ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

আজ মঙ্গলবার, ২৬’শে জুন ।খুব বৃষ্টি হচ্ছে, একেবারে যাকে বলে ক্যাটস এন্ড ডগস ! কাল সকাল থেকে একটানা চলছে…সন্ধ্যা হয়ে এলো বৃষ্টিটা কেন যেন থামার নামই নিচ্ছেনা! আচ্ছা, বর্ষাকালে রবীন্দ্রনাথ কি করতেন ? একবার কোন এক বইয়ে পড়েছি যে বর্ষাকালীন সময়ে উনি ছাউনি দেওয়া নৌকাতে নিরবে সময় কাটাতেন। কবিতা লেখতেন, গল্প লেখতেন এবং অবশ্যই গান । বর্ষা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের অনেক জনপ্রিয় গান আছে । ভুল বললাম না’ত আবার ! উনার তো প্রায় সব গানই জনপ্রিয় , তবে কিছু গানকে বহুশ্রুত বলা যায় ।এই যেমন আজি ঝড় ঝড় মুখর’ও বাদল দিনে…….।

আচ্ছা, আমি হঠাৎ গান নিয়ে পড়লাম কেন ! অদ্ভুত ! বর্ষা আসলেই রবীন্দ্রনাথের কথাই শুধু মনে পড়ে । অন্য কবিরা কি বর্ষা নিয়ে গান লেখেননি ? নিশ্চয় লেখেছেন….কিন্তু ওসব মনে পড়ছে না কেন ! বোধহয় আমার অবচেতন মনে বর্ষা এবং রবীন্দ্রনাথ এক সূত্রে গেতে আছে । তবে পুরো ব্যপারটা খারাপ না রবীন্দ্র সংগীতে একটা শুদ্ধ শুদ্ধ ভাব আছে, আর বর্ষা প্রকৃতি থেকে যেভাবে ধুলো-বালি ধুয়ে নিয়ে এতে ধরনীও বোধহয় শুদ্ধ হয় ।আচ্ছা, রবীন্দ্র সংগীত আর বর্ষার কানেকশনটা কি শুদ্ধতায়?

শুদ্ধতা প্রসঙ্গে আমাদের মনে একধরনের শ্রদ্ধাবোধ আছে, এটা নিখুঁতের কারনে নাকি ধর্মীয় অনুভুতির কারনে তা নিয়ে মনে যে সংশয় নেই তা ও নয় ।হুমম..চিন্তার বিষয় ! জটিল প্রসঙ্গ, মাথা ধরেছে । জটিল কোন কিছু নিয়ে ভাবলে আজকাল আমার মাথা ধরে ……বুঝতে পারছিনা, আমার কি ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত ? মা শুনলে নির্ঘাত বাবাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলবেন যে, যাইস না ডাক্তারের কাছে যাইস না, তুই মর , এর পর ছলছল চোখে বলবেন, এই নে টাকা নে , কালকেই ডাক্তারের কাছে যাবি, না হলে কাল থেকে তোর খবর আছে ।

হা,হা,হা….মার বকাবকি আমি আসলেই খুব উপভোগ করি । মা বকাবকি করছে আর আমি হাসিমুখে তা শুনছি……..বকা শুনতে কেন যে এত ভাল লাগে না বুঝিনা ! মা বলে আমার নাকি গণ্ডারের চামড়া ! মা’র বকাবকির অনেকগুলো উপকারী দিক আছে, একটা হল বকাবকির শেষে টাকা পাওয়া যায় । হোক না অল্প কিন্তু বেকার মানুষের জন্য ওতেই চলে যায়……আমার তেমন বেশি চাহিদাও নেই । এই এক প্যাকেট সিগারেট আর সাথে বিকাল বেলা ঝাল-বুট খাওয়ার পয়সা পেলেই চলে । ওহ..হো মূল ব্যাপরটাই তো বাদ পড়ে গেল…ইন্টারনেট খরচ !

আধুনিক জামানায় ইন্টারনেট ছাড়া জীবন-যাপন আসলে অচল, যে কৃষক কোনদিন কম্পিউটার ছুঁয়েও দেখেননি, তার উৎপাদিত পণ্যের সমস্ত হিসেব-নিকেশ রাষ্ট্র কম্পিউটারেই জমা রাখে , আন্তজার্তিক বাজারে চালের দর কত চলছে এটা জানার জন্য ইন্টারনেটই সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম । ওখানকার রেটই স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে । মোটকথা , আপনি ব্যবহার করেন আর না করেন আপনার জীবনের গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ইন্টারনেটের সাহায্যেই নেওয়া হচ্ছে । তাই, অনেক বলেন ইন্টারনেট কে মানুষের মৌলিক অধিকার বলে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত । এই দাবীর সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত…কয়েকদিন আগে এসব নিয়ে একটা ব্লগ লিখেছিলাম । মানুষের বেশ সাড়া পাওয়ার কারনে আমার মনে হয় ….এই ইস্যুটা নিয়ে সরকারের আরো ভালোভাবে ভেবে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত । হা,হা,হা, মানে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতেই হবে ।আর অন্য কোন অপশন নেই ! মৌলিক অধিকার ব্যপারটাই এমন যে এটা ছাড়া নৈতিকতা নিয়ে কথা বলা বোকামি । যে মানুষের ক্ষুধা, সেক্স, মাথা গোঁজার স্থানের অভাব মেটানোর মত সামর্থ্য নেই , সে মানুষের জন্য কোন নৈতিকতা নেই । একটা মানুষ কখন দূর্নীতি করে ? যখন সে কর্মহীন হবে….যখন এমন কোন কাজ করবে যা দিয়ে তার মৌলিক অধিকার পূরন করা সম্ভব হবে না ।

২৭’শে জুন, বুধবার…. একটু আগে খবরে দেখলাম বৃষ্টির কারনে ৯১ জনের মৃত্যু !সংসদে প্রধানমন্ত্রী শোক প্রস্তাব রেখেছেন । হায়রে কবে যে পাহাড় কাটা বন্ধ হবে…..। যাক সে কথা বাদ থাক, কালকের প্রসঙ্গ ধরে আরো কিছু কথা:

একটা সময় ছিল যখন মানুষ কোন মতে বেচে থাকতে পারা, কোনমতে নিজের মনের কথা বলতে পারার অধিকার থেকেই বঞ্চিত ছিল । এখন সে সময় নেই, কাউকে হত্যা করা হলে রাষ্ট্র তার বিচারে ফাঁসির শাস্তির বিধান রেখেছে । কথা বলার জন্য জন্য রয়েছে অপার স্বাধীনতা……. আমাদের বহু শতাব্দী ধরে চলমান সভ্যতার দিকে থাকালে বোঝা যায় যে মনুষত্যের উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের অধিকারের তালিকায় নতুন নতুন চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে । এই চলমান উন্নয়নের ধারায় ইন্টারনেট হলো এ পর্যন্ত শেষ দাবী…ভবিষ্যতে হয়তবা আরো নতুন কিছু হবে, যা আমরা এখনো চিন্তা করতে পারতেছি না ।ইন্টারনেটের অপরিহার্যতা বোঝার জন্য একটি উদাহরন দিলেই চলে, যেমন ধরেন, দুজন লোকে যখন সামনাসামনি বসে দাবা খেলে, তখন এই খেলাটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে ইগোর লড়াইয়ে পরিণত হয় ।খেলায় হার-জিত থাকবে এটা বোঝার পরেও…. সামনা-সামনি খেলায় ইগোটাই মুখ্য ভুমিকা রাখে । যার কারনে কোন কোন সময় হার বা জিতের প্রতিক্রিয়াটা প্রকাশিত হয় উদ্ধতার সাথে…আবেগের প্রকাশই বেশি হয় । কিন্তু একই খেলা যদি কেউ অনলাইনে বসে খেলে তাহলে হারজিতের প্রতিক্রিয়ার চাইতে, আবেগের চাইতে, বুদ্ধিবৃত্তির সৃষ্ট ব্যবহারই বেশি হয় । অনলাইনে খেলার সময় পারিপার্শ্বিক চাপ না থাকার কারনে খেলোয়াড়েরা ফ্রি-মাইন্ডেড হয়ে খেলতে পারেন । খেলায় আবেগের চাইতে বুদ্ধিমত্তার ছাপ বেশি দেখা যায় । মনুষত্বের আরো উন্নতর বিকাশের জন্য এই ফ্রি-থিংকিং একটি বিশাল ব্যাপার বলেই মনে হয় । এবং যতটুকু বুঝতে পারছি এটা ইন্টারনেটের কল্যাণেই ব্যাপক আকারে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব । মানুষের চিন্তা-শক্তির যত বিকাশ হবে…..ততই মনুষত্বের উন্নয়ন ঘটবে । এতে নিশ্চয় কোন সন্দেহ নেই ।

আমি মনে করি, মনুষত্বের উন্নয়ন ব্যতিরেকে পৃথিবীতে মানুষের জন্য আর কিছুই করার নেই। সম্পূর্ণ পৃথিবী যদি একটি মেশিন হয় তাহলে তা ঠিকঠাক চলার জন্য এর প্রতিটা অঙ্গকে সচল রাখতে হবে । যেমন ধরেন , কেঁচো……লক্ষকোটি কেঁচো আমাদের জমিনকে উর্বর রাখে, এখন মানুষে যদি জমিকে উর্বর রাখার জন্য কোটি কৃত্রিম কেঁচোও বানাতে সক্ষম হয় তথাপিও সুচারুভাবে কেচো ম্যানেজমেন্টে মানুষ ব্যর্থ হবে। কেঁচোর মত এমন হাজার প্রকারের প্রাণী আছে যারা পৃথিবীর খাদ্য-শৃংখলকে সমুন্নত রাখছে । এখানে কৃত্রিমতার কোন অবদানই বলতে গেলে নেই । এ মহা ব্যবস্থা দেখেই মনে হয় যে, মানুষের পৃথিবীতে সারভাইভ করার মত যত উপাদানের প্রয়োজন তার সমস্তই প্রকৃতি ব্যবস্থা করে রেখেছে । এখন এখানে মানুষের যদি সত্যিই কিছু করার থাকে তাহলো নিজের সক্ষমতাকে বাড়ানোর চেষ্ঠা করা । নিজের উন্নয়নে সমস্ত শক্তি ব্যয় করা……।