ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গতকাল (01/01/12) ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের নেতারা কোথায় যুদ্ধ করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার কাছে প্রশ্ন, যুদ্ধটা তাহলে করেছিলো কারা? তখনতো আর বিএনপি ছিলোনা,জাতীয় পার্টিও ছিলোনা। ছিটাফোটা বামেরা যাও ছিলো,তাও ছিলো চৌদ্দভাগে বিভক্ত।অনেক দ্বিধা-দ্বন্ধ কাটিয়ে ,যার একাংশ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও,বাদ বাকিদের অনেকেই(যাদু মিয়া-আনোয়ার জাহিদ গংরা) বরং যোগ দিয়েছিলো পাক হানাদারদের সাথেই। স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি আর বামদের একটা ভগ্নাংশ বাদে,মুক্তিকামী সমগ্র জাতিইতো তখন ছিলো আওয়ামীলীগ।

অবশ্য বেগম জিয়ার এসব না জানার এবং না বুঝারই কথা। কেননা তখনকার সময়ের সেই বেগম জিয়ার মতো, অতি সাধারন মানের শ্রেফ একজন গৃহবধুর,খোঁজ-খবরে বা জ্ঞানের মধ্যে এসব না থাকারই কথা। আর যখন কিছুটা থাকার কথা,তখন মানে মুক্তিযুদ্ধের রক্তঝরা নয়টি মাস, কাটিয়েছেন তিনি ক্যানটনমেন্টের চার দেয়ালের ভিতরে,হানাদার পাক জেনারেলদের আতিথ্য-আপ্যায়নে,আরাম-আয়েশে।তিনি কি করে জানবেন বা বুঝবেন,কে যুদ্ধ করেছে আর কে করেনাই? সুতরাং তার এসব কথায় কান না দেয়াই শ্রেয়। বিশেষ করে তোফায়েল আহমেদের মতো বড়মাপের নেতারতো একেবারেইনা। উল্ল্যেখ্য জননেতা তোফায়েল আহমেদ বেগম জিয়ার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে কিছু বলেছেন।

বেগম জিয়া তার বক্তৃতায় মহাজোটের শরিক এরশাদকেও স্বৈরাচার এবং স্বাধীনতাবিরোধী আখ্যায়িত করে, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে খোঁজ করতে বলেছেন।এ প্রসঙ্গেও বলতে হয়,এরশাদ সমন্ধে এমন করে বলার আগে বেগম জিয়ার উচিৎ নিজের চেহারাটাই আয়নায় দেখা।এরশাদ স্বৈরাচার কথাটা সত্য,কিন্তু What about Zia?ব্যক্তিগত কিছু ব্যাপার-স্যাপার বাদে,ক্ষমতায়,শাসনে এবং মার্শাল রাজনীতিতে দুজনের মধ্যে তফাৎটা কোথায়?