ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

রমযান শেষের পথে…। সিয়াম,সাধনা কতটুকুতে কি হল বুঝলাম না । বা হলেও তা বাস্তব জীবনে কতটুকু কাজে এসেছে তাও বুঝতে পারছি না । একমাসের অভুক্ততা অন্যের খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে আমাদের কতটুকু সচেতন করেছে …তা বোঝা আসলেই দুস্কর । তবে খালি চোখে দেখা যায়…..রমযান আসে রমযান যায় কিন্তু দিন দিন অভুক্ত এবং ধনীদের সংখ্যা সমানুপাতিক হারে বাড়তেই থাকে । অনেকটা ওই প্রবাদের মত…যেই লাউ সেই কদু ।

ধর্মের বাস্তবিক প্রয়োগের অভাবের দোহাই দিয়ে এক শ্রেনীর মানুষ সেই প্রাচীন কাল থেকেই আন্দোলন করে আসছে । যদিও আন্দোলনকারীরাই যুগে যুগে ভয়ংকর সব হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন…। তারপরেও তাদের নিজেদের বাস্তবিক জীবনেও ধর্মের সঠিক প্রয়োগ দেখা যায় না । যেখানে ধর্ম নিজের থেকে শুরু সেখানে তারা রাষ্ট্রের মূলবিন্দু থেকে পালন করতে চায় ! ইসলাম ধর্ম মতে, যদি তোমার প্রতিবেশী অভুক্ত থাকে আর তুমি নিজে উদরপূর্ন করে খাও .. তাহলে নিজেকে মুসলিম পরিচয় দিতে লজ্জিত হবার কথা । কিন্তু লোকেরা নিজেরা নিজেদের সংশোধন না করে, নিজ পরিবার-পাড়া-প্রতিবেশীর মধ্যে শান্তি স্থাপনের চেষ্ঠা না করে ….কি করছে ! একেবারে দেশ দিয়ে ধর্ম উদ্ধারের চেষ্ঠা করছে ! প্রয়োজনে জিহাদের মত কর্মসূচি রাখছে ! সত্যিই বিস্ময়কর ! এরাই নাকি একেকজন আল্লামা….এই যদি হয় আল্লামাদের ধর্ম বোঝা তাহলে সাধারনের কি হাল বুঝেন !

মোটামুটি ছোট বেলা থেকে যা শুনেছি, ধর্ম রাষ্ট্র থেকে নয় বরং নিজ থেকে শুরু…. প্রথমে নিজে , তারপর পরিবার,তারপর প্রতিবেশি…এভাবে রাষ্ট্রে । যারা নিজের জীবনে ধর্ম প্রতিষ্ঠা না করে রাষ্ট্রে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চায়…তাদের ইতিহাস বড়ই করুন । যারা বলে রাষ্ট্রের জন্য ধর্ম পালন করতে পারি না…তাদের এলাকা ঘুরে দেখা উচিত যে তার এলাকায় তিনি কেমন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেছেন ! তার ব্যাক্তিজীবনে কেমন ধর্ম চর্চা করছেন !

নোট: যার আয় বৈধ পথে তার প্রার্থনা সৃষ্টিকর্তা গ্রহন করেন, কিন্তু যারা অবৈধ পথে আয় করেন তাদের নয়…। অতএব, ধার্মিক হওয়ার পথে অবৈধ আয় একটি বিশাল বাধা ।