ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

একটা মেয়ে বাড়ি-ঘর, আত্মীয়-স্বজন সব ছেড়ে স্বল্প পরিচিত এক পুরুষের সংসারে এসে যখন নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তখন এ দায় কার ? কেন সে শ্বশুর বাড়িতে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকবে ? তার মতামতের কারনে কে কি মনে করল, এমন আশংকায় সে কেন ভুগবে? ওয়াইফের নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব কার? অবশ্যই স্বামীর, যদি পুরুষে নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে নিরাপদ প্রথা বিয়ের বন্ধনে কোন নারীকে বাধার দরকার কি?

প্রশ্নগুলো মনে আসছে, কারন আমাদের সমাজে দেখি, যে পুরুষের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা সেই পুরুষের হাতেই মেয়েরা নির্যাতিত হয় বেশি । নির্যাতিত মহিলাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় লোক লজ্জার ভয়ে, তথাকথিত সন্মান হানীর ভয়ে স্বামী কর্তৃক নির্যাতনের কথা কারো সাথে শেয়ার করে না । আর পুরুষ মেয়েদের এই ধরনের মেন্টালিটির কারনে নির্যাতন করাকে নিজেদের অধিকার মনে করে। মেয়েরাও নির্যাতিত হওয়াকে নিজেদের নিয়তি মনে করে । পুরুষের এই আজিব অধিকার এবং মেয়েদের এই আজিব মানসিকতাকে কি বলা যায় !

যদিও মেয়েদের মধ্যে অনেকেই নির্যাতন সইতে সইতে শেষ পর্যায়ে এসে বুঝতে পারেন যে তিনি কত বড় ভুল আশা নিয়ে ছিলেন । কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে এটা খুব কমই হয় । বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে মানুষ এতটা বলদও হতে পারে । এত আদর যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করা মেয়েকে কোন পুরুষের হাতে যে বিশ্বাসে তুলে দেওয়া হয়, সেই বিশ্বাসকে যে পুরুষ নষ্ট করতে চায় তাকে’ও তো কোন না কোনদিন মেয়ের বাবার দায়িত্ব পালন করতে হবে ! তার আচরনের কারনে তার ছেলে-মেয়ের মনে কি ধরনের বাজে প্রভাবই না ফেলছে, ভাবতে সত্যিই অবাক লাগে !