ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১৯৭৫ এর কাল দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে দেশের রাজনীতিতে যে নতুন সমস্যাগুলো উন্মোচিত হয়ে ছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রাজনৈতিক দলের সংকট । যেহেতু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বকে ধ্বংস করা হয়েছিল, তাই এর অভাব পূরণের জন্যই নতুন দলের আবির্ভাব আরো জরুরী ছিল । পরবর্তী সেনা শাসকেরা রাজনৈতিক দল সৃষ্টির অপচেষ্টার মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামাত সহ অনেক দল নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্নপ্রকাশ করে ।যদিও নতুন দল সৃষ্টির পিছনে আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে পুনঃ সংঘটিত হতে না দেওয়া । যদিও এরই মধ্যে আবার আওয়ামী লীগ পুনরায় নতুন করে সংঘটিত হয়ে উঠে । নতুন দলগুলোর মধ্যে বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি খুব দ্রুতই প্রথম সারির দল আওয়ামী লীগের পাশাপাশি এসে দাঁড়ায় । অন্যন্যা দলগুলো এতটা পরিচিতি না পাওয়া আর এ দল দুটোর দ্রুত সাফল্য অর্জনের পিছনে অবশ্যই সেনা সমর্থিত শাসকদের সমর্থন একটি কারন। মেজর জিয়া তার ক্ষমতা কালীন সময়ে বিএনপিকে সংঘটিত করেছেন, আর জাতীয় পার্টি কে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ । এ কথাগুলো সবাই জানেন, যা আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জানেন না তা হলো এ দল দুটো কিভাবে এত দ্রুত বিস্তার লাভ করল । তখনকার ইতিহাস যদি বাবা-চাচাদের নিকট জিজ্ঞেস করেন, তাহলে খুব সহজেই আমরা জানতে পারি । আমি আমার মামার মুখে শুনেছি এবং বিভিন্ন পত্রিকাতে পড়েছি, মেজর জিয়ার আমলে মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে প্রমোদতরীতে করে ভ্রমনে নিয়ে যেতেন মেজর স্বয়ং নিজে । এ সমস্ত ভ্রমনে ছাত্রদেরকে উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দিয়ে, আদর্শ এবং আধিপত্যবাদের মন্ত্র শিখিয়ে দেওয়া হত । যখন কোন দেশের প্রেসিডেন্ট কোন ছাত্রকে বলে যে তোমরা সংঘটন কর….তোমাদের সবরকমের সহায়তা আমরা দিব । সবরকমের সহায়তার মধ্যে অর্থ , শেল্টার এবং অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । এর প্রমান স্বরূপ ৮০ দশক জুড়ে চলা সন্ত্রাস এবং ত্রাসের রাজত্বে বসবাস করা লোকগুলোর মতামত শুনতে পারেন ।

কয়েক বছর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভি নামে এক লোকের কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে গিয়ে , মেজর জিয়ার দ্রুত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটা প্রথমে মাথায় আসে । একই রকমভাবে শফিউল ইসলাম প্রধান নামে এক লোকের কার্যকলাপ সম্পর্কে জানতে পেরে জাতীয় পার্টির এত দ্রুত আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টা বুঝে আসে । যেদিন থেকে বুঝতে পারলাম, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য বড় দলগুলো সন্ত্রাস আর অস্ত্রের ঝনঝনানিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যেদিন বুঝতে পারলাম যে দল দুটো সামরিক সরকারের পৃষ্টপোষকতায়’ই এখন এত গনতন্ত্রের বুলি আউডাচ্ছে অথচ এদের জন্মই ছিল গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করার জন্য। সেদিন থেকেই আমি আওয়ামী লীগ সমর্থন করি, কেননা এরাই প্রকৃত গনমানুষের দল…….এদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার থেকে এরশাদ সরকার পর্যন্ত সবার দমনপীড়নের পরেও এ দল এখনও টিকে আছে ! এ দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ৭৫ এ স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে, এ দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বকে গত বিএনপি সরকার বোমা মেরে হত্যা করতে চেয়েছে বলে অভিযোগ আছে ……..এত অত্যাচারের স্বীকার হওয়া কোন দল যে আবার ক্ষমতায় আসতে পারে, এটাই বিস্ময়কর ! এমন নজির পৃথিবীর আর কোন দেশের রাজনীতিতে পূর্বে ঘটেছে বলে আপনাদের জানা আছে ? মনে হয় এরাই প্রকৃত গনমানুষের দল, এদের কাছেই সাধারন মানুষ অসাধারন কিছু আশা করে ।

বি:দ্র: আমার জানা তত্ত্বে যদি কোন ভুল থাকে তাহলে দয়া করে জানাবেন । আপনাদের মতামত জানাতে ভুল করবেন না । কারন ৭৬-৯০ পর্যন্ত ঘটে চলা ঘটনা প্রবাহগুলো জানতে চাই ।