ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

১১ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত ২৬ কিলোমিটার উড়ালসড়ক(এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে),এর পরিবর্তে ,ঢাকার ভিতর দিয়ে রেল-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মতামত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি আরো একটা কাজ করা যেতে পারে।তা হলো, কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত,রেল লাইন বরাবর দুই পাশ দিয়ে রাস্তা তৈরী করা। যদি কোন টেকনিকেল সমসা না থাকে,তাহলে এ কাজটি অতি সহজেই,অতি অল্প সময়েই এবং তুলনামূলক অতি কম খরচেই করা যায়। কেননা রেল লাইন বরাবর দুই পাশ দিয়ে, রেলের যে পরিমান খালি জায়গা আছে,তা রাস্তা তৈরী করার জন্য পর্যাপ্ত। যার জন্য তেমন কোন মাটি ভরাটের দরকার হবেনা,কোন গাছ-গাছালি কাটার দরকার হবেনা।মনে হয় আর তেমন কোন জায়গা একোয়ার ও করতে হবেনা। কেবলমাত্র রাস্তার কাজ করলেই চলবে। এর জন্য দরকার হবে রেল কতৃপক্ষের অনুমতি,যা জটিল কোন কিছু হওয়ার কথা নয়। কেননা রেলের জমিতো এ দেশের জনমানূষেরই জমি। এতে করে রেলের উপর দিয়ে খুব বেশি ফ্লাইওভার নির্মান করারও দরকার হবেনা। এমন কি ক্যান্টনমেন্টের জাহাঙ্গীর গেইট থেকে পূর্ব দিকে কিছুদূর এগিয়ে,মহাখালি রেলক্রসিং থেকে রেলের পুর্বপাশ দিয়ে,রেলের খলি জায়গা দিয়ে(প্রয়োজনে মহাখালি ডি ও এইচ এস এর পশ্চিম বাউন্ডারিটা কিছুটা সরিয়ে) রেললাইন বরাবর একটা রাস্তা যদি,জিয়া কলোনি পর্যন্ত টেনে নেয়া যেতো,তাহলে মহাখালি ফ্লাইওভার এবং বনানিতে রেলের উপর দিয়ে নির্মানাধীন ফ্লাইওভার টির ও কোন দরকার হতোনা।

এ প্রসঙ্গে জিয়া কলোনি থেকে ক্যান্টনমেন্টের উপর দিয়ে মিরপুর পর্যন্ত উড়ালপথ নির্মানেরও কোন দরকার ছিলোনা; যদি মিরপুর – কচুক্ষেত-সৈনিক ক্লাব এবং মিরপুর – কালশি -জিয়া কলোনি (এখনো নির্মানাধীন) হয়ে,বিমান বন্দর সড়কের সাথে এই দুটি সংযোগ সড়ক,অন্যসব সাধারন সড়কের মতোই,দিবারাত্রি ২৪ ঘন্টা সকলের ব্যাবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো।এর জন্য ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা প্রশ্নে,ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় রাস্তার দুধারে উঁচু এবং দুর্বেধ্য দেয়াল নির্মান করে,কয়েকটি গেইটে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা পাহাড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করলেই হতো। এবং তা করা হলেই মনে হয় ক্যান্টনমেন্ট এলাকার উপর দিয়ে,এতো বিপুল ব্যয়ের এই উড়ালপথ নির্মানের দরকার হতোনা।(উল্লেখ্য মিরপুর১৪-কচুক্ষেত-সৈনিক ক্লাব হয়ে বিমানবন্দর সড়কের বনানী পর্যন্ত,সকলের জন্য উন্মুক্ত,ক্যান্টনমেন্টের প্রভাবশালীদের মালিকানার কতগুলি পাবলিক বাস কিন্তু ঠিক ঠিকই চলাচল করে। এই বাসগুলি বা এর সাথে যথাযথ রুটপারমিট সহ আরো কোন কোন পাবলিক বাসসার্ভিস,গাবতলি-মিরপুর থেকে,একই রুটে এয়ারপোর্ট-গুলশান-মহাখালি পর্যন্ত বিস্তৃত করে দিলেই,ক্যান্টনমেন্টের এপার-ওপারের যোগাযোগের একটা ভাল ব্যাবস্থা হয়ে যায়)। মনে রাখা দরকার, বিপুল চাহিদার বিপরীতে অত্যন্ত সীমীত সম্পদের হতদরীদ্র আমাদের এই দেশে,কোন রাস্তা বা কোন জায়গা-সম্পদ,কেবলমাত্র কোন পেশা বা কোন গোষ্ঠিবিশেষের জন্য সংরক্ষিত করে রাখার অবকাশ খুবই সীমীত। এর বদলে যথাসম্ভব সর্বোচ্চব্যাবহার নিশ্চিত করা কেবল বাঞ্ছনীয়ই নয়,অবশ্যকরনীয়ও বটে। অতীব কম খরচের,কম সময়ের এই সহজ সমাধানের চিন্তাভাবনাগুলি,সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকদের মাথায় কেন যে আসেনা বা আসছেনা বুঝতে পারিনা।