ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

সবাই মঙ্গলগ্রহে ভ্রমনে যেতে চায় ! বিশাল অন্কের টাকা খরচ করে গবেষনা চলছে, শ্রেষ্ঠতম মহাকাশ বিজ্ঞানীরা নিজেদের জান-প্রান দিয়ে চেষ্ঠা করে চলেছেন । পৃথিবী যদি বাসযোগ্য না থাকে তাহলে কোথায় আবাস গড়া যায় এ নিয়ে সবাই চিন্তিত । তো আমাদের পীর সাহেবেরাও মহাকাশ ভ্রমন নিয়ে ভীষন চিন্তিত ! কিভাবে মহাকাশে ভ্রমন করা যায় এটা নিয়ে অনেক ভাবনা চিন্তা করে ওরা একটা সহজ উপায় বের করছে….। আজকে আপনাদের আমি ওদের উৎভাবিত পন্থা নিয়ে কিছু বলব বলে লেখতে বসেছি ।

কোথায় বৈজ্ঞানিক আর কোথায় তান্ত্রিক এটা নিয়ে একটা লেখা এই ব্লগেই লিখেছি । তো বৈজ্ঞানিক আর তান্ত্রিক যেহেতু ভিন্ন দুইটা জিনিস সেহেতু তাদের উৎভাবিত পন্থাও ভিন্ন হবে, এটাই স্বাভাবিক । তাই, বিজ্ঞানীদের মঙ্গলে যাইতে স্পেস শিপ লাগলেও ওদের কিন্তু তা লাগব না । ওরা কিভাবে যাবে জানেন ? ওরা বলে যে চোখ বন্ধ কইরা মোরাকাবা করলেই নাকি সপ্তম আসমানের উপরে পর্যন্ত ভ্রমন করে আসা সম্ভব । মোরাকাবার বাংলা আভিধানিক অর্থ হইল ধ্যান । হ্যা, ওরা ধ্যানের মাধ্যমেই আল্লাহ পর্যন্ত পৈাছে যাওয়ার কথা বলে । আল্লাহ যিনি নাকি সপ্তম আসমানের ও উপরে থাকেন । স্পেসশিপও ওইখানে কোনদিন যাইতে পারব না …এই কথাটা লেইখ্যা রাখেন । স্বভাবতই আপনার মনে সন্দেহ জাগছে যে ধ্যানের মাধ্যমে কিভাবে যাবে ! হ্যা আমারও জাগছিল….। শুধাইল, কোন মানুষ মোরাকাবা করিতে করিতে যখন কামেল হইয়া যাবে ! তখন নাকি সেই মানুষের জন্য মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতটারে ছোট করিয়া দেন । উনারা চোখ বন্ধ করলেই মঙ্গলগ্রহ দেখা’ত কোন ব্যাপার’ই না ! হাদীস শরীফে আছে, পৃথিবীতে ৪০ জন কামিল লোক নাকি সবসময় বর্তমান থাকে । ওই সমস্ত কামিল লোকেরা যার যার অবস্থান থেকে প্রতিদিনই মক্কায় গিয়ে একবার মিলিত হইয়া নামায পড়েন । মানে, যদি বাংলাদেশে কামিল থাকে সে চোখের পলকে মক্কা থেকে নামায পড়ে আবার চোখের পলকেই দেশে ফিরে আসব । উদাহরন স্বরুপ জানাল, হযরত আব্দুল কাদির জিলানী নামক এক পীরবাবা নাকি একবার হানাফী মাযহাবের ইমাম আবু হানীফারে তাড়া করতে গিয়ে তৃতীয় আসমান পর্যন্ত পৈাছে গেছিলেন । একটু হেসে বললাম, তোমরা কেমনে জান ? ওরা জবাবে সাথে সাথে ফতোয়ায়ে রশিদীয়া নামক একখানা ফতোয়ার কিতাব চুম্বন করতে করতে বের করে দেখিয়ে দিল ! এই যে দেখেন এইখানে লেখা আছে ! এই ফতোয়ার বইগুলো যারা লিখেন উনারা নাকি কোনদিন মিথ্যা কথা বলেন না । তাই এ কথাও মিথ্যা হইতে পারে না ! যেহেতু এমন লোকেদের বোঝানো আমার কর্ম নয় । এদের বিবেক-বুদ্ধি দেখিয়া মনে মনে এই লেখা লেখিবার ফন্দি আটিলাম । ভাবিবেন না যে এ লোকেরা মুর্খ….ওরা বরং আপনাদের থেকেও অধিক শিক্ষিত….খালি পালের গোদাটাই মুর্খ….তয় কিন্তু মহা সত্যবাদী 😛

ভাববেন না যে এমন মহান পীর শুধু আমাদের এলাকাতেই আছে । আপনি যদি ঢাকার বাসিন্দা হন তাহলে চরমোনাই বা অন্য যে কোন পীরের কাছে যান । তাহারাও আপনাকে একই কথা বলিবে । তবে এসব অসীম জ্ঞানের কথা শুনতে আপনাকে একটু গভীরে প্রবেশ করতে হবে । উনাদের সাথে একটু ভালমতন আচরন করিলে নিশ্চয় এসব জানতে পারবেন বলে আশা করা যায় । তো যাই হোক উনাদের এই থিওরীগুলো শোনার পর আমি বললাম যে ঠিক আছে আজ থেকে আমি মোরাকাবা করব, দেখি কতটুকু যাওয়া যায় । জবাবে, যিনি এসব বলছিলন সেই হুজুর জিহ্বায় কামড় দিয়ে কহিলেন, ওইসব সবার কর্ম নয় ! যাহারা আমাদের পীর বাবার মুরীদ হইবেন, মানে পীর বাবার তাওয়াজ্জুহ(বিশেষ দৃষ্টি) পাইবেন একমাত্র তাহারাই কামেল হইতে পারিবেন । হুজুর নাকি পীর বাবার(আমার সামনেই তখন চোখ বন্ধ করে বসা) তাওয়াজ্জুহ পাইবার জন্য অনেকদিন ধরে খেদমত করে চলেছেন । তো আমি পীর বাবার দিকে একবার তাকাইলাম তারপর মনে মনে কহিলাম, এইবার বাবা লাইনে আসিয়াছেন…ধান্ধার লাইনে পা ঢুকাইয়াছেন । যা বুঝিতে পারিলাম, মঙ্গলগ্রহে ভ্রমন করিবার জন্যে পীর বাবার মুরীদ হইলেই চলে…কোন স্পেস শিপের দরকার নেই । ভাবতেই অবাক লাগছিল যে একজন নভোচারীর(পীর বাবা) পাশে বসিয়া আছি ! 😛 বড়ই করুনা অনুভব করিলাম যে এই লোকের খোজ নাসা কেন পাইল না ! এই লেখা যদি কোন বিজ্ঞানী পড়ে থাকেন তাহলে গবেষনা বাদ দিয়ে নিকটস্থ পীর বাবার সাথে যোগাযোগ করুন, পারলে নাসা’রে খবর দেন । অবিশ্বাসে মঙ্গল ভ্রমনের সুযোগ হেলায় হারাইবেন না, নাসার বিজ্ঞানীদেরও এত কষ্ট করে গবেষনা করার হাত থেকে বাচান ।

বি:দ্র: একেবারে বাস্তব অভিজ্ঞতা হইতে এই লেখা । যাদের থেকে এ তথ্যগুলো পাইছি তাদের অনুসারীর সংখ্যা আনুমানিক পাচঁ লক্ষেরও অধিক । পীর বাবারা এই জ্ঞান সিনা হইতে সিনার মাধ্যমে পাইয়াছেন । এবং অনেক বড় বড় আলেমরা এই তথ্যগুলো নিয়ে বই লিখেছেন । উনারা এইটারে মারেফাত বলেন ।