ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গতকাল(২৩/১২/১১) দিবাগত রাত ১২ টায় ,চ্যানেল আই এর ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে,কিংবদন্তিতুল্য জননেতা রাজ্জাক ভাই এর মৃত্যুর খবরে,কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন,স্বনাম খ্যাত সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান।পীর হাবিবের এই কান্না সাংঘাতিকভাবে স্পর্শ করেছে এই অনুষ্ঠানের অসংখ্য দর্শক শ্রোতাকে। সে সময়তো বটেই,এই এখন যখন,এই লেখাটি লিখছি,চোখের অজোর ধারা সামলাতে পারছিনা আমি নিজেও। এই সেই রাজ্জাক ভাই, যার স্মরনে চোখের পানি ঝরবেনা-আমাদের সকল সংগ্রাম,আন্দোলন এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা কোন বাঙ্গালির? পত্রিকার পাতায়,টিভির খবরে তার(রাজ্জাক ভাই এর) পরিচয়ে ব্যাবহার করা “বর্ষীয়ান,প্রবীন”(?) কথাগুলিতেও চরম আপত্তি আমার। কতটুকু“বর্ষীয়ান,প্রবীন” ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য এই জননেতা? মনে পড়ে এই অজুহাত বা অপবাদ দিয়েই, রাজ্জাক-তোফায়েল এর মতো জনপ্রিয়,অভিজ্ঞ,‌দৃঢ়চেতা এবং দলপ্রান নেতাদেরকে,এবারের সরকার ও দলের মঞ্চ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। আসলে তাদের যা বয়স-ইহাই তো রাজনীতিতে পরিপক্কতা ও প্রাজ্ঞতার বয়স। দেশে এবং বিদেশের রাজনীতিতে, তাদের এই বয়সের বা আরো বেশি বয়সের অনেকেই আছেন এবং দেশ ও জাতির কল্যানে তাদের দক্ষতা,অভিজ্ঞতা ও প্রাজ্ঞতার সাক্ষর রাখছেন। আসলে তাদের (রাজ্জাক তোফায়েলদের) জন্য চাপিয়ে দেয়া এই“বর্ষীয়ান,প্রবীন”(?) বিশেষন গুলি,তাদেরকে অচল মার্ক করে,বৃত্তের বাইরে রাখার এক ধরনের পাঁয়তারা মাত্র।
পত্রিকা এবং টিভি’র পর্দায় রাজ্জাক ভাই এর পরিচয়ে আরো বলা হচ্ছে-“স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক”।কেবলই অন্যতম সংগঠক? অন্যতম এক শীর্ষ সংগঠক নয় কেন? আব্দুর রাজ্জাকের মত,আমাদের স্বাধীনতার এই কিংবদন্তিকে,সাধারন কাতারে ফেলে কেবল মাত্র ‘স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয়াই কি যথেষ্ঠ? এ ব্যাপারটি ও আমাকে আহত করেছে।

আমার প্রিয় সাংবাদিক পীর হাবিব ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেছেন,-“এবারের সরকার এবং দলের মঞ্চে ঠাঁই হলোনা রাজ্জাক ভাই এর মতো নেতার। তার বদলে বসিয়ে দেয়া হলো কত মূর্খদের,কত বিতর্কিতদের এবং রাজনীতিতিতে রাজ্জাক ভাইএর একটা আঙ্গুলের সমান হবেনা এমন অনেকদের। এই জন্য আমাদের প্রানের রাজ্জাক ভাই,উপেক্ষা-অবজ্ঞার এক বুক বেদনা নিয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেলেন! এই বলে বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পরা পীর হাবিবের অনুভূতি,সমগ্র জাতিকে নাড়া দিবে বলেই আমার বিশ্বাস। ক্ষনিকের জন্য হলেও স্বাধীনতা প্রিয় মানূষকে আরো যা নাড়া দেবে,তা হলো – অনেক মূল্যে ছিনিয়ে আনা এই দেশটি পরিচালনার কেন্দ্রেতো থাকার কথা ছিলো,আব্দুর রাজ্জাকের মতো স্বাধীনতার কিংবদন্তিদের। কিন্তু দূর্ভাগ্য এ জাতির,স্বাধীনতা অর্জনের সূচনাতেই মাত্র সাড়ে তিন বৎসরের মাথায়, চক্রান্ত কারীদের অশুভ চক্রান্তে গুটি গেলো ঊল্টে। আর রাজ্জাকদের স্থান দখল করে নিলো পাকিস্তানি কায়দার সামরিক জঙ্গীশাসকেরা। স্বাধীনতা সৃষ্টিকারি রাজ্জাক ভাইদের মতো নেতাদের,কপালে নেমে এলো,স্বাধীন দেশে আবারো জেল-ঝুলুম-হয়রানি-নির্যাতন। সত্যিই কি নির্মম পরিহাস!! এর পর সামরিকতন্ত্রের অবসান হলেও,সে স্থানে জোরালোভাবে ঝেঁকে বসলো চাটুকার প্রভাবিত উত্তরাধিকারতন্ত্র। যার কারনেও রাজ্জাক ভাইদের মতো নেতারা হলেন নানানভাবে নানান ধরনের,বঞ্চনা-অবজ্ঞা-উপেক্ষা-অবহেলা ও করুনার শিকার। ফলতঃ দেখা গেলো স্বাধীন এদেশের ৪০ বছরে,রাজ্জাক ভাইদের কপালে জূটলো মাত্র ৫ বছরের মন্ত্রীত্ব। তাও মনে হয় দলীয় প্রধানের করুনায়!!এর পর দূর্দিনের এই কান্ডারিদের সুদিনের বেলায় “বর্ষীয়ান,প্রবীন” অজুহাত বা অপবাদ দিয়ে ছুঁড়ে দেয়া হলো বৃত্তের বাইরে।

সুতরাং এক বুক বেদনা নিয়েই চলে গেলেন আমাদের প্রিয়,বঙ্গবন্ধুর অতি প্রিয়-সহচর মহান এই নেতা। একই বেদনাতে আমরাও মর্মাহত,বিচলিত এবং গভীর ভাবে শোকাহত। ক্ষমা করো মহান রাজ্জাক ভাই। মাথা নীচু করে তোমার বিদেহী আত্নার কাছে করজোরে ক্ষমা চাইছি,তোমার যথাযথ প্রাপ্য দিতে পারিনি বলে,তোমাকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারিনি বলে।ক্ষমা চাইছি অকৃতজ্ঞ এই জাতির পক্ষ থেকে।