ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

ছোটবেলা থেকে একটি আপ্ত বাক্য শুনে আসছি যে পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা করতে হবে । অনেকদিন হয় এমন কথা বলার মত কাউকে খুজে পাচ্ছিলাম না । কিন্তু যেদিন থেকে বাচ্চু রাজাকারকে ফাসির আদেশ দেওয়া হলো সেদিন থেকে এই কথার চর্চা দেখে অবাক হচ্ছি ! আজকাল এ ধরনের কথা শুধুমাত্র যুদ্ধপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত লোকেদের ভক্তদের কাছে শোনা যায়, ব্যাপারটা এমনও না । তবে এতবেশি করে শুনতে পাব তা ভাবি নাই । মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে… রাজাকারগুলোর সাথে কি সাধারন পাপীদের মত ব্যবহার করা যায় ? মনে হয় ”না…..।

কেন ? কারন যখন পাপীর পাপ তার নিজ পরিচয়কে ছাড়িয়ে যায় তখন পাপ আর পাপীকে আলাদা করা মুস্কিল । কিছু কিছু রাজাকারদের ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার অন্যতম একটি কারন হলো যে তারা ৭১ এ সংঘটিত পাপকে পাপ বলে স্বীকার করতে নারাজ । বরং উল্টো যুক্তি দিয়ে নিজেদের কুকর্মকে যৈাক্তিক হিসেবে প্রমান করার চেষ্ঠা করে । আশ্চর্যের কথা হলো তারা নিজেদের পক্ষে বেশ কিছু জনমত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন । মানে পাপকে যৈাক্তিক প্রমান করার প্রাতিষ্ঠানিক সংঘটন তৈরি করে ফেলেছেন । ভেবে দেখেছেন কি ? একটা স্বাধীন দেশে তার স্বাধীনতার পরিপন্থী ভাব প্রকাশের জন্যে বিশাল ক্যাডার বাহিনী রয়েছে ! এ বাহিনীর বেশিরভাগ অংশের জন্ম আবার মুক্তিযুদ্ধের অনেক পরে ! এটা কে আপনারা কি বলবেন ? আমার কাছে’তো মনে হয় পাপকে যৈাক্তিক প্রমানের চেষ্ঠা যে কোন স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির পথে হুমকিস্বরুপ । শুধুমাত্র এই কারনেই এই লোকগুলোকে বিচারের মুখোমুখি করার দরকার ছিল , তাদের আসল অপরাধের ব্যাপারটা’ত আছেই । তাই বলব পাপকে নয় পাপীকে ঘৃনা করুন এই আপ্ত বাক্যটি অন্তত রাজাকারদের বেলায় খাটে না………এখানে পাপ আর পাপী যে সমার্থক অর্থ বহন করে ।