন মানূষ মেরেছে,নানান জগন্যতম অপরাধ করেছে,তখন তারা কোন আন্তর্জাতিক আইনে তা করেছে?

# তবে নং-নয়ঃ-“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই, তবে-এই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল অবৈধ ও অসংবিধানিক, একটি আজ্ঞাবাহী রাবারস্ট্যাম্প সংগঠন এবং ইহার কার্যক্রমে কোন স্বচ্ছতা নাই”।
মন্তব্যঃ-কোথায় কিভাবে এবং কোন কারনে অবৈধ ও অসংবিধানিক ,এ প্রসঙ্গে গঠনমূলক কোন প্রস্তাব বিএন পি ওয়ালারা রাখলেইতো পারেন। কোথায় এবং কিভাবে এই ট্রাইব্যুনালের কোন কার্যক্রম অস্বচ্ছ এবং কেবলমাত্র আজ্ঞাবাহী তাও সুনির্দিষ্ট করে বলা হচ্ছেনা কেন?

# তবে নং-দশঃ- এবার আর কোন ‘তবে’ নয়। এবারে আসল কথা,একেবারে মনের এবং তা হলো-“ এ বিচার মানিনা, এ বিচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে”।
মন্তব্যঃ-আসলে ইহাই বিএনপি’র আসল চেহারা। ইহাই বিএনপি’র জন্য অতি স্বাভাবিক কথা।“যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আমরাও চাই”-ইহাই বরং বিএনপি’র জন্য অস্বাভাবিক। ‘গিলতেও পারিনা-ফেলতেও পারিনা’ বলে,এক ধরনের রাজনৈতিক অপকৌশল বা ভন্ডামী ও বটে।

উল্লেখ্য একই কারনে,একই রকম ভাবে, বঙ্গবন্ধুর আত্নস্বীকৃত বর্বর খুনীদের বিচারের বেলাতেও,বিএনপি’র এই খালেদা জিয়ারা,-“এই বিচার মানিনা,এটা কিসের বিচার?,বরং অনেক হত্যার জন্য ওদেরই(আওয়ামীলীগের) বিচার করা হবে, আগে সিরাজ সিকদার হত্যা এবং লিপি হত্যা সহ আরো অনেক হত্যার বিচার করতে হবে,বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে আবার নতুন করে এই বিচার কাজ করবে”-ইত্যাদি ধরনের আবোল-তাবোল এবং বেসামাল বক্তব্য-মন্তব্যের দ্বারা,সেই বিচারে তাদের অন্তর্জ্বালার বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন।

প্রস্ন জাগে এই যাদের আসল চেহারা,এই যাদের আসল অবস্থান,সেই খালেদা জিয়ারা আবার ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ এর মতো বাঙালি জাতির নানান দিবসে,এমন মায়া কান্না করেন কোন শরমে? চরম স্ববিরোধী এবং ভন্ডামীর এই নাটক তারা করেন কি করে।যা কিনা আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের জন্য তথা আমাদের ‘এক সাগর রক্ত’ ও সীমাহীন ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার জন্য এক ধরনের ঠাট্টা-মশকরারই শামিল।