ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

কালকে যখন মূষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল এবং সাথে সাথে ভয়ানকভাবে মেঘ গর্জে উঠছিল তখন আমার ঠিক সাগর রুনির সন্তান মেঘের কথা মনে পরছিল। আমরা মেরুদন্ডহীন পুরুষের মতো অপেক্ষা করছি বিচারের জন্য আর আমাদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কিছুসংখ্যক বদমাইশ। ভাবছিলাম আমাদের এমন ভূমিকা দেখে একদিন সত্যিই মেঘ এমনভাবে গর্জে উঠবে যে আমাদের কোথাও পালানোর পথ থাকবেনা। এবং ঘটনাটা সেদিকেই যাচ্ছে।

আমি আমাদের দেশের সাংবাদিকদের কার্যক্রমে সত্যিই ক্ষুব্ধ, আতঙ্কিতও বটে। কেন আতঙ্কিত তা পরে বলছি। তবে আজকের প্রথম আলোতে যা পড়লাম তা পড়ে সত্যিই এই হত্যাকান্ডের খুনীদের ধরা পড়া নিয়ে আশার আলো যতটুকুই বা ছিল সেটাও মন থেকে হারিয়ে গেছে। আগামিকাল ৮ই এপ্রিল সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি ছিল। সেটা মোটামুটি অনেক আগে থেকেই পরিকল্পিত একটা কর্মসূচি। অথচ আমাদের দেশের so called সাংবাদিকরা কি করলেন? ওনারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের বাসভবনে হনহন করে আজ চলে যান চা-চক্রের দাওয়াত পেয়ে আর মেরুদন্ডহীন পুরুষের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন আজ দুপুর ১২টায় তাঁর বাসভবনে সাংবাদিক নেতাদের এক চা-চক্রের দাওয়াত দেন। সেই চা-চক্র থেকে বের হয়ে এসে জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈঠকে বসেন সাংবাদিক নেতারা। বৈঠক শেষে বিকেলে সাংবাদিক নেতারা কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। কি নির্মম এই দেশের মানুষ!!! আসলে আমার মনে হয় so called সাংবাদিকরাও ব্যাপারটা হালকাভাবে নিয়ে নিয়েছে। যেখানে তাদের আগে থেকেই একটা কর্মসূচী ছিল এবং যে কর্মসূচীতে সাংবাদিকদের সাথে ব্লগারদেরও যোগ দেওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়েছিল সেখানে আজকে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই আবেদনকে নাকচ করে দিয়ে বলে দিতে পারতো যে তারা তাদের পরিকল্পনায় অনড়! যেহেতু ৪৮ ঘন্টার জায়গায় ৫৭ দিনেও কেউ ধরা পরেনি তাই তারা তাদের কর্মসূচী থেকে পিছু পা হবেন না। এটি বলেই তারা তাদের পজিশনে অনড় থাকতেন, অথচ নির্লজ্জ জানোয়ারের মতো তারা লাফাতে লাফাতে চা খেতে গেলেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের কথায় মন গলে গিয়ে তাদের কর্মসূচী পিছিয়ে সেটাকে ৫ মে পর্যন্ত স্থগিত করলেন। এদিকে সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদেরকে বাসায় ডেকেছিলেন। তিনি বলেছেন যে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি হয়েছে। এ সময় আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সাগর-রুনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’ একই কথা বারবার এনারা বলবেন। বলেছিলাম না আমি আতঙ্কিতোও বটে! আমরা এখন নিশ্চিত এই ব্যাপারে আর কিছুই জানা যাবেনা। আবার ৫ মে আসবে, তার আগেই এইভাবে সাংবাদিকদের কিনে নেবে এবং সাংবাদিকরা আবার সময় পিছাবে। আমার প্রশ্ন হয় যে সাংবাদিকদের এই so called আন্দোলনগুলোও আগে থেকে নীল নকশা করা নাকি! এখন সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ হচ্ছে। এমনওতো হতে পারে যে এগুলো সবই pre-planned। আমাদের দেশের সাংবাদিকরাতো আবার পলিটিকস্ করে। এদের হয়তো বলাই আছে যে কি কি ভাবে আন্দোলন করতে হবে, কখন কখন তা করতে হবে এবং কি ভাবে তা পিছানো হবে। এখনকার সময় সবই সম্ভব!!!!