ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

চলে গেলেন আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আরো একজন বীর সেনানী,১১নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার এবং পরবর্তিতে সেক্টর কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান বীর প্রতিক (ইন্না লিল্লাহে——)।গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করছি এই বীর মক্তিযোদ্ধাকে। তার পরিবর্তিত অবস্থান,ভূমিকা এবং অনেক কর্মকান্ড নিয়ে ভিন্নমত (একমত থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই),বিতর্ক এবং অপছন্দ ইত্যাদি যাই থাকুকনা কেন,এর সবকিছুকে ছাপিয়ে,তার সবচেয়ে বড় পরিচয় – তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা,একজন সেক্টর কমান্ডার এবং বীরপ্রতিক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।।এ কারনে সমগ্র জাতি তার মাহান এই বীরসন্তানকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরন করা উচিৎ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় জাতির এমন একজন বীর সন্তানের মৃত্যুর খবর ছাপা হয়েছে খুবই গুরুত্বহীনভাবে,কোন কোন পত্রিকার ভিতরের পাতায়। আর বিএনপি’র নেতা বলে ,দায়সাড়াভাবে শোকবাণী এসেছে কেবল খালেদা জিয়া এবং বিএনপি’ ঘরানার কারো কারো কাছ থেকে। যেহেতু এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি’র রাজনীতির মানূষ,তাই তার মৃত্যুতে,আওয়ামীলীগ এবং আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিপুল মানূষের কোন প্রতিক্রিয়া নাই।ইতিপূর্বে বীরোত্তম বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত সহ আরো অনেকের বেলাতেও একই চিত্রই দেখা গেছে।

খালেদা জিয়া বা অন্যেরা যে যাই করুকনা কেন,অন্ততঃ শেখ হাসিনা এবং তার দলের এমন হীন অবস্থান ও অনুদার মানষিকতা গ্রহনীয় হতে পারেনা। কেননা নানান কারনে এবং নানান সমীকরনে,পরবর্তিতে এবং পরিবর্তিত অবস্থান ও ভূমিকা,যার যাই থাকুক বা হোকনা কেন (এর জন্য কেবল তারা একাই দায়ী নয়,দায়ী আমরা দেশের মানূষজনও,দায়ী আরো অনেক কিছু) – ব্যতিক্রম বাদে প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রতিটি মানূষ ছিলেন,বঙ্গবন্ধুর সৈনিক,জয়বাংলার সৈনিক। জাতির মহান মুক্তিযুদ্ধে,আপামর বাঙালি জনতার এমন কাউকে খুঁযে পাওয়া যাবেনা,যার কন্ঠে বঙ্গবন্ধুর নাম এবং ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান,উচ্চারিত হয়নাই। সুতরাং অন্ততঃ মরনের পরে শেষ বিদায়ের বেলায়,দলমত নির্বিশেষে জাতির মহান সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সন্মাম ও শ্রদ্ধা পোষন করার মতো উদারতাটুকু,বংবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং বংবন্ধুর দল আওয়ামীলীগের দেখানো উচিৎ। জাতির এই মহান বীর সন্তানদের অন্ততঃ মরন এবং শেষ বিদায়টা হোক,একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে-একজন বিএনপি বা আওয়ামীলীগ বা অন্য কোন দলের দলীয় পরিচয়ে নয়। অন্যেরা যে যাই করুকনা কেন,এই দায়টা সবচেয়ে বেশি এবং একমাত্র বংবন্ধুকন্যার এবং আওয়ামীলীগের।