ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

গতকালের (০৯/০১/১২) প্রথম আলোর খোলা কলামে,জনৈকা কেয়া চৌধুরী “ইতিহাসের উজ্জ্বল এক নাম” শীর্ষক তার এক লেখায় স্মৃতিচারন করেছেন এক বীর মুক্তিযোদ্ধার কথা।যিনি সম্পর্কে লেখকের বাবা। নাম মানিক চৌধুরী। পোশাকি নাম এ কে লতিফুর রহমান চৌধুরী। কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে হবিগঞ্জের আপামর মানুষ তাঁকে কমান্ড্যান্ট উপাধিটা দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব, অহংকার। লেখকের স্মৃতিচারননের কিছু অংশ হুবুহু তুলে ধরছিঃ-

“২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে ভোররাতে আব্বার কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি তারবার্তা আসে (সেই তারবার্তা আব্বা মুক্তিযুদ্ধকালে নিজের কাছে রেখেছিলেন। ফলে আগুনে পোড়া থেকে রক্ষা পায়। তারবার্তাটি এখনো সংরক্ষণ করা আছে)। সেই তারবার্তায় ইংরেজিতে লেখা ছিল, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পিলখানায় ইপিআর ও রাজারবাগে পুলিশ বাহিনীর ওপর আক্রমণ করেছে। নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করছে। ইপিআর ও পুলিশ ঢাকার রাজপথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। জনগণ প্রাণপণে শত্রুবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সকল স্থানে সকল শ্রেণীর জনগণকে শত্রুবাহিনীকে যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করার জন্য আহ্বান জানানো যাচ্ছে। আল্লাহ আপনার মঙ্গলে সহায়তা করুন। জয় বাংলা। মুজিবুর।’

মানিক চৌধুরী শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রেরিত টেলিগ্রাম নিয়ে উপস্থিত হন মহকুমা হাকিমের অফিসের বটতলায়। সেখানে উপস্থিত হয়েছিল হাজার খানেক মানুষ। মানিক চৌধুরী একটি ট্রাকের ওপর উঠে ইংরেজিতে লেখা টেলিগ্রাম সবাইকে দেখিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বিবরণ প্রকাশ করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রেরিত এ তারবার্তা জনগণকে উদ্বেলিত করে তোলে। অনির্ধারিত ওই জনসভায় মানিক চৌধুরী এক জ্বালাময়ী বক্তৃতা করে সবাইকে আহ্বান জানান প্রতিরোধযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য। মানিক চৌধুরীর আহ্বানে সমবেত জনতা সমর্থন জানায় বিপুল হর্ষধ্বনি ও করতালির মাধ্যমে। মানিক চৌধুরীর সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জ মহকুমার সূচনা হয় প্রতিরোধ সংগ্রামের”।

ইহাই ৭১ এ আমাদের মুক্তি যুদ্ধ শুরুর বাস্তবতা।২৫ মার্চ গভীর রাতে পাক বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের পর,সারা বাংলার অঞ্চলে অঞ্চলে,এরকমভাবেই শত শত মানিক চৌধুরীর কন্ঠে,কোথাও মাইকে,কোথাও চোঙ্গা ফুঁকিয়ে,কোথাও খোলা কন্ঠে,যার যার উপায়ে,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পক্ষে স্বধীনতার বাণী,স্বাধীনতার ঘোষনা প্রচারিত হয়েছে।সে রকমই একটি ঘোষনা প্রচার ছিলো ২৬/২৭ মার্চ আওয়ামীলীগ নেতা আঃ হান্নানের কন্ঠে এবং ২৭ মার্চ সন্ধায় (আরো প্রায় দেড়দিন পরে) মেজর জিয়ার কন্ঠে,কালুরঘাটের তৎকালীন অতীব ক্ষীন প্রচারশক্তি সম্পন্ন বেতারে। অন্যসব ঘোষনার সাথে জনাব হান্নান এবং মেজর জিয়ার ঘোষনার তফাৎটা হলো-তাদের ঘোষনাটা প্রচারিত হয়েছে বেতারে আর অন্যদেরটা সূ্যোগ না থাকার কারনে যার যার মতো করে।সুযোগ থাকলে অন্যদের ঘোষনাও জনাব হান্নান এবং মেজর জিয়ার মতো বেতারেই প্রচারিত হতো।

প্রস্ন হলো এ কারনে মেজর জিয়াকে যদি ‘স্বাধীনতার ঘোষক’বলা হয়,তাহলেএকই কারনে অন্যদেরকেও তা বলা হয়না বা হবেনা কেন?