ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমরা জানি যে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা অসম্ভব সৎ, তারা কোন প্রকার অন্যায় করতেই পারে না । তারপরেও কেমনে কেমনে জানি ভোট দেওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগের কথা পত্র-পত্রিকাতে চলে আসে । যেহেতু দূর্নীতি প্রসঙ্গে নির্বাচন চলে আসে, তাই এ প্রসঙ্গে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই । যেমন ধরেন, দূর্নীতি কেন হয় …..এমন প্রশ্ন যদি আনঅফিসিয়ালি কোন জনপ্রতিনিধিকে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে বোধহয় সিংহভাগই বলবেন যে নির্বাচনের সময় যে টাকা খরচ হইছে, সে টাকা তোলার জন্য । বলা হতে পারে যে দলীয় নমিনেশন পাওয়ার জন্য দলকে এত কোটি টাকা ডোনেশন দিছি, সেটা তুলতে হবে না ! উনাদের কথা শুনে উল্টো আপনার মনেই উনাদের প্রতি করুনার জন্ম নিতে পারে । এবার, আসেন বর্তমানে, নির্বাচনকালীন সময়ে ভোট কেনা-বেচার পিছনে কে দায়ী একটু খুজে দেখি ।

নির্বাচনের সময় ভোট কেনাবেচা হয় কারন জনগন অসৎ, লোভী ! নির্বাচনের দিন অন্তত একদিনের জন্য হলেও তৃণমূলের নিকট রাষ্ট্র ক্ষমতা থাকে….ওই একদিনই গণমানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না । ওই একদিনেই জনগন নির্ধারন করে থাকে যে কারা আগামীবার ক্ষমতায় আসবেন । ওইদিনের জন্য জনগন’ই সকল রাষ্ট্র ক্ষমতার উৎস । এখন, একদিনের ক্ষমতার দাপটে মানুষে এমপিদেরকে যেভাবে অসহায় করে রাখে, মিলিয়ে দেখলে নেতাদের জন্য আপনার দয়াও হতে পারে, কত দাবি..এইটা দাও, ওইটা দিতে হবে , পোলাপাইনের ক্লাব ঘরটা বাইন্ধা দেন, বাড়ির রাস্তাটা বাইন্ধা দিতে হবে…ইত্যাদি,ইত্যাদি …মানে দাবীর যেন কোন শেষ নাই । এই একদিনের ক্ষমতা পেয়েই আমাদের এই অবস্থা ! এবার একটু ভাবেন , আমাদের বেচারা এমপি’রা তো পাচ বছর ক্ষমতায় থাকে…তাও আবার টাকা খরচ করে নির্বাচন করে ! এখন.তারা কিভাবে নিজেদের লোভকে নিয়ন্ত্রন করবে ! তাই, সব মানুষকেই বদলাতে হবে, বদলাতে হবে সবার মানসিকতাকে । এমনটাই আমরা এতদিন ধরে ভেবে আসছি । তাই নয় কি ?

এবার আসেন উল্টোদিক হতে ভাবি, জনগনকে টাকা দেয় কারা ? নিশ্চয় জনপ্রতিনিধিরা ! তারা সংখ্যায় কয়জন? ২,৩ অথবা ৫ জন! এখন তো জোটের যুগ , সামনে এমপি প্রার্থীর সংখ্যা আরো কম হবে । এখন দেখেন, এই দু-চার জন এমপিরা যদি মানুষকে টাকা না দেয় , তাহলে জনগন ভোট দেওয়ার জন্য টাকা পাবে কোথায়? নিশ্চয় টাকাটা ভুতে এসে দিয়ে যাবে না ! যদি জনপ্রতিনিধির প্রার্থীরা বলে যে আমরা এক টাকাও বাড়তি খরচ করব না তাহলে লোকে ভোট দেওয়ার জন্য টাকাটা দাবি করবে কার কাছ থেকে ? তাই, এদিক দিয়ে দেখলে জনপ্রতিনিধিরাই দায়ী, জনগন নয় । বরং ঠোঁটকাটা লোকেরা বলে থাকে যে নেতারা জনগনকে ঘুষ দিয়ে ক্ষমতায় আসেন, তাহলে কি করে আশা করেন যে ওরা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর থেকে ঘুষ খাবে না ?

তাই, যদি এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় যাতে করে জনপ্রতিনিধি প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া খরচের হিসাবের বাইরে একটাকা ও বাড়তি খরচ করতে পারবে না । এমতাবস্থায়, জনগন কারো কাছ থেকে টাকা খেয়ে ভোট দেওয়ার অপবাদ হতে মুক্তি পাবে বলে মনে হয় । যারা সমাজকে বদলাতে চায় তাদেরকে বলতে চাই , ১৬ কোটি মানুষকে বদলানোর চেষ্ঠা না করে, আমাদের ৩০০ জন এমপিকে বদলানোর চেষ্ঠা করাটাই অধিক যুক্তিসঙ্গত । মিডিয়া পারে না এমন কোন কাজ কি আছে ? যদি মিডিয়া বিশ্বাস করে যে ১৬ কোটিকে বদলানো সম্ভব তাহলে ৩০০ জন এমপির মানসিকতা পাল্টানো কি অসম্ভব ?

বি:দ্র: জনসেবা করার জন্য ধনীদের জনপ্রতিনিধি হওয়া লাগে না, কেননা তারা চাইলে তাদের উপার্জিত অঢেল সম্পদ থেকেই খরচ করতে পারেন । অর্থের অভাবে যারা জনসেবা করতে পারেন না তাদেরই জনপ্রতিনিধির পদ দরকার । এক্ষেত্রে তাই, ধরে নেওয়া যায় পয়সাওয়ালা লোকেরা এমপি, চেয়ারম্যান হতে চায় নাম কামানোর জন্য…..এই ব্যাপারগুলো ও নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখা উচিত ।