ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

সেবা বলতে আমরা আসলে যা বুঝি তার কোন বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায় না । সমস্ত সেবাই এখন ক্রয় করতে হয় । ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য হতে শুরু করে বিনোদন পর্যন্ত সবকিছুকেই সেবার পরিবর্তে টাকা উপার্জনের মেশিনে পরিণত করেছেন । শিক্ষা,স্বাস্থ্য,আঈনী সহায়তা এসব ক্ষেত্রকে কাগজে কলমে সেবা বলা হলেও বাস্তবে বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু নয় । সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো মার পেটে সন্তান ধারন করার যে প্রাকৃতিক সেবা পদ্ধতি ছিল তাও এখন ব্যবসার গোলামে পরিণত হয়েছে । যদিও এ পর্যন্ত তা ক্ষুদ্র পরিসরে চলছে…. তারপরেও গত ৩৪ বছরে এই ব্যবসার ফলাফল স্বরুপ ৫০ লাখ মানুষ পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছে । টেস্ট টিউব বেবী নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই যা মনে আসে তা হলো ভবিষ্যতে অলস মানুষের নিকট সন্তান উৎপাদনের জন্য এ পদ্ধতিটি’ই সবচেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য হবে । জনসংখ্যা সমস্যায় জর্জরিত চীন হয়ত ক’দিন পরেই ঘোষনা করতে পারে যে তার সব নাগরিক’কেই স্থায়ী জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি গ্রহন করতে হবে এবং কারো যদি বাচ্চা নেওয়ার স্বাদ জাগে তাহলে সরকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করে টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে’ই উৎপন্ন বাচ্চা নিতে হবে ।

এ পদ্ধতি শুরুরকালীন সময় হতে বর্তমান পর্যন্ত অনেক উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে গেছে । সবচেয়ে আশাজাগানিয়া(?) যে কথাটি শোনা যাচ্ছে তা হলো , ভবিষ্যতে মা-বাবা নিজের পছন্দের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বাচ্চা নিতে পারবেন । কল্পকাহিনীতে আমরা পড়েছি যে মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যকে জেনেটিক ইন্জিনিয়াররা পরিবর্তন করতে পারেন, আর এখন যদি এর বাস্তবিক প্রয়োগ দেখা যায় তাহলে তা নিঃসন্দেহে মানুষ লুফে নিবে । ভাবতেই অবাক লাগে….ভবিষ্যতে আইনস্টাইনের সমমানের বা তারচেয়ে উচু স্তরের অনেক বুদ্ধিদীপ্ত অসংখ্য মানুষ পৃথিবীতে বিচরন করছে । মানুষ নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াই একদিন সবকিছুকেই ছাড়িয়ে যেতে পারে । আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, মানুষ এ যান্ত্রিক বিবর্তন প্রক্রিয়াকে অনেক আগেই অতিক্রম করে এসেছে । কেন এমন মনে হয়, তা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই ।

ধরেন, পৃথিবীর মানুষ তার মস্তিস্কের ১০০%’ই ব্যবহারের প্রযুক্তি আবিস্কার করল । এরকম হলে যেহেতু সব মানুষের চিন্তা-চেতনা এক সমান এবং উন্নততর হবে তাই সবকিছুই মানুষের পরিকল্পনা মোতাবেকই হবে । এমতাবস্থায়, বুডিয়ে যাওয়া বা মৃত্যুর বাধাকে মানুষ অতিক্রম করতে পারবে, পৃথিবী ছেড়ে নতুন নতুন বাসযোগ্য গ্রহে বসতি স্থাপন করতে পারবে । মনে হয়, এসব কোন ব্যাপার’ই হবে না । হয়তবা বিগব্যাং বা এমন কিছু সৃষ্টি করে নতুন মহাবিশ্বও স্থাপন করতে পারে , যেমন ইউরোপে এখন কলাইডার ডোর স্থাপন করে মাটির নিচে করা হচ্ছে । উন্নত টাইপের চমৎকার বুদ্ধিদীপ্ত মানুষের জন্য’ত নতুন বিশ্ব বা প্রানের উপযোগী গ্রহ সৃষ্টি করা’ত মামূলী ব্যাপার ! যে কথাটা বলছিলাম, ধরেন মানুষ যদি এমন সক্ষমতাকে ধারন করে লক্ষ বছর ধরে বেচে থাকে তাহলে বিনোদনের জন্য যে কাজটা করতে পারে তাহলো, কিছু গ্রহগুলোকে প্রানের উপযোগী করে সৃষ্টি করতে পারে , ওখানে ঘটে চলা প্রাকৃতিক বিবর্তনকে উপভোগ করতে পারে । হ্যা, বিবর্তনকে উপভোগ করতে পারে, নিশ্চয় এটা সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য, কারন এটাই একমাত্র অনিশ্চিত পদ্ধতি । এটা অনিশ্চিত কারন পুরুষ মানুষের শরীরে তার জীবদ্দশায় ৪০ হাজার কোটি শুক্রানু উৎপন্ন হয় । একবার মিলন হলে লক্ষ লক্ষ স্পার্ম থেকে মাত্র ১/১৩ টি পর্যন্ত ঠিকে থাকার খবর পাওয়া যায় । উৎপাদন প্রক্রিয়া ছাড়াও আর হাজার হাজার অনিশ্চয়তা আমাদের ঘিরে রয়েছে । এই অনিশ্চয়তাই আমাদের সবচেয়ে বেশি বিনোদন দেয়, বেচে থাকার প্রেরণা দেয় । ভেবে দেখেন খেলার মাঠের দিকে পুরো পৃথিবী কেন তাকিয়ে থাকে ।ভেবে দেখেন কেন মানুষে ধর্মে বিশ্বাস করে ।

তো, যা বলছিলাম, অমরদের অনিশ্চয়তা ততদিন পর্যন্ত উপভোগ করা চলবে যতদিন পর্যন্ত না মানুষ নিজের সক্ষমতাকে বুঝতে শিখে, যতদিন পর্যন্ত না প্রাকৃতিক বিবর্তন থেকে বেরিয়ে নিজেদের ইচ্ছার বিবর্তনে প্রবেশ করে । ঠিক ততদিন পর্যন্তই ! কারন এর বেশি যদি এগোতে দেওয়া হয় তাহলে তা অমরদের জন্য হুমকির কারন হতে পারে । তাই, হতে পারে অমর’রাই কেয়ামত বা ডুমস ডে নামক একটি বিশেষ সময়ে সৃষ্ট প্রানীগুলোকে তার আবাস্থল সহ ধ্বংস করে দেবে । হতে পারে যারা বুদ্ধিবৃত্তিকে বিশ্বাসের উপরে স্থান দিয়ে গ্রহ ত্যাগ করবে, তারাই অমরত্বের কাতারে যুক্ত হবে …..হতে পারে যারা অমরদের বিশ্বাস করবে তারাই অমরত্বের কাতারে যুক্ত হবে, হয়ত’বা উন্নততর ট্রান্সমিশন পদ্ধতিকে আত্না নামক যে শক্তি আমাদের শরীরে আছে তা কাঙ্খিত লক্ষে পৈাছে যাবে । যান্ত্রিক বিবর্তনের এই খেলায়, এ সম্ভাবনাগুলোই হতে পারে চরম মুক্তি । 😛 আমি জানি , আমার মনে করায় কারো কিছু এসে যায় না ! তারপরেও পৃথিবী যে পথে চলছে তাতে মাঝে মাঝে মনে হয় আমরা অন্য কারো তীব্র বুদ্ধিবৃত্তির ফসল নই তো ?