ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

গত সপ্তাহের কথা। চ্যানেল আই’এর ‘আজকের সংবাদপত্র’ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন প্রবীন সাংবাদিক জনাব মোঃ মূসা এবং রিয়াজুদ্দিন আহমেদ। টিভি’র টক শোতে বিদ্যুৎ নিয়ে সমালোচনা কারীদের,বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেয়া মর্মে,মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর এক বক্তব্যের জের ধরে,জনাব মূসা একটু রসিকতার সুরে বললেন-“যা নাই তা কেটে দেয়া আর না দেয়াতো একই কথা”।জনাব মূসা একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রবীন সাংবাদিক। টিভি’র টকশোগুলিতে তিনি খুব ভাল-ভাল, সাহসী এবং ব্যাতিক্রমি কথা বলেন। তার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা পোষন করে সবিনয়ে জানতে চাই,- আমাদের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কি আসলেই “যা নাই” এর অবস্থায়? এই সরকারের আমলে গত তিন বৎসরে প্রায় ২০০০ মেগা ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।যার ফলে গত প্রায় দুই মাস ধরে দেশ প্রায় লোডশেডিংমুক্ত!! বাস্তবেতো বটেই, প্রতিদিনের পত্রিকার পাতাতেও এর প্রতিফলন দেখাযায়। অতীতের তুলনামূলক বিচারে এই বিপুল পরিমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের উপায় বা প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক বা মতভেদ থাকতে পারে,কিন্তু এই তিন বৎসরে ২০০০ মেগা ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন-এটাতো এই সরকারের একটা বিরাট সফলতা। একবার ভেবে দেখা যাকতো,নানান অজুহাতে এই সরকার ও যদি,আগের সরকারের মতো,এই বিদ্যুৎ নিয়ে নাকে তেল দিয়ে বসে থাকতো,এক মেগা ওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন না করতো বা করতে না পারতো – তাহলে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতিটা কি অবস্থায় পতিত হতো!! এই যে জনাব মূসা সাহেব আজ যে টিভি’র পর্দায় কথা বলছেন,তাও বিদ্যুৎ হীনতার কারনে মোম বাতি জ্বালিয়ে করতে হতো।

অন্য দিকে যে ভাবে বা যে করেই হোক,আগের সরকারও যদি তাদের পাঁচ বৎসরে অন্ততঃ ২০০০ কিংবা ১০০০ মেগা ওয়াটের মতো বিদ্যুৎও উৎপাদন করতো বা করতে পারতো,তাহলে ক্রমবর্ধিত চাহিদা মোকাবিলা করেও,এদেশটা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত বিদ্যুতের দেশে পরিনত হতো।এতে করে পরবর্তি এই সরকারকেও বিদ্যুৎ নিয়ে এতো তাড়াহুড়োর মধ্যে পড়তে হতোনা।এতো ব্যয় বহুল পথে পা রাখতে বাধ্য হতে হতোনা।

সুতরাং এতো বেশিদামের বিদ্যুৎ উৎপাদনের রাস্তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে,এ ছাড়া সরকার আর কিভাবে এবং কোন উপায়ে ভয়াবহ সেই সৃষ্ট বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারতো,এ নিয়ে ও বিতর্ক থাকতে পারে,কিন্তু বাস্তবতা হলো,মাত্র তিন বৎসরে এই সরকার প্রায় ২০০০ মেগা ওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ করতে পেরেছে। বিগত সরকার গুলির তুলনামূলক বিচারে এবং আমাদের বাস্তবতায় এ এক বিরাট সাফল্য,এ এক বিরাট অর্জন। যা স্বীকার না করে,যা আমলে না নিয়ে কেবল সমালোচনা করা বা স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে কোন কথা বলা,জনাব মূসার মতো স্বনাম খ্যাত ব্যাক্তিত্বদের কতটুকু সমীচীন,তা ভাববার বিষয়।এটা অন্ধের মতো এ সরকারের গুনগান গাওয়া নয়।এটা সত্য এবং বাস্তবতা।এতে করে গুনগান করা হয়ে গেলেতো করার কিছু নাই।

অনেকের সমালোচনায় আরো উঠে আসে যে,দেশ এখনো লোড শেডিং এর কবলে। কিন্তু সাথে সাথে ইহাও আমলে নেয়া দরকার যে পাঁচ বছর আগে বিদ্যুতের চাহিদা ছিলো চার/সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট।এখন তা বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার মেগাওয়াট। সুতরাং এই বিদ্যুত ঘাটতিতো ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারনে এবং তা মোকাবিলায় আগের আমলে যথাযথ উদ্যোগ না নেয়ার কারনে।এই সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে না পারার কারনে নয়। তবে বলা যায় বিগত তিন বৎসরে ২০০০ জায়গায় অন্ততঃ ৪০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে না পারার কারনে। কিন্তু ভাবতে হবে আমাদের বাস্তবতায় মাত্র তিন বা চার বৎসরে,এই ৪/৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রীডে দেয়া আদৌ সম্ভব কি না? এর উত্তর বিদ্যুৎ উৎপাদন সমন্ধে যারা ধারনা রাখেন,কেবল তাদের দ্বারাই দেয়া সম্ভব।অন্যদের মাথায় তা আসবেনা।