ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

বিডিনিউজে দেখলাম স্টিফেন হকিং নাকি বাজিতে ১০০ ডলার হেরে গেছেন ! বেচারা ড. হিগস এতদিন ধরে পদার্থের ভর সঞ্চারনের নিখুঁত গল্প বলে আসছিলেন, যার কথার উপর ভিত্তি করে মাটির নিচে এত কোটি কোটি ডলার ব্যায়ে গবেষনা পর্যন্ত শুরু হয়ে গেল ! তার কথাই কিনা হকিং সাহেব বিশ্বাস করতেন না ! সত্যিকারের সাইন্টিস্ট’ই বটে একখান ! যে পর্যন্ত প্রমাণিত হবে না সে পর্যন্ত বিশ্বাসও করবে না । আসলে স্টিফেন হকিংয়ের কি দোষ খোদ প্রফেসর হিগস’ই বিশ্বাস করতেন না যে তার জীবদ্দশায় এই কণার অস্তিত্ব দেখে যেতে পারবেন ! তাহলে বোঝা যাচ্ছে উনিও একজন সত্যিকারের বিজ্ঞানী । যাহা প্রমাণিত নয় তাহা বিশ্বাসযোগ্য নয় নীতিতে বিশ্বাসী ।

এবার অন্য একটি প্রসঙ্গে আসি, কালকে যখন সম্পূর্ণ পৃথিবী হিগস বোসনের অস্তিত্বের প্রমান পাওয়ার নেশায় বুদ , ঠিক তখনই ভারতের বিহারে একটি অঘটন ঘটে গেল । বাবলী কুমারী নামের বাবা-মা হারা এক বালিকার আপনজন বলতে এ মহাবিশ্বে একজনই আছে সে হল তার ছোট ভাই । মাত্র ১৫ বছরের বাবলী আর দশটা বোনের মত তার ভাইকে অসম্ভব ভালো বাসে । ভাই অসুস্থ হলে তার চিন্তাই ঘুম হয় না, সারা রাত জেগে ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করে, সেবা শশ্রুশা করে । চিন্তিত বোন তার ভাইয়ের বারংবার অসুস্থতার দরুন কয়েকদিন আগে এক তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হন । তান্ত্রিক পরামর্শ দেন যে বাবলী যদি রক্ত দেবীকে সন্তুষ্ট করতে পারেন তাহলে তার ভাইয়ের রোগ ভালো হয়ে যাবে । তো কিভাবে করতে হবে ? তান্ত্রিকের মতে যদি বাবলী তার একটি পা কেটে এর রক্ত দিয়ে দেবীর সামনে পূজা করেন তাহলেই কেবল মা সন্তুষ্ট হবেন । যেন রক্তচোষা দেবী ! ভাইয়ের সুস্থতা কামনার তাড়নায় বাবলী তান্ত্রিকের কথায় রাজী হয়ে যান । ঠিক গতকাল হিগস বোসন আবিস্কারের দিনে বাবলী তার একটি পা কেটে , এর রক্ত দিয়ে পুজা দেন, যাতে দেবী সন্তুষ্ট হয়ে তার ভাইকে রোগমুক্ত করেন । যথারীতি কিছু মানুষ যারা এসব ধর্মকে সাপোর্ট করেন কিন্তু মানবিকতার খাতিরে মেয়েটাকে বাচাতে এগিয়ে আসেন । মৃত প্রায় অবস্থায় কলকাতার একটি হাসপাতালে বাবলীকে ভর্তি করান । জীবন-মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছে আমাদের মানবতা । এখনো জানি না মাত্র ১৫ বছরের বাবলী আজ পর্যন্ত বেচে আছেন কিনা ! যেটুকু খবর পেলাম ততটুকু আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।

বাবলী’র এই ঘটনা আর হিগস-বোসন আবিস্কারের ঘটনা দুটোই একই দিনে ঘটেছে । মানুষ যেখানে ইশ্বরের নাড়ি-ভুড়ি নিয়ে খেলছে সেখানে ইশ্বরের জন্য নিজেকে ক্ষত-বিক্ষত করার ঘটনা কিছুটা হতাশাজনক , অবিশ্বাস্য’ত বটেই । এ ধরনের নোংরা কুসংস্কার যে শুধুমাত্র হিন্দুদের মধ্যে আছে তাও নয় বরং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও আছে । কয়েকদিন পত্রিকাতে পড়েছিলাম চকোরিয়াতে একসাথে দুই পীর ভাইয়ের আবির্ভাব হয়েছে । এদের মধ্যে ছোট পীর নাকি পাছায় তিনটা লাথি দিলে ক্যান্সার,প্যারালাইসিস ভালো হয়ে যায় । এ পথ্য নাকি তারা স্বপ্নে পাইছে ! মানুষে ক্যান্সার আর অটিজম যে জিনের কারনে ঘটে তা শনাক্ত করেছে এইত মাত্র দিন দুয়েক হলো, এর পর প্রতিষেধক,প্রতিকারের কথা আসতেছে। আর এ ব্যাটা পীর , সে নাকি স্বপ্নেই ওষুধ পায়, স্বপ্নেই গবেষনা করে ! এই ছাগলেরা মনে করে স্বপ্নদোষের মত স্বপ্নের পথ্যও সত্য ।

সর্বশেষে, আমাদের এখানকার লোকেদের যে মানসিকতা তা যদি প্রফেসর হকিং এবং হিগসেরা শোনেন তাহলে বোধহয় পদার্থ বিজ্ঞান গবেষনা বাদ দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য গবেষনায় লেগে যাবেন । হিগস বোসন আবিস্কারের ঘটনায় আমাদের আসলে টিক ততটুকুই পুলকিত হওয়া উচিত যতটুকু তান্ত্রিক,পীরেদের অস্তিত্বের ব্যাপার দুঃখিত হওয়া উচিত । এসব লোকেদের অস্তিত্ব একদিন মিউজিয়ামেও পাওয়া যাবে না , এই প্রত্যাশা করি । একদিকে মানুষের ভাবনার চরম উন্নয়ন আর অন্যদিকে চরম অবনমন , দুটো এক সাথে একই গ্রহে কখনোই থাকতে পারে না । আমাদের নৈতিকতা নিশ্চয় এ কথা বলে না ?