ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

৭৫ পরবর্তি আওয়ামীলীগের প্রানপুরুষ,কিংবদন্তি তুল্য জননেতা এবং দলমত নির্বিশেষে আপামর জনমানূষের অতি প্রিয় ‘রাজ্জাক ভাই’ যখন লন্ডনের হাসপাতালে জন্ম-মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে, তখন আমাদের অতি নবীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী,তিন তিনবার লন্ডনে যান।কিন্তু একবারও হাসপাতালে রাজ্জাক ভাইকে দেখতে যাননাই!! (সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন-২৭/১২/১১)। এখন ব্যাপারটা বুঝা গেলো, লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনারও কেন রাজ্জাক ভাইকে দেখতে হাসপাতালে যাননাই। রাজ্জাক ভাইএর মতো এতো বড়মাপের এমন এক নেতাকে এভয়েড করার এতো সাহস এই হাইকমিশনারের হয় কি করে? দীপু মনিরই বা কি দোষ। তিনি শিক্ষা-দীক্ষায় একজন বিদ্বগ্ধ মানূষ সন্দেহ নাই, কিন্তু শিক্ষায়-দীক্ষায় তার মতো এমন মানূষ অনেকেই আছেন। কেবল শিক্ষা হলেইতো আর হয়না-প্রাজ্ঞতা, দৃঢ়তা ও রাষ্ট্রনায়কোচিতার জন্য দরকার অভিজ্ঞতা। রাজনীতির অভিজ্ঞতা,নেতৃ্ত্বের অভিজ্ঞতা। সে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দীপুমনির কোথায়?

জীবনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে,( তাও আবার ১৯৭০ এর নির্বাচনের মতো সৃষ্ট আওয়ামী হুজুগে),হীরক রাজা মার্কা চমকে, হয়ে গেলেন ‘উপ’ বা ‘প্রতি নয়,এক্কেবারে পূর্ন মন্ত্রী,তাও আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী !!!যাকে বলা যায় এবারের শেখ হাসিনা সরকারের এক মহা মহা চমক!! এখন যার কল্যানে,যার বদান্যতায়,যার নেক নজরে ‘দীপু মনির’ মতো একজনের এক লাফে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে যাওয়া-তার মূখ চেয়ে না চলার বা কিছু করার সাধ্য বা সাহস এমন এক দীপুমনির হয় কি করে??? সুতরাং যে কারনে লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রাজ্জাক ভাইকে দেখতে হাসপাতালে যাননাই,সেই একই কারনে দীপুমনিও,তিনতিন বার লন্ডনে গেলেও,একবার ও রাজ্জাক ভাইকে দেখতে হাসপাতালে যাননাই।

সমকালীন আওয়ামীলীগে চলমান আছে দুইটি ধারা। এর একটি ‘আওয়ামীলীগ’ আর অন্যটি ‘হাসিনালীগ’। এই হাসিনা লীগের আদর্শ এবং সকল ধ্যান-জ্ঞান কেবলই শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা খুশি হবেননা বা ভালো দেখবেননা এমন কোন কিছু,আপাততঃ তারা তাদের কল্পনাতেও আনেননা। সুতরাং রাজ্জাকের জায়গায় যদি স্বয়ং বঙ্গবন্ধু হতেন,তাহলেও মনে হয় এই ‘হাসিনালীগ দীপু মনিদের আচরন বা ভূমিকার তেমন কোন যেরফের হতোনা। এ দুর্ভাগ্য শুধু জনপ্রিয় জননেতা রাজ্জাকের একার নয়,এই দুর্ভাগ্য সমগ্র জাতির।