ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

আমাদের বাড়িতে আমি একটা কুকুর পুষি, একেবারে কোলে পিঠে না…গ্রামের বাড়িতে মানুষে যেভাবে পুষে ঠিক সে ধরনের । রাত হলে চিল্লা-পাল্লা করে , অনেকটা দারোয়ানের মত কাজ করে…ভালই লাগে। এ পর্যন্ত সব ভালই ছিল কিন্তু ইদানিং সে করছে কি , সে আরেকটা কুকুরকে সঙ্গী হিসেবে জোগাড় করছে । ঠিক সঙ্গীও না ব্যাপারটা অনেকটা পোষার মত, মানে সে আরেকটা কুকুর পোষে, পোষে বলাম কারন ওর সঙ্গে যে কুকুরটা থাকে ওইটা কিন্তু মহিলা না বরং পুরুষ কুকুর(ডগী কিন্তু গে নয়) । তো সে করে কি! তার খাওয়া-দাওয়ার পরে যা কিছু উচ্ছিষ্ট থাকে তা ওর পোষ্যকে খেতে দেয়, মাঝে মাঝে যখন ওর খাওয়ার মুড থাকে না তখন ও তার পোষ্যকে খেতে দেয় । আমাদের কুকুরটার নাম ডগী, ছোট বোনে ওর পোষ্য কুকুরের নাম রাখছে এপিএস । কারন পোষ্যটাই চিল্লায় বেশি । 😛

আমরা’ত ডগিকে পুষি ঘর-বাগান পাহারা দেওয়ার জন্য, ও কেন আবার আরেকটা কুকুর পোষে এটা অনেকদিন ধরে জানতে চেষ্ঠা করে আসছিলাম । ওর কুকুর পোষাতে আমাদের তেমন কোন আপত্তিও ছিল না কেননা রাত হলে দেখতাম দুইজনে মিলে চিল্লায়ে বাড়ি মাথায় করে রাখে, চোর আসে কিনা জানি না তবে ওদের চিল্লাচিল্লিতে মানসিক শান্তি পেতাম, তাই ব্যাপারটা ভাল চোখে দেখতাম,খাবারও একটু বেশি করেই দিতাম । মনে মনে খুশি ছিলাম যে আমাদের ডগি একটা এপিএস রাখছে, সুরঞ্জিতের এপিএস কেলেংকারীর পর থেকে আমরা বলতাম যে আমাদের ডগির এপিএস কোন কেলেংকারী-টেলেংকারী করে না বরং রাত জেগে বাড়ি পাহারা দেয় । 😀

কিন্তু হায় কয়েকদিন আগে ডগির এপিএস একটা কেলেংকারী করে ধরা পড়ে গেল ! কয়েকদিন থেকে আম্মা বলে আসছিলেন যে উনার শখের পোষা মুরগীগুলো একটা একটা করে গুম হয়ে যাচ্ছে , ব্যাপারটা নাকি কয়েকদিন ধরেই হচ্ছে, আম্মা সেকেলে মানুষ উনি ব্যাপারটা আমাদের সাথে শেয়ার করেন নি, তবে উনি মনে মনে ধারনা করতেন এটা ডগি অথবা তার এপিএসের কাজ । তো , এই কারনে আমাদের অগোচরে, আম্মা ডগিকে লাঠি দিয়ে ভয় দেখাত । মূল ঘটনায় আসি, তো সেদিন দুপুরে খাওয়া-দাওয়ার পরে আমি বারান্দায় বসে রেস্ট করছিলাম হঠাৎ দেখি মুরগীর আওয়াজ, উকি মেরে দেখতে গিয়ে’ত চোখ ছানাবড়া, একি দেখলাম ! এপিএস মুরগীর উপর থাবা দিয়ে বসে আছে আর ডগি অদুরে দাড়িয়ে দেখছে ! আমি দৌঁড়ে যেতেই দেখি এপিএস মুরগী ছেড়ে দিয়ে ডগীর বগলে এসে হাজির ! প্রথমেই মুরগী খুজে বের করলাম , দেখি আধমড়া ! শালার এপিএস, তারে একটা দৌড়ানী দিলাম, ডগীরে দিলাম লাথি….। ডগীরে যত লাথ্যাই সে’ত কোথাও যায় না কিন্তু এপিএস শালা ভয়ে ভাগছে, এখনও পলাতক । এপিএসএরে পিটাইতে যাইয়া সুরঞ্জিত সেনের এপিএস্এর কথা মনে হইল, শালার সব এপিএসকেই কি আকাম করতে হয় ! এপিএস নামটাই শালার কুফা !

সুরঞ্জিতের ঘটনার মত এখানেও যথারীতি নাটের গুরু ডগি নির্দোষ, অনেক তদন্ত করেও তার শরীর থেকে, থাকার জায়গা থেকে মুরগীর পশম জোগাড় করতে পারলাম না, তবে বেচারা এপিএসের মধুচন্দ্রিমা খতম, এখন দেখলেই খালি মাইর । আমার মায়ের মুরগী গুম রহস্যেরও একটা সমাধান হলো । অফ দ্য টপিক যা বুঝতে পারলাম, এপিএস মুরগীগুলো ধরত ডগীর জন্য, সে ধরে আনত আর ডগী খেত … এ কারনেই ডগির আরেকটা কুকুর পোষা, সেয়ানা মাল!

বি:দ্র: এটি একদম সত্যি ঘটনা ।