ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

মানুষের শরীরে যেমন রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা আছে, শরীরের অভ্যন্তরে যেমন প্রায় সব জীবানুকে ধ্বংস করার ক্ষমতা আছে, বহিঃশক্তি হতে নিজকে আত্নরক্ষার জন্য যেমন চর্ম,হাত,পা,চোখ আছে ………. ঠিক তেমনি পৃথিবী নিজেকে অভ্যন্তরীন এবং বাহ্যিকভাবে রক্ষা করার জন্য নিজস্ব কিছু সিস্টেম রেখেছে । পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের নানা স্তরগুলো উদ্ধত উল্কা-পিন্ডকে ভস্ম করে দেয়, পৃথিবীর অভ্যন্তরে পাহাড়,সমুদ্র, আগ্নেয়গিরি এবং অগণিত প্রান নিয়ে আরো শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে রেখেছে । মানুষের যেমন কঠিন রোগ হলে সারানো যায় না, ঠিক তেমনি পৃথিবীর পরিবেশেরও যদি গুরুতর কোন ক্ষতি হয় তাহলে তা আর সারানো যায় না । যেমন ধরেন, কলকারখানা এবং জীবাশ্ম জ্বালানী হতে উৎভুত গ্যাস, যা আমাদের গ্রীন হাউজকে ফুটো করে দিচ্ছে । বায়ুমন্ডলে ফুটো এর মানে পৃথিবী এখন এইচআইভি পজেটিভ, যেকোন মুহুর্তে এইডসের মরন থাবায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে । এ ফুটো বন্ধ করার মত প্রযুক্তি আলোচনা করার মত সাহস মানুষ এখনো অর্জন করতে পারেনি । কিন্তু কিভাবে প্রতিকার করা যায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে । এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াতে কারখানাগুলোর উপর কার্বন কর বসিয়েছে । এ ছাড়া কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করেও অনেকে পরিবেশের অনুকুলে ব্যবসা শুরু করছেন ।

পৃথিবী তার বাসিন্দাদের রক্ষায় ঠিক তেমনটাই অসাধারন খাদ্য শৃংখল তৈরী করে রেখেছে , যেমনটা আমাদের শরীরে বিভিন্ন পরজীবী ব্যাকটেরিয়াদের বেচে থাকার জন্য খাদ্য-শৃংখল রয়েছে । মাঝে মাঝে মনে হয়, একজন মানুষের ভিতর যেমন কোটি কোটি নানান জাতের ব্যাকটেরিয়া থাকে…ঠিক একই রকমভাবে মানুষসহ কোটি কোটি প্রানীকুল’ই যেন পৃথিবীর শরীরে পরজীবীর মত আছে । তবে একটা কথা, আমরা মহাবিশ্বের তুলনায় এতটাই ক্ষুদ্র যে নিজেদের ব্যাকটেরিয়া সদৃশ বললে বোধহয় ব্যাকটেরিয়া’ই উল্টো অপমাণিত বোধ করতে পারে ….আত্নমর্যাদা সম্পন্ন ব্যাকটেরিয়া হলে’ত অবশ্যই করবে :p । আমরা জানি যে পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রানীর’ই সারভাইব করার মত সমস্ত উপাদান প্রকৃতিতে রয়েছে । শুধূমাত্র খাদ্য-শৃংখল বুঝলেই এ প্রসংগে আর কোন কথা থাকে না । তারপরেও আমরা কৃত্রিমতার দিকে এত বেশি ঝুকে পড়ছি যে পছন্দসই জন্তুকে বন-জঙ্গল ধ্বংস করে চিড়িখানাতে রাখতেই বরং বেশি আগ্রহী । পাহাড় কেটে বালু দিয়ে কৃত্রিম পাহাড়সম ভিলা বানাতে আগ্রহী ! প্রাকৃতিক সম্পদকে অর্থে রুপান্তরের এই খেলা যে আস্তে আস্তে চিরচেনা প্রকৃতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে তা ভুলে গেলে কি চলবে ?

যদি আমরা ভাবি, আর’ত মাত্র বছর কয়েক বাচব…জীবনের কোন স্বাধ কেনইবা অপূর্ণ থাকবে ! যদি আমরা এমনই ভাবি তাহলে’ত আমাদের সন্তানেদের জন্য কানাকড়িও জমিয়ে রেখে যাওয়ার কথা যৈাক্তিক হত না । যদি পৃথিবী’ই বাসযোগ্য না হয় তাহলে জমানো সম্পদ দিয়ে আমাদের বাচ্চারা করবে‘টা কি ? গত পরশু খবরে পড়লাম, আমেরিকাতে এবারের গ্রীষ্মে নাকি প্রতিদিন গড়ে ৪০ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে এবং শীত কালে’ত রেকর্ড পরিমান তুষারপাত হচেছই । আর সাইক্লোন,টর্নোডোর আঘাতে’ত বর্তমান কালের এই সুপার পাওয়ার নিজের নাগরিকদের বাচাতেই হিমসিম খাচ্ছে । এবার বাংলাদেশে দেখেন, কেন প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিতে হচ্ছে… কয়েকদিনে আগে আমাদের চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমানে বৃষ্টি হয়েছে, আগে থেকে পাহাড়ের খাদে ঘর করে থাকার সুবাধে ১১০ এর ও অধিক লোকের মৃত্যুর খবর গনমাধ্যমে এসেছে । ঘন-ঘন নিন্মচাপের খবরে উপকূলের লোকেরা’ত খোদার নাম জপতে জপতে কত নির্ঘুম রাত যে কাটিয়ে দেয়! তার কোন ইয়ত্তা নেই । এ অসহায় লোকগুলো জানে না পর্যন্ত যে এই বিপর্যয়গুলো খোদা পাঠায় নাই, বরং এ গুলোর মূল কারিগর হলো ভদ্র,শিক্ষিত,নীতি নির্ধারনী শ্রেনীর মানুষেরা । একবার ভেবে দেখুন , আমাদের অপরিসীম সম্পদ কুক্ষিভূত করার লোভ পৃথিবীকে ঠিক কোথায় নিয়ে যাচ্ছে !

আমরা মনে করি, পৃথিবীতে অবস্থিত কোন সচেতন লোকেই নিজের সন্তানের ভবিষ্যতকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে চায় না । তারপরেও আমাদের মাধ্যমে যতটুকু পরিবেশের ক্ষতি হয় তার অধিকাংশই সচেতনতার অভাবে হয় । তাই, আসুন পরিবেশ নিয়ে একটু সচেতন হই, নিজের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যত গড়ার লক্ষে কাধে কাধ মিলিয়ে চলি । আমরা জানি পিপড়েরা দলবদ্ধভাবে বাস করে, তারা প্রত্যেকে নিজ শরীরের চেয়ে প্রায় কয়েকগুন ওজন বেশি বহন করতে পারে, যদি আমরা মানুষেরা পিপড়েদের মত একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করি তাহলে সমগ্রপ্রানী কুলের যা ওজন তার চেয়েও বহুগুন বেশি ওজনের পৃথিবীকে নিশ্চিদ্র করতে পারি , নিরাপদে বাসযোগ্য করতে পারি । নিশ্চয় সচেতনতা সৃষ্টি করা মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন করার মত দুরুহ চিন্তা নয় ।